৭ বছর পরে আমার জন্য বিশাল আনন্দের দিন : আইভী (ভিডিও)

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৫১ পিএম, ৯ অক্টোবর ২০১৮ মঙ্গলবার



৭ বছর পরে আমার জন্য বিশাল আনন্দের দিন : আইভী (ভিডিও)

নারায়ণগঞ্জ শহর ও বন্দরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রতিক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে অবশেষে। শহরের ৫নং ঘাট থেকে বন্দরের একরামপুর ঘাট এলাকায় নির্মিত হবে বন্দর কদমরসুল সেতু। মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) দুপুরে একনেকের সভায় প্রায় ৫৭৯ কোটি ৮০ লাখ টাকার প্রকল্পটি পাশ হয়।

এর পরপরেই নগর ভবনে মেয়রকে শুভেচ্ছা জানাতে ছুটে আসে বন্দরের বাসিন্দারা। অনুমোদন প্রাপ্ত সেতু নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হলে বন্দরের সাথে শহরের ব্যবসা বাণিজ্যে ব্যাপক উন্নতি সাধন হবে। পাশাপাশি উভয় পাড়ের লোকজনের দ্রুততম যাতায়াত এবং রোগীদের আসা যাওয়ায় সুবিধা হবে। বন্দর এলাকায় গড়ে উঠবে শিল্প প্রতিষ্ঠান ফলে তৈরী হবে নতুন নতুন কর্মসংস্থান। এ ব্যাপারে স্টাফ করেসপনডেন্ট সাবিত আল হাসানের সাথে ৯ অক্টোবর মঙ্গলবার বিকেলে সিটি করপোরেশনের নগর ভবনে নিজ দপ্তরে নিউজ নারায়ণগঞ্জকে ফেইসবুক লাইভে মুখোমুখি হন মেয়র আইভি। সেখান থেকে নেয়া চুম্বক অংশটি তুলে ধরা হলো।

 

নিউজ নারায়ণগঞ্জ : দীর্ঘদিন পরে বন্দর কদমরসূল সেতু প্রকল্পটি আজ একনেকে পাশ হয়েছে সে ব্যাপারে আপনার অনুভূতি কি?
সেলিনা হায়াৎ আইভী : আসলে দীর্ঘদিন ধরেই এই ব্রীজের চাওয়া ছিল নারায়ণগঞ্জবাসীর। শুধু বন্দরবাসী নয়, পুরো নারায়ণগঞ্জবাসীর-ই চাওয়া ছিল ব্রীজটির। বলা চলে স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরে আমরা একটা ব্রিজ পেতে যাচ্ছি। এটা আমাদের জন্য খুবই আনন্দের ব্যাপার। বিশেষ করে নদীর পূর্ব পাড়ের মানুষের জন্য এটি আশীর্বাদ স্বরূপ। সে জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখা হাসিনাকে নগরবাসীর পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। পাশাপাশি আমাদের স্থানীয় সরকারের মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি কারন উনি এই ব্যাপারে আমাকে সহযোগিতা করেছেন। এলজিইডির বর্তমান চীফ ইঞ্জিনিয়ার আবুল কালাম আজাদ এই প্রকল্পটি একনেকে উত্থাপন করতে সহায়তা হয়েছেন। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা আমার নেই, দীর্ঘদিন পরে হলেও নারায়ণগঞ্জবাসী অবশেষে এর সুফল ভোগ করতে যাচ্ছে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ : সেতু নির্মাণের পরিকল্পনাটি ২০১৬ সালে নাসিকের বাজেটে উত্থাপিত হয়েছিল। একনেকে পাশ হবার ব্যাপারে দীর্ঘসূত্রিতার কারণ কি?
সেলিনা হায়াৎ আইভী : দীর্ঘসূত্রিতার কারণ আমরা না হয় নাই জানলাম। যেহেতু ব্রীজটি পাশ হয়েছে সেহেতু কিভাবে দ্রুততম সময়ে কাজ ধরা যায় আমরা সেই চিন্তা করছি। একটা প্রজেক্টে অনেক ধরনের জটিলতা থাকে, পাশাপাশি শীতলক্ষ্যা নদীর গভীরতাও অনেক বেশী। এই ব্রীজের উচ্চতাও অনেক বেশী করতে হবে কারণ এই নদীতে অনেক বড় বড় জাহাজ চলাচল করে। সেক্ষেত্রে অন্য নদীর উপর ব্রীজ নির্মাণের তুলনায় এই নদীতে প্রজেক্ট কিছুটা ডিফিকাল্ট। তাছাড়া বিআইডব্লি¬উটিএ এর অনুমোদন সহ বিভিন্ন জটিলতার অতিক্রম করায় খানিকটা দেরী হয়েছে। ২০১১ তে আমি যখন নির্বাচনের সময় আমি বন্দরবাসীকে কথাদিয়েছিলাম যত দ্রুত সম্ভব আমি ব্রীজ নির্মাণ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। ৭বছর পরে হলেও আমি মনে করি আজকে আমার জন্য বিশাল আনন্দের দিন। আমি আমার কথা রাখতে পেরেছি সেজন্য আমি নগরবাসীর প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি কারণ তারা আমাকে সবসময় মনে করিয়ে দিয়েছে যে তাদের এই জিনিসটি জরুরী এবং দরকার। আমিও সেই দাবী প্রধানমন্ত্রী ও স্থানীয় সরকারের কাছে তুলে ধরেছি। এখন যেহেতু হতে চলেছে এটাই আমাদের কাছে বড় কথা।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ : কবে নাগাদ ব্রীজের নির্মাণ কাজ শুরু হবে ?
সেলিনা হায়াৎ আইভী : এটা এখন জানাতে পারছি না কারণ সবে মাত্র পাশ হলো। এলজিইডি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন যৌথভাবে এই কাজটি করবে। এজ সুন এজ পসিবল (যত দ্রুত সম্ভব) নির্মাণ কাজ ধরার চেষ্টা করবো। এখন কনসালটেন্ট নিয়োগের জন্য বিজ্ঞাপন দেয়া হবে। নদীতে যাতে চর না পরে ও পরিবেশ নষ্ট না হয় সে সমস্ত কারিগরিক দিকগুলো চিন্তা ভাবনা করেই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হবে। নিয়োগ হয়ে গেলে দু-চার-ছয় মাস বা এক বছরের ভেতরেই কাজ শুরু হতে পারে আবার তার আগেও হতে পারে। আমি কাল পরশু এই ব্যাপারে আলাপ করবো। যত দ্রুত কাজ শুরু হয় সেই চেষ্টা করব।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ : ব্রীজটি কি শুধুমাত্র মানুষের পারাপাড়ের জন্য নাকি এতে ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারবে?
সেলিনা হায়াৎ আইভী : ভারী যানবাহন সহ মানুষ চলাচল করবে। ভারী যানবাহন যাতে চলাচল করতে পারে অই ধরণের ক্যাপাবিলিটি রেখেই ব্রীজটি ডিজাইন করা হয়েছে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জ ও বন্দরবাসীকে যদি জানাতেন কবে নাগাদ তারা এই ব্রীজের সুফল ভোগ করতে পারবেন?
সেলিনা হায়াৎ আইভী : যেই ব্রীজ প্রকল্পটি আজ পাশ হলো তা ৪ বছরের ভেতরে সমাপ্ত করার নির্দেশ দেয়া আছে। ৪বছরের ভেতরেই ব্রীজের নির্মান কাজ সমাপ্ত করার কথা রয়েছে। হয়তো ৪ বছরের আগেও হতে পারে আবার সময়ও লাগতে পারে। তবে আশা করি ৪ থেকে ৫ বছরের ভেতরেই ব্রীজের কাজটি সম্পন্ন হবে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ : ৫ নাম্বার ঘাটের পাশাপাশি সেন্টাল খেয়াঘাট ও নবীগঞ্জ ঘাট যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। সেদিক থেকে আর কোন ব্রীজ নির্মানের পরিকল্পনা সিটি কর্পোরেশনের রয়েছে কি?
সেলিনা হায়াৎ আইভী : সেন্ট্রাল ঘাট থেকে ব্রীজ করা সম্ভব নয় কারণ এখানে এপ্রোচ নেই। ফলে গাড়ি নামার মত রোড নেই। অপর পারে জায়গা থাকলেও পশ্চিম পাড়ে নেই। সুতরাং সেন্ট্রাল ঘাটে ব্রীজ করা সম্ভব হবে বলে মনে হয় না। তবে নবীগঞ্জ ঘাট দিয়ে একটি ইন্টারডিস্ট্রিক ব্রীজ করার জন্য জাইকা সমীক্ষা করছে। অদূর ভবিষ্যতে হতেও পারে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ : অনেক ধন্যবাদ আমাদের সময় দেয়ার জন্য।
সেলিনা হায়াৎ আইভী : নিউজ নারায়ণগঞ্জ ও সকল দর্শককেও ধন্যবাদ।

প্রসঙ্গত ৯ অক্টোবর মঙ্গলবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় (একনেক) প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী জানান, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ‘বন্দর কমদরসূল সেতু’ নামে প্রকল্পটি একেনেকের সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এজন্য ৫৭৯ কোটি ৮০লাখ টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এতে করে বন্দরবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ হতে যাচ্ছে।’

তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে বন্দরবাসীর সুবিধার জন্য শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর দিয়ে সেতু নির্মাণের জন্য নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে আবেদন করে আসছিল। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে এ অনুমোদন দেয়া হয়। সেতুটি শহরের ৫নং খেয়াঘাট থেকে বন্দরের একরামপুর ঘাট এলাকায় হবে।


বিভাগ : সাক্ষাৎকার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও