১০ আষাঢ় ১৪২৫, রবিবার ২৪ জুন ২০১৮ , ১০:৪২ অপরাহ্ণ

আওয়ামী লীগের বিরোধ মেটাতে দায়িত্ব নিচ্ছেন ‘অভিভাবকদ্বয়’


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:২৫ পিএম, ১১ জুন ২০১৮ সোমবার | আপডেট: ০২:২৫ পিএম, ১১ জুন ২০১৮ সোমবার


আওয়ামী লীগের বিরোধ মেটাতে দায়িত্ব নিচ্ছেন ‘অভিভাবকদ্বয়’

এ রোজার মাসেও নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে বিরাজ করছে উত্তাপ। দুটি ইফতার পার্টি করেছে জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যেটা নিয়ে এখন সর্বত্র আলোচনা। আছে গ্রুপিং কোন্দলও। আসছে বিভিন্ন নেতাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য বিবৃতি। এতে করে দলের ভেতরে বাড়ছে অস্থিরতা কোন্দল।

তবে এসব কোন্দল দলের জন্য ক্ষতিকারক মনে করছেন আওয়ামী লীগের দুইজন অভিভাবক। তাঁরা হলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন। তাঁদের মধ্যে আবদুল হাই ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক। আর আনোয়ার হোসেন বর্তমান চেয়ারম্যান। দুইজনই কথা বলেছেন নিউজ নারায়ণগঞ্জের সঙ্গে। জানিয়েছেন বিরোধ মেটাতে কী করণীয়।

গত ২৯ মে নারায়ণগঞ্জ ক্লাব লিমিটেড মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জেলা আওয়ামী লীগের ইফতার নিয়ে ঘটেছে নানা ঘটনা। একটি পক্ষ ওই ইফতার বয়কট করেন। এ প্রসঙ্গে আব্দুল হাই বলেন, ‘সবার সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে অনুষ্ঠান করা হয়েছে। ক্লাব পাওয়া মুসকিল ছিল। পরে আমরা মৌখিকভাবে ক্লাব ভাড়া করি। পরে প্রধান অতিথি নিয়ে কথা বলি সেখানে কেউ রাজি হচ্ছিল না। কেউ কেউ বলেন গ্রুপিং আছে আবার কেউ মূলত তারাবির নামাজ ধরতে সমস্যা হবে বলে। পরে প্রধান অতিথি হিসেবে করা হয় সিনিয়র অ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদার সাহেবকে। তিনি জেলা আওয়ামীলীগের সম্মান রক্ষা করেছেন।  তিনি অসুস্থ্য ছিলেন তারপরও সেক্রেটারী নিজে গিয়েছে এবং আমি ফোনে কথা বলায় তিনি আসতে রাজি হন।’

তিনি আরো বলেন, ‘কার্যকরী কমিটির প্রেসিডেট সেক্রেটারী এক মত হয়ে যেকোন অনুষ্ঠান করতে পারে। সেটা শুধু মাত্র আমাদের দলে না সব দলের বেলায় প্রযোজ্য। আর এটাই নিয়ম।’

হঠাৎ দুটি গ্রুপ হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা আমিও বুঝতে পারছি না। আর এটা হওয়া উচিত হয় নাই। এটা দলের ক্ষতি হবে। ইতোমধ্যে ক্ষতি হয়েছেও। সমস্যা সমাধানে আমরা এ বিষয়ে কথা বলছি।’

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি সম্পর্কে তিনি বলেন, দুইটা ভাগ থাকবে না সামনে এক হয়ে যাবে। এখনই সবাই বলছে ৫টি আসনে নৌকা চাই। আবার বলছে মনোনয়ন যিনি পাবেন তার পক্ষে কাজ করবেন। নির্বাচন কেন্দ্রীক কাজ করা হচ্ছে। বিএনপি ছোট দল না তাদের ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। বিএনপি এখন নিরব আছে তারা কোন কথা বলছে না। নির্বাচনে ভোটের সুযোগ পেলে (বিএনপি নির্বাচনে আসলে) তারাও ভোট দিবেন। আমাদের যেমন ব্যাংক ভোট আছে তাদেরও ব্যাংক ভোট আছে। তাদের ছোট করে দেখার অবকাশ নেই। কথা আছে শত্রুকে কখনো ছোট করে দেখতে নেই। এক কথায় নির্বাচন কেন্দ্রিক জেলা আওয়ামীলীগ কর্মকান্ড এগিয়ে যাচ্ছে।’

অপরদিকে আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিভক্তি দলের জন্য ক্ষতিকর। আমরা দলের বিভক্তি দূর করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। ঐক্যবদ্ধ সংগঠনের কোন বিকল্প নেই। দলের এমন নির্দেশে আমরা কাজ করছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘একেকজন একেকজনের স্বার্থ নিয়ে রাজনীতি করে কিংবা পরিবারতন্ত্রের রাজনীতি করে। আবার কেউ দলকে সংগঠিত করার কাজ করে। আমরা শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কাজ করছি। এখানে কোন ব্যক্তি বা পরিবারকে প্রতিষ্ঠিত করতে কাজ করছি না।’

ভবিষ্যত পরিকল্পনার বিষয়ে আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে কাজ করেছে তাতে আরেকবার সুযোগ পেলে তিনি আরো কাজ করতে পারবেন। তাই আমরা শেখ হাসিনাকে আবার ক্ষমতায় আনার জন্য দলমত নির্বিশেষে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে সেই লক্ষ্যে কাজ করছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি দলের মধ্যে বিভাজন পরিহার করে শেখ হাসিনার জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করার দরকার। যার নিজের অবস্থান থেকে কাজ করা দরকার।’

নারায়ণগঞ্জে ৫টি নৌকার আসন অথবা মহাজোটের সমঝোতার আসন হবে এ বিষয়ে আওয়ামীলীগের নেতাদের কঠোর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আনোয়ার হোসেন বলেন, নারায়ণগঞ্জে আমরা যারা আওয়ামীলীগের কর্মী দীর্ঘ দিন ধরে আমরা আওয়ামীলীগের প্রতিনিধিত্ব পাচ্ছি না। এটা দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। কারণ একটা এলাকায় এমপি নিজের দলের লোক না থাকে ওই এলাকায় নেতারা কোন অবস্থায় চাঙ্গা হতে পারে না। এমপি আসলে প্রশাসনিক ক্ষমতার মালিক। সে পুলিশ এসপি ডিসি কন্ট্রোল করে। একটা এলাকায় আওয়ামীলীগের এমপি না থাকে সেখানে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা বিপদে পড়লে সেই জায়গা তাকে উদ্ধার করার মতো ক্ষমতা থাকে না। এসব কারণে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা দুঃসহবস্থায় জীবন যাপন করছে যা বিগত ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে করে আসছে। এখন যা ঘটছে তারই বহিঃপ্রকাশ। দীর্ঘ দিন ধরে আওয়ামীলীগের এমপি না থাকায় আওয়ামীলীগের কর্মীরা নিস্পেসিত ও নির্যাতিত। আজকে তারা বিভিন্ন যন্ত্রনার শিকার। আর তাই তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা আওয়ামীলীগের প্রার্থী চায়। এটা দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। সেই জায়গায় আমরা সবাই চাইছি ৫টি আসনে নৌকার প্রার্থী কিন্তু দেওয়ার মালিক শেখ হাসিনা। এ জন্য আওয়ামীলীগের পরিবার ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। তৃণমূল কর্মী, নেতা সহ আমাদের সকলের দাবি।’

তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী অনেক কৌশল অবলম্বন করতে পারেন। তিনি যদি মনে করেন এটা জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিবেন সেটা তিনি করতে পারেন। শেখ হাসিনা বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে এসব বিষয়ে জেনে থাকে। আর আমরা আশা করছি আমাদের চাপা ক্ষোভের জন্য ৫টি আসনে নৌকা প্রার্থী দিবেন। এজন্য আমরা লিখিত আবেদন করবো। 

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

সাক্ষাৎকার -এর সর্বশেষ