১ কার্তিক ১৪২৫, বুধবার ১৭ অক্টোবর ২০১৮ , ৫:৫৫ পূর্বাহ্ণ

UMo

৫ মাসে আধুনিক নারায়ণগঞ্জ গড়ার পরিকল্পনার জানালেন সেলিম ওসমান


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ১০:২৮ পিএম, ৪ মে ২০১৮ শুক্রবার


৫ মাসে আধুনিক নারায়ণগঞ্জ গড়ার পরিকল্পনার জানালেন সেলিম ওসমান

সেলিম ওসমান ২০১৪ সালের ২৬ জুন উপ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সব সভামঞ্চে উন্নয়নের কথা বলে আসছেন। তাঁকে রাজনৈতিক কর্মকান্ডে তৎপর থাকতে খুব বেশি দেখা যায়নি। কোন দলীয় রাজনীতিকে প্রাধান্য না দিয়ে সকল রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দদের সাথে নিয়েই তিনি নিজের কর্মকান্ড পরিচালনা করেছেন নিজের মত করে। বিগত ৪ বছরে তাঁর নির্বাচনী এলাকায় কাউকে প্রশ্রয় দিতেও দেখা যায়নি। সব সময় তিনি উন্নয়নের কথা বলে দলমত নির্বিশেষে সকলের সহযোগীতা কামনা করেছেন।

সবশেষ ২ মে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমানের মৃত্যুবার্ষিকীর দোয়ার পূর্বে তিনি মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডকে উন্নয়নে অংশ নেওয়ার আহবান রেখে সকলের সহযোগীতা চেয়েছেন।

সেই সাথে তিনি বলেছেন, সকলের সহযোগীতা পেলে আগামী ৫ মাসেই বর্তমান নারায়ণগঞ্জের চেহারা বদলে আধুনিক নারায়ণগঞ্জের যাত্রা শুরু করা সম্ভব। তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিক অঙ্গন সহ সাধারণ মানুষদের মাঝে সাড়া ফেলেছে। সেই সাথে আলোচনায় উঠে এসেছে এতোদিন যা সম্ভব হয়নি সেটি আগামী ৫ মাসে কিভাবে সম্ভব।

এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের সাথে দীর্ঘ সময় আলাপ কালে আগামী ৫ মাসে আধুনিক নারায়ণগঞ্জের যাত্রা শুরু সম্পর্কে নিউজ নারায়ণগঞ্জের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন তিনি।

আলোচনায় সেলিম ওসমান বলেন, ‘প্রথমত আমি শিক্ষা, স্বাস্থ এবং শিল্পায়নকে গুরুত্ব দিয়ে বিগত দিনে উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালিত করেছি। যার মধ্যে আমার নির্বাচনী এলাকার আওতাধীন ৭টি ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় নিজস্ব অর্থায়নে ৭টি স্কুল নির্মান সম্পন্ন করেছি। ইতোমধ্যে ৪টি স্কুল আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে। যার মধ্যে ৩টি স্কুলে শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ন বিনা বেতনে পড়ালেখা করতে পারছে। আগামীতে ৭টি স্কুলের মধ্যে একটি সম্পূর্ন কৃষি বিদ্যালয় এবং একটিকে পূর্ণাঙ্গ কলেজে রূপান্তরিত করা হবে। সেই সাথে সরকারের একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিটি স্কুলেই কারিগরি শিক্ষা চালু করে নারী ও পুরুষদের প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করা হবে। ভবিষ্যতে যাতে স্কুল গুলোতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের বিনা বেতনে সন্তানদের পড়ানোর জন্য কারো দ্বারস্ত হতে না হয় সে জন্য দরিদ্র শিক্ষার্থীর মায়েদের বিনামূল্যে সেলাই মেশিন প্রদান এবং প্রশিক্ষন প্রদানের মাধ্যমে তাদেরকে সাবলম্বী করার চেষ্টা করা হবে। ইতোমধ্যে আমরা নাসিম ওসমান মডেল হাইস্কুলে ১০০ জন শিক্ষার্থীর মায়েদের সেলাই মেশিন দিয়েছি এবং তাতে বেশ সুফল পেয়েছি। এছাড়াও শহরে ৫০০জন নারীকে একটি করে সেলাই মেশিন এবং ৫ হাজার টাকা করে চলতি মূলধন প্রদান করেছি তাদের মধ্যে শতকরা ৮০জনই স্বাবলম্বী হতে পেরেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। এছাড়াও প্রায় সাড়ে ৭’শ শিক্ষিত তরুন তরুনীকে ২৫ হাজার টাকা করে মূলধন প্রদান করা হয়েছে। যাদের মধ্য থেকে সবাই স্বাবলম্বী না হলেও শতকরা ৩০জন সফল হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমার দেওয়া চাহিদা পত্রের মাধ্যমে বন্দরে কদমরসুল কলেজ ইতোমধ্যে সরকারী করনের সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে আমি সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর নারায়ণগঞ্জ কলেজের নিজস্ব তহবিল থেকে ১০তলা বহুতল ভবনের কাজ শুরু করি। যা আগামী জুলাই মাসের মধ্যে ৮তলা পর্যন্ত সম্পূর্ন কাজ শেষ করে উদ্বোধন করা হবে। এছাড়াও সরকারী অর্থায়নে কলেজের সম্মুখের জায়গায় আরো একটি নতুন ভবনের নির্মান কাজ শুরু হবে যা চলতি বছরেই সম্পন্ন করা হবে।’

সেলিম ওসমান বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ মহিলা কলেজকেও আধুনিকায়ন করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কলেজের পরিত্যক্ত ভবনগুলো ভেঙ্গে নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে।  বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সফরে যাওয়ার জন্য ব্যবসায়ীদের সহযোগীতায় দুটি বাস এবং সেটি পরিচালনার জন্য সংসদ সদস্য হিসেবে সরকার থেকে পাওয়া আমার ২৬ মাসের সম্মানীর অর্থ নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জ কলেজ এবং মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য ১টি করে বাস এবং নারায়ণগঞ্জ কলেজের প্রশাসনিক কাজের জন্য একটি নোয়া গাড়ি আমার ব্যক্তিগত অর্থায়নে প্রদান করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বন্দরের নবীগঞ্জ গালর্স স্কুল এন্ড কলেজ ও বিএম ইউনিয়ন স্কুলকে সরকারীকরনের জন্য চাহিদাপত্র প্রেরন করেছি। অপরদিকে শহর এবং বন্দরের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর উন্নয়নের জন্য সরকারের কাছে চাহিদা পত্র আহবান করেছি।’

স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন
স্বাস্থ্য খাত প্রসঙ্গে সেলিম ওসমান বলেন, ‘আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালটি বেহাল অবস্থায় ছিল। আমি স্বাস্থ ব্যবস্থাপনা কমিটির দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজস্ব অর্থায়ন এবং ব্যবসায়ীদের সহযোগীতা নিয়ে ২টি অ্যাম্বুলেন্স, সার্বক্ষনিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা, সিসি টিভি ক্যামেরা স্থাপন, বৈদ্যুতিক পাখা সংস্থাপন, সম্মেলন কক্ষ আধুনিকায়ন সহ অনেক উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করে ৩০০ শয্যা হাসপাতালকে ৫০০ উন্নীত করতে সরকারের কাছে চাহিদা পত্র প্রদান করেছি। ইতোমধ্যে সরকারী অর্থ বরাদ্দ হয়েছে অচিরে খানপুর হাসপাতালটি ৩০০ শয্যা থেকে ৫০০ শয্যায় রূপান্তরিত হওয়ার যাত্রা শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে এটিকে মেডিকেলে কলেজে রূপান্তরিত করা হবে। এছাড়াও ১০০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের উন্নয়ন করা হয়েছে। সেখানে একটি নার্সিং ইনস্টিটিউট নির্মান প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়াও বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সহ ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মিত হয়েছে। অচীরেই বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি একটি পূর্নাঙ্গ হাসপাতালে রূপান্তরিত হবে। আলীরটেক ইউনিয়নে হাসপাতালের আধলে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মিত হবে।’

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি

এ প্রসঙ্গে সেলিম ওসমান বলেন, নারায়ণগঞ্জবাসী প্রাণের দাবী ও চাহিদা অনুযায়ী সৈয়দপুর-মদনগঞ্জ দিয়ে ইতোমধ্যে শীতলক্ষ্যা নদীতে নাসিম ওসমান সেতুর( শীতলক্ষ্যা-৩) কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। হয়তো যে কোন সময় হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ ঘাট দিয়ে আরো একটি সেতু নির্মানের ঘোষনা পেতে যাচ্ছি। আমি আশাবাদী উক্ত ঘাট দিয়ে রমজান মাসের পূর্বের ফেরী সার্ভিস চালু হবে এবং ঈদের পূর্বেই ৫নং খেয়াঘাট এবং বন্দর খেয়াঘাট সংলগ্ন ময়মনসিংহ পট্টি দিয়ে আরো একটি ফেরী সার্ভিস চালু হবে।

এছাড়াও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাথে আলোচনার মাধ্যমে  গত ১২ এপ্রিল আমার প্রেরিত চাহিদা পত্রের (স্মারক নং- জা.সং.সা/নারা-০৫/২০১৮/১৪৭) পরিপ্রেক্ষিতে শহরে ওয়ানওয়ে গণপরিবহন যাতায়াতের জন্য কালীরবাজার চারারগোপ থেকে পোর্টরুট হয়ে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল পর্যন্ত ডাবল লেন আর সিসি রাস্তা নির্মানের জন্য স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয় কর্তৃক( স্মারক নং- ৪৬.০০.০০০০.০৭০.২০.০৮৩.১২(অংশ-২).৫৭৫) ৪ কোটি ৮৬ লাখ ১২ হাজার ৭৪০ টাকা বিশেষ থোক বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। আমি আশাবাদী নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের চাহিদা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল আধুনিকায়ন এবং নিতাইগঞ্জের ব্যবসায়ীদের জন্য আধুনিক ট্রাক টার্মিনাল করা সম্ভব হবে। প্রথম দিকে নিতাইগঞ্জ ট্রাক টার্মিনালকে শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনা গেলেও বর্তমানে বিশৃঙ্খলার কিছু অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। তবে ব্যবসায়ী এবং শ্রমিকেরা অত্যন্ত আন্তরিক তাই আশা করছি পুনরায় আলোচনায় বসলে এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে। অচীরেই সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের সাথে আলোচনার মাধ্যমে শহরকে যানজট মুক্ত রাখতে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তবে কিছু কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি উস্কানি দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইছে। তারা রমজান মাসে বঙ্গবন্ধু সড়কে ফুটপাতে দোকান বসানোর হুমকি দিচ্ছে। কোন অবস্থাতেই রমজান মাসে সাধারণ মানুষকে অস্বস্তিতে ফেলা যাবে না।’

অন্যান্য উন্নয়ন
ইতোমধ্যেই জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মিত হয়েছে। সেখানে আরো উন্নয়ন হবে। বন্দরে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মানের জন্য জমি বরাদ্দ হয়েছে এবং খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্মান কাজ শুরু হবে। হিন্দুদের মহাতীর্থস্থান লাঙ্গলবন্দের মেগা প্রকল্পের জন্য হাজার কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। লাঙ্গলবন্দকে তীর্থস্থান সহ আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। ইতোমধ্যে উন্নয়ন কাজ শুরু হতে চলছে। অচীরেই লাঙ্গলবন্দে নতুন ৭টি ঘাটলা নির্মানের জন্য দরপত্র আহবান করা হয়েছে। অপরদিকে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য একটি বৌদ্ধ মন্দির নির্মানের জন্য অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। এছাড়াও সরকারীভাবে একটি কেন্দ্রীয় মসজিদ নির্মানের জন্য বিশাল অংকের অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেছে। কিন্তু জমি না পাওয়া যাওয়ার কারনে কাজ শুরু করতে বিলম্ব হচ্ছে। ভবিষ্যত প্রজন্মের সাংস্কৃতিক চর্চার জন্য পুরাতন কোর্ট এলাকায় শিল্পকলা একাডেমী ভবন নির্মান চলমান রয়েছে।

কর্মসংস্থান সৃষ্টি
বিসিক শিল্পনগরীতে যে সকল অনিয়ম ও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে তা আইনগত ব্যবস্থার গ্রহনের মাধ্যমে অচিরেই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। ইতোমধ্যে মদনগঞ্জের শান্তিরচরে ১২’শ থেকে ১৫’শ একর জমির মধ্যে অর্থনৈতিক অঞ্চল নীটপল্লী নির্মানের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং প্রায় ৩০০ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকি জমি বরাদ্দ দেওয়া হবে যা ২০১৮ সালের মধ্যেই দৃশ্যমান হবে। এখানে প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এছাড়াও চিত্তরঞ্জন কটন মিলকে সবুজ শিল্পপার্ক নির্মানের জন্য সরকারের কাছে চাহিদা পত্র দেওয়া হয়েছে। যেখানে প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব।

তিনি আরো বলেন, আগামী ৬ মে সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে বিস্তারিত আলোচনা আহবান করা হয়েছে। এক্ষেত্রে আমার অভিমত  আলোচনা আর চাহিদা পত্র দিলেই নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন সম্ভব  হবে না। এজন্য নারায়ণগঞ্জের সকল মানুষদের একত্রিত হতে হবে। দু:খজনক হলেও সত্য নারায়ণগঞ্জে খান সাহবে ওসমান আলী স্টেডিয়াম, শামসুজ্জোহা স্টেডিয়াম, আলী আহম্মদ চুনকা স্টেডিয়াম এবং আলাউদ্দিন খান স্টেডিয়ামের মত ৪টি স্টেডিয়াম থাকা সত্যেও ছেলে মেয়েদের ক্রীড়াঙ্গনে আকৃষ্ট করা যাচ্ছে না। আমরা আশাবাদী প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনা অনুযায়ী বন্দরেও একটি স্টেডিয়াম করা হবে।

সেলিম ওসমান বলেন, গত ২ মে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আয়োজনে আমার বড় ভাইয়ের ৪র্থ মৃত্যু বার্ষিকীতে দোয়া অনুষ্ঠানে আমি সকলের সহযোগীতা চেয়েছি। আবারো সকল রাজনীতিবিদদের কাছে আকুল আবেদন করছি নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে সকল জনপ্রতিনিধিদের সহযোগীতা করুন। নারায়ণগঞ্জের মানুষদের সুস্থ্য জীবন যাপনের ব্যবস্থা করে দিতে উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় আসুন। আগামী অক্টোবর মাসে একাদশ নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা করা হবে। যে জাতি সামান্য আন্দোলনে বুকের তাজা রক্ত বিলিয়ে দিয়ে মায়ের ভাষা বাংলা রক্ষা করে বিশ্ব নন্দিত হতে পারে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আহবানে সাড়া দিয়ে মাত্র ৯ মাসে সশস্ত্র পাকিস্তানি বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করে বাংলাদেশ স্বাধীন করতে পারে। যে আন্দোলনের সুতিকাঘার ছিল এই নারায়ণগঞ্জ। সেই নারায়ণগঞ্জের মানুষ একত্রিত হয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা করলে অবশ্যই আগামী ৫ মাসের মধ্যে আধুনিক নারায়ণগঞ্জ গড়ে তোলা সম্ভব। আমি ব্যক্তিগত ভাবে চাইবো ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, বন্দর ও সোনারগাঁওকে নিয়ে সিটি কর্পোরেশন ও মেট্টোপলেটিন মহানগরী গড়ে তুলতে। যদি এতে স্থানীয় সকল জনপ্রতিনিধিদের সম্মতি থাকে। আমি ২০১৪ সালের নির্বাচিত হয়ে রমজান মাসে দায়িত্ব গ্রহন করেছি। এবারের রমজানে আমার ৪ বছর পূর্ন হবে। আমি সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের প্রতি অনুরোধ রাখবো এই রমজান মাসেই সবাইকে নিয়ে আলোচনায় বসে আধুনিক নারায়ণগঞ্জ গড়ার যাত্রা শুরু করুন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আগেও বলেছি এখনো বলছি। আমি আগামী ৩০ জুনের আগে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া নিয়ে ভাবছি না। আমার কাছে আরো ৫ মাস রয়েছে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন করার। আগামী ৫ মাসের দিনগুলোতে আমি অনেক সম্ভাবনাময় উন্নয়ন দেখতে পাচ্ছি। তাই আমি বাকি সময়টুকু উন্নয়ন নিয়েই থাকতে চাই। আগামী ৩০ জুনের পর নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবো। ততোক্ষন পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে আমি সকলের সহযোগীতা চাই।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

সাক্ষাৎকার -এর সর্বশেষ