৫ কার্তিক ১৪২৫, রবিবার ২১ অক্টোবর ২০১৮ , ৮:৫০ পূর্বাহ্ণ

UMo

সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাস্তানরা বাদ


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৪:১৫ পিএম, ৮ জুন ২০১৮ শুক্রবার


সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাস্তানরা বাদ

এ রোজার মাসেও নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে বিরাজ করছে উত্তাপ। দুটি ইফতার পার্টি করেছে জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যেটা নিয়ে এখন সর্বত্র আলোচনা। এরই মধ্যে মহানগর আওয়ামী লীগে নতুন করে কয়েকটি পদে নেতাদের পদায়িত করা হয়েছে। আছে গ্রুপিং কোন্দলও। এসব নিয়ে কী করছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন যিনি একই সঙ্গে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। নিউজ নারায়ণগঞ্জের সঙ্গে আলাপকালে তুলে ধরেছেন সাম্প্রতিক চিত্র। ভবিষ্যৎ করণীয় জানিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে আলোচনার কিছু উল্লেখযোগ্য অংশ তুলে ধরা হলো।

আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘মহানগর আওয়ামীলীগ ইতোমধ্যে ইফতার পার্টি করেছে সেটা গত ৫ জুন কার্যকরী কমিটির সভার মধ্য দিয়ে। আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের নিয়ে ওই সভা করা হয়েছে। সবাইকে জানানো হয়েছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ৭৫ জন সদস্যের মধ্যে ৪১ থেকে ৪২ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। মিটিংয়ে সবাই উপস্থিত থাকবে এমন কোন কথা নেই। অনুপস্থিত থাকতে পারে।’

আনোয়ার হোসেন আরো বলেন, ‘আর কেউ কেউ যদি মনে করে আমি দলের মিটিংয়ে না এসে প্রচার করে আমি জানি না এটাও ঠিক না। দলের চিঠি সবাইকে ছাড়া হয়েছে এবং সবাইকে বলা হয়েছে। এখন কেউ ব্যক্তিগত কারণে আসতে পারেন নাই। হয়তো আবার কেউ কারো নির্দেশনা না থাকায় সভায় আসতে পারেন নাই। সেটা তাদের ব্যাপার দলের না। যে ব্যক্তি জেনে আসেন নাই সেটা দুঃখজনক। ৭৫ জন সদস্যের মধ্যে ৪৫ জন উপস্থিত থাকলে সেটা বিভক্তি বলা চলে না।

জেলা আওয়ামীলীগের দুইটি গ্রুপ বিষয়ে বলেন, পবিত্র রমজান মাসে মুসলমান হিসেবে যে কেউ এককভাবে ইফতার আয়োজন করতে পারেন। একজন রোজাদারকে ইফতার খাওয়ানো একটা পূণ্যের কাজ। আর এটার আয়োজনে বিভক্ত হয়েছে বলে আমি মনে করি না। কারণ অনেকেই ইফতার পার্টির আয়োজন করেছে। এছাড়া রাজনৈতিক নেতাদের জন্য ইফতার মাহফিলের আয়োজন একটি রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলে একটা সুযোগ। এটা দলের বিভক্ত মনে করি না।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়মাীলীগের দুটি গ্রুপ বিষয়ে আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিভক্তি দলের জন্য ক্ষতিকর। আমরা দলের বিভক্তি দূর করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। ঐক্যবদ্ধ সংগঠনের কোন বিকল্প নেই। দলের এমন নির্দেশে আমরা কাজ করছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘একেকজন একেকজনের স্বার্থ নিয়ে রাজনীতি করে কিংবা পরিবারতন্ত্রের রাজনীতি করে। আবার কেউ দলকে সংগঠিত করার কাজ করে। আমরা শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কাজ করছি। এখানে কোন ব্যক্তি বা পরিবারকে প্রতিষ্ঠিত করতে কাজ করছি না।’

ভবিষ্যত পরিকল্পনার বিষয়ে আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে কাজ করেছে তাতে আরেকবার সুযোগ পেলে তিনি আরো কাজ করতে পারবেন। তাই আমরা শেখ হাসিনাকে আবার ক্ষমতায় আনার জন্য দলমত নির্বিশেষে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে সেই লক্ষ্যে কাজ করছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি দলের মধ্যে বিভাজন পরিহার করে শেখ হাসিনার জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করার দরকার। যার নিজের অবস্থান থেকে কাজ করা দরকার।’

তিনি আরো বলেন, দলীয় নির্দেশ অনুযায়ী আমরা সদস্য সংগ্রহের কাজ করছি। আমরা সবাইকে বলছি দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের জন্য বলে যাচ্ছি। এমনকি শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা স্বচ্ছলোক, যাদেরকে দিয়ে ভোট আহরণ করা যাবে সেই সমস্ত ব্যক্তিদের দলের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সেই নির্দেশ অনুযায়ী আমরা এলাকায় এলাকায় বলে দিয়েছি সৎ, নিবেদিত ও ত্যাগী নেতাদের দলে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য। একই সঙ্গে পকেট কমিটি পরিহার করে যারা দলের জন্য পরিশ্রম করতে পারবে এবং এলাকায় দলের পক্ষে ১০টি ভোট সংগ্রহ করতে পারবে তাদের তাদের নেওয়ার জন্য। আর যারা দলের জন্য বোঝা যেমন সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাস্তান যারা দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করে তাদের বাদ দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি।

নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, মহানগর কমিটির পক্ষ থেকে এলাকা ও ওয়ার্ডের কেন্দ্র ভিত্তিক কমিটি করা হচ্ছে। একটি ওয়ার্ডে ৪টি কেন্দ্র সেই চারটি কেন্দ্রের জন্য কমিটি করা হবে। আর তারাই আমাদের নির্বাচন পরিচালনা করবে।

নারায়ণগঞ্জে ৫টি নৌকার আসন অথবা মহাজোটের সমঝোতার আসন হবে এ বিষয়ে আওয়ামীলীগের নেতাদের কঠোর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে আমরা যারা আওয়ামীলীগের কর্মী দীর্ঘ দিন ধরে আমরা আওয়ামীলীগের প্রতিনিধিত্ব পাচ্ছি না। এটা দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। কারণ একটা এলাকায় এমপি নিজের দলের লোক না থাকে ওই এলাকায় নেতারা কোন অবস্থায় চাঙ্গা হতে পারে না। এমপি আসলে প্রশাসনিক ক্ষমতার মালিক। সে পুলিশ এসপি ডিসি কন্ট্রোল করে। একটা এলাকায় আওয়ামীলীগের এমপি না থাকে সেখানে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা বিপদে পড়লে সেই জায়গা তাকে উদ্ধার করার মতো ক্ষমতা থাকে না। এসব কারণে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা দুঃসহবস্থায় জীবন যাপন করছে যা বিগত ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে করে আসছে। এখন যা ঘটছে তারই বহিঃপ্রকাশ। দীর্ঘ দিন ধরে আওয়ামীলীগের এমপি না থাকায় আওয়ামীলীগের কর্মীরা নিস্পেসিত ও নির্যাতিত। আজকে তারা বিভিন্ন যন্ত্রনার শিকার। আর তাই তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা আওয়ামীলীগের প্রার্থী চায়। এটা দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। সেই জায়গায় আমরা সবাই চাইছি ৫টি আসনে নৌকার প্রার্থী কিন্তু দেওয়ার মালিক শেখ হাসিনা। এ জন্য আওয়ামীলীগের পরিবার ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। তৃণমূল কর্মী, নেতা সহ আমাদের সকলের দাবি।’

তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী অনেক কৌশল অবলম্বন করতে পারেন। তিনি যদি মনে করেন এটা জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিবেন সেটা তিনি করতে পারেন। শেখ হাসিনা বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে এসব বিষয়ে জেনে থাকে। আর আমরা আশা করছি আমাদের চাপা ক্ষোভের জন্য ৫টি আসনে নৌকা প্রার্থী দিবেন। এজন্য আমরা লিখিত আবেদন করবো।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

সাক্ষাৎকার -এর সর্বশেষ