৮ আশ্বিন ১৪২৫, সোমবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ

নেত্রী মনে করলে প্রয়োজন বোধ করলে নির্বাচন করবো : শামীম ওসমান


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ১২:৩১ এএম, ১৪ আগস্ট ২০১৮ মঙ্গলবার


নেত্রী মনে করলে প্রয়োজন বোধ করলে নির্বাচন করবো : শামীম ওসমান

প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত দেশের অন্যতম শিল্পাঞ্চল নারায়ণগঞ্জ ৪-আসন। আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নানা সমীকরণে ব্যস্ত বড় দুই দলের নেতাকর্মীরা।

ফতুল্লার ৬টি ইউনিয়ন এবং সিদ্ধিরগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১০টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ ৪-আসন। জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা এলাকার ভোটার সংখ্যা সবচে বেশি।তফসিল ঘোষণা না হলেও আলোচিত আসনটিতে নির্বাচনকে সামনে রেখে শহর ও শহরতলীসহ পাড়া-মহল্লার চায়ের দোকানগুলোতে চলছে নানা আলোচনা। আসনটিকে ঘিরে উভয় দলের কর্মী সমর্থকরা নানা পরিকল্পনার ছক কষছেন।

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে এ আসনে ১৯৯১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত ৪বারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমান আধিপত্য বিস্তার করে। ৯৬ এ আসনটি দখলে নেয় আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী শামীম ওসমান। ২০০১ এ বিএনপির মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ও ২০০৮ সালে জয় ছিনিয়ে নেয় ক্ষমতাসীন দল। সবশেষ বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হন শামীম ওসমান। নারায়ণগঞ্জ ৪-আসনে মোট ৬লাখ ৭৪ হাজার ১১জন ভোটার রয়েছে।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বেসরকারী টিভি চ্যানেল সময় টিভিতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন বলেন, গণতান্ত্রিক ধারা যাতে ব্যাহত না হয় সেরকম একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রত্যাশা করি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস আমার এলাকার জনসাধারণ আগামীতে আমার পক্ষে থাকবে এবং নির্বাচনে বিপুল ভোটে এখানে বিজয়ী হবো।

বর্তমান এমপি শামীম ওসমান বলেন, ১৯৯৬ তে যখন নির্বাচিত হয়েছিলাম তখন আমি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ যে কাজটা হয়েছিল তার মধ্যে আমি একজন ছিলাম। প্রায় ২৬’শ কোটি টাকার কাজ আমি করেছিলাম। আমার ইচ্ছা ছিল যে এবারের রেকর্ডটা ভাঙ্গবো। আল্লাহর হুকুমে আমি আমার রেকর্ড ভাঙতে পেরেছি। এখন পর্যন্ত যে ফাইল আমার হাতে এসে পৌছেছে দুই একটি যেমন রেলওয়ে সেক্টর, কমার্স সেক্টর এগুলো বাদ দিয়েই অলরেডি ২৬ কোটি টাকা ক্রস হয়েছে। আশা করছি যে এটা আলটিমেটলি ৭ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

তিনি বলেন, সো পলিটিক্সটা যদি হয় মানুষের সেবা করা আমরা সে চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমরা যেটা করেছি, ঢাকা- নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড দেখেন আমাদের আমলে করা। স্টেডিয়াম দেখেন দুটো আমাদের আমলে করা। নারায়ণগঞ্জে গ্যাসের সমস্যা সমাধান আমাদের আমলে করা। বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান আমাদের আমলে করা। তোলারাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স আমাদের আমলে করা।  নারায়ণগঞ্জে যে পরিমাণ কাজ হয়েছে যদি তার কোন নিদর্শন নেই বিএনপির। শীতলক্ষ্যা সেতুর উপর আমার প্রয়াত বড় ভাই নাসিম ওসমান সেতু করেছেন। একটা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়েছিল এটাও বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া ভিত্তিপ্রস্তর দিয়েছিলেন ভোটের আগে। তিনটা ভিত্তিপ্রস্তর হয়েছিল তারা। হয়নি কিন্তু একটাও। তাহলে আমরা বলতে পারি খান সাহেব ওসমান আলী, একেএম সামসুজ্জোহা স্টেডিয়াম, তোলারাম কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়, লিংক রোড, নিষিদ্ধ পল্লী থেকে বঞ্চিত করা, রাস্তাঘাটের সমস্যা সমাধান করা, গ্যাস প্রবলেম, আমার কাছ পুরা ফাইল আছে আমি বলতে পারবো। আমি বলবো অধ্যাপক মামুন সাহেবকে (জেলা বিএনপির সেক্রেটারী) উনার যে এমপি ছিলেন যিনি হত্যা মামলার আসামী ছিলেন। তো উনি বলুক যে এই কাজটা আমার এমপি করেছিল। তাহলে আমার কাছে ভালো লাগবে, যে আমার আগে ছিল সে এই কাজটা করেছিল।

শামীম ওসমানের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সেক্রেটারী মামুন মাহমুদ বলেন, শামীম ওসমান একজন দক্ষ সংসদ সদস্য। তার সময় উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু আমাদের সময় যে উন্নয়ন হয়নি আমি এটির সঙ্গে আমি একমত নয়। উন্নয়ন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এটি সবসময় হয়ে আসছে হবে এবং চলছে। সেই সঙ্গে আমি বলতে চাই, নারায়ণগঞ্জের মানুষ উন্নয়ন নিয়ে সন্তষ্ট নয়। এই নারায়ণগঞ্জ শিল্প কলকারখানায় সমৃদ্ধ হয়েছে। এই নারায়ণগঞ্জ শিল্প নগরী হিসেবে বাংলাদেশে বিখ্যাত। কিন্তু আমরা শিল্প দিয়েই কিন্তু জাতিগত উন্নয়ন বা নারায়ণগঞ্জে উন্নয়ন হতে পারে না। এই নারায়ণগঞ্জে একটি ভাল স্কুল নাই, এই নারায়ণগঞ্জে একটি ভাল বিশ্ববিদ্যালয় নাই, একটি ভাল কলেজ নাই, একটি মেডিক্যাল কলেজ নাই। নারায়ণগঞ্জে আমরা ভাল বিশ্ববিদ্যালয় চাই, নারায়ণগঞ্জে আমরা মেডিক্যাল কলেজ চাই। শীতলক্ষ্যা হলো নারায়ণগঞ্জের প্রাণ, শীতলক্ষ্যা বাঁচলে নারায়ণগঞ্জ বাঁচবে এটা আমার বিশ্বাস। সেই শীতলক্ষ্যা নদী দূষণে জর্জরিত। বর্ষাকাল বলে আমরা বসতে পেরেছি যদি বর্ষাকাল না হয়ে শীতকাল হতো তাহলে দুর্গন্ধে পালিয়ে বাঁচতে হতো। সেই জায়গায় আমরা সংস্কার চাই। এখানে যারা স্থানীয় সরকারের রয়েছেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি রয়েছেন, তাদের কিন্তু এ দায় থেকে একেবারে মুক্তি নেয়ার সুযোগ নাই।

শামীম ওসমান তখন বলেন, ‘অধ্যাপক মামুন মাহমুদের সাথে আমি হান্ডেড পার্সেন্ট একমত। শুধু শীতলক্ষ্যা না, শীতলক্ষ্যা, বুড়িগঙ্গা এই নদীগুলি সমাজের দায়িত্বজ্ঞানহীন মানুষের জন্য এই নদীগুলি আজকে পচন ধরেছে। এটা তো ছোট প্রজেক্ট না, বিগ প্রজেক্ট। নৌবাহিনীকে দেয়া হয়েছে দায়িত্ব। নৌবাহিনী এটার উপর কাজ শুরু করেছে। আশা করি এটা হয়ে যাবে। উনার ডিমান্ডের সাথে আমি একদম একশোতে একশভাগ একমত। নারায়ণগঞ্জ একটা মেডিক্যাল কলেজ এবং এটা আমার দাবী। এটা আমার না, নারায়ণগঞ্জের সবার দাবী। আমি আশা করি এই সরকারের আমলেই এটা হবে। না হওয়া পর্যন্ত আমি গর্ব করে বলতে পারছি না আমার সরকারের আমলে হয়েছে। আমি নেত্রীর সাথে কথা বলেছি তিনি কথা দিয়েছেন হবে। ৩’শ এবং ৫’শ মিলিয়ে একটি মেডিক্যাল কলেজ করতে পারি। বেসরকারি ইউনিভার্সিটির পারমিশন নিয়ে দিয়েছি এবং রূপায়ন গ্রুপকে দেয়া হয়েছে দুই বছর আগে। কিন্তু উনারা এটার কাজ শুরু করতে পারেনি। এই জায়গাতে আমরা পিছিয়ে আছি। শ্রম কল্যাণের জায়গায় সরকারি পিপিতে। একশ বেড থাকবে সাধারণ শ্রমিকের জন্য। আর তিনশ বেড থাকছে সকলের জন্য। এবং সেটা করছে ভারতের একটি বিখ্যাত হাসপাতাল হাসপাতাল। আমি আশা করি এতে কিছুটা হলেও মানুষের চিকিৎসা লাগবে হবে।

মামুন মাহমুদ বলেন, যতবার বাংলাদেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে ততবারই এই আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী জয়ী হয়েছে, ধানের শীষের জয় হয়েছে। দলের চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বন্দী রয়েছেন একটি মিথ্যা সাজানো মামলায় তাকে বন্দী করে রাখা হয়েছে। তার মধ্যেও আমরা তার মুক্তির দাবীসহ পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য আমাদের পদ্ধতি এগিয়ে চলছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রার্থী বাছাই চলছে। আমাদের তিনশ আসনে তিনজন করে প্রত্যেকটি আসনে তিনজন করে নামের তালিকা তৈরি হয়ে আছে। কাজেই নির্বাচনের জন্য যত রকমের প্রস্তুতি নেয়া প্রয়োজন সেগুলো প্রার্থীর ক্ষেত্রে আমাদের নেয়া আছে। যদি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয় এবং আমাদের নেত্রী যদি মুক্তি পায় এবং সে নির্বাচনে যদি আমরা অংশগ্রহণ করি হাহলে নির্বাচনে অংশগ্রহনের করার মতো যত রকমের পদ্ধতি আমাদের রয়েছে।

অপরদিকে শামীম ওসমান বলেন, ‘আমি কোন সময় নমিনেশন চাইনি। ৯৬ তে চাইনি, ২০০১ করতে চাইনি। করতে চাইনি একারণে আমার ২০টা লোক আমার সামনে মরে পড়েছিল (২০০১ সালের ১৬ জুন চাষাঢ়া আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলা)। আমার হাত পুড়ে গিয়েছিল, আমার পা ক্ষত-বিক্ষত হয়েছিল, আমার যারা কলিজার টুকরা ছিল তাদের রক্তের উপড় শুয়েছিলাম। বিএনপি-ই হত্যা করেছিল। আসামী স্বীকারোক্তি দিয়েছে। আমার দল আমার নেত্রী, উনি যদি মনে করেন আমার দরকার আছে আমি করবো। উনি যদি মনে করেন আমার চেয়ে বেটার কেউ আছে এবং আমার চেয়ে বেটার অধ্যাপক মামুন হয়। আমি বলবো বিএনপি থেকে এসে এখানে করেন। সংসদ সদস্য হওয়া বড় কথা না। পলিটিক্সটা হচ্ছে ইবাদত। আমি মনে করি। মানুষকে সেবা করাটা হলো সবচেয়ে বড় ইবাদত। যে কয়দিন বেঁচে মানুষের জন্য কাজ করে আল্লাহকে খুশি করতে চাই।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

সাক্ষাৎকার -এর সর্বশেষ