৪ কার্তিক ১৪২৫, শুক্রবার ১৯ অক্টোবর ২০১৮ , ৬:১৬ অপরাহ্ণ

UMo

বিএনপিতে নেতৃত্বের অসম প্রতিযোগিতা চলছে : রিয়াজুল ইসলাম আজাদ


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৪৯ পিএম, ১৬ এপ্রিল ২০১৮ সোমবার


বিএনপিতে নেতৃত্বের অসম প্রতিযোগিতা চলছে : রিয়াজুল ইসলাম আজাদ

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক (প্রস্তাবিত) ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট রিয়াজুল ইসলাম আজাদ বলেছেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের অনুসারীদের মধ্যে সমন্বয়ের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। বর্তমানে দলের মধ্যে নেতৃত্বের এক অসম প্রতিযোগিতা চলছে। দলের মধ্যে চেইন অব কমান্ডের অভাব প্রকট। এছাড়া ত্যাগী নেতাকর্মীরাও অবমূল্যায়িত। যে কারণে বিএনপির আন্দোলনে গতি আসছেনা। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, আন্দোলন কর্মসূচী ও নির্বাচনী ভাবনা বিষয়ে নিউজ নারায়ণগঞ্জকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসকল কথা বলেন।

আশির দশকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদলের নেতৃত্ব দেয়া রিয়াজুল ইসলাম আজাদ বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই। মাসদাইর বাজার সংলগ্ন এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা রিয়াজুল ইসলাম আজাদ আশির দশকের শুরুর দিকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার কমিটিতে প্রথম যুগ্ম সম্পাদক পদে আসীন ছিলেন। ওই কমিটির সভাপতি ছিলেন আমলাপাড়া এলাকার শাহজাহান ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন সেলিম রেজা টিপু। পরে তিনি মহসীন ও অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ন কবিরের সঙ্গে দুই মেয়াদে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন। শিক্ষাজীবন শেষ করে আইন পেশায় নিয়োজিত হলেও তৎকালীন শহর বিএনপির কার্যকরী সদস্য পদে ছিলেন। আশির দশকে তার সঙ্গে সিদ্ধিরগঞ্জের আব্দুল হাই রাজু, রূপগঞ্জের মরহুম খালেদ বিন জামাল, আড়াইহাজারের আলতাফ, তোলারাম কলেজের আসাদ (আমেরিকা প্রবাসী)। স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনেও তিনি বিএনপির সকল আন্দোলন কর্মসূচীতে সক্রিয় ছিলেন। তার ছোট ভাই প্রয়াত মোস্তাফিজুল ইসলাম মামুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিংবদন্তী ছাত্রদল নেতা ছিলেন। যাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছিল। ২০০১ সালে চারদলীয় জোট সরকার গঠন করলে তিনি অতিরিক্ত পিপি-১ মনোনীত হয়েছিলেন।

বর্তমানে বিএনপির মধ্যে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা চলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমানে দলের মধ্যে নেতৃত্বের অসম প্রতিযোগিতা চলছে যা সুখকর নয়। তবে আমাদের এখন প্রয়াত কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম, প্রয়াত আতাহার হোসেন সামছু, সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিনের মতো কর্মীবান্ধব নেতার প্রয়োজন রয়েছেন। দলের হাল ধরতে সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিনের মতো নেতাদের সক্রিয়তার প্রয়োজন রয়েছে। আমি চাই শহীদ জিয়ার আদর্শ বাস্তবায়ন হোক। শহীদ জিয়ার অনুসারীরা ভাল থাকুক। ষড়যন্ত্রকারীদের কারণে দেশ অনেক পিছিয়ে গেছে। আমরা এখন স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়েও পরাধীন জীবন যাপন করছি।

তিনি আরো বলেন, আশির দশকে যেসকল সক্রিয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ছিল তাদেরকে পরবর্তীতে মূল্যায়ন করা হয়নি। এছাড়া চারদলীয় জোট সরকার গঠনের পর প্রয়াত যুবদল নেতা মমিন উল্লাহ ডেভিডকে ক্রসফায়ার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিংবদন্তী ছাত্রদল নেতা মোস্তাফিজুল ইসলাম মামুনকে নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা, ছাত্রদল নেতা জাকির খানকে দেশত্যাগে বাধ্য করাসহ ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবহেলার কারণে আজকে বিএনপিতে যোগ্য নেতৃত্বের সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, আজকে বিএনপি নেতাকর্মীরা হাজার হাজার মামলার আসামী হয়ে কেউবা জেলে কেউবা ফেরারী জীবনযাপন করছেন। এজন্য আইনজীবীদের সমন্বয়ে একটি সেল গঠন করা প্রয়োজন। আর ওই সমন্বয় সেলে বিএনপির ধনাঢ্যদের আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা প্রয়োজন। এছাড়া প্রতি সপ্তাহে মামলাগুলো কি অবস্থায় আছে সেটিও পর্যালোচনা করতে হবে। এমনটি হলে নেতাকর্মীরা আন্দোলনে উৎসাহিত হবে।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী কেমন হওয়া উচিৎ এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, শিক্ষিত, কর্মী বান্ধব, এলাকায় জনপ্রিয়তা আছে এবং পারিবারিক পূর্ব ইতিহাস আছে এমন প্রার্থীকেই বেছে নেয়া উচিৎ। তবে নমিনেশন যেই পাবে তার পক্ষেই আমরা কাজ করবো।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

সাক্ষাৎকার -এর সর্বশেষ