তরুণ ভোটারদের আকরাম : ভুল করলে জাতি ৫ বছর ভুগবে (ভিডিও)

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০৮ পিএম, ২৮ নভেম্বর ২০১৮ বুধবার



তরুণ ভোটারদের আকরাম : ভুল করলে জাতি ৫ বছর ভুগবে (ভিডিও)

একাদশ জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে সাবেক সংসদ সদস্য এস এস এম আকরাম মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। মনোনয়ন ফরম জমা দেয়ার শেষ দিন ২৮ নভেম্বর বুধবার বিকাল ৪টায় তিনি মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন।

এ সময় তিনি তরুন ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘তরুন ভোটারদের জন্য বলা একটা কথাই যে, ভোট তো একটাই। তো ভেবে চিন্তে ভোট দিতে হবে। তাদের একটা ভুল ভোটের জন্য জাতির ৫ বছর ভোগান্তি হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমি এবার নির্বাচন করছি একেবারেই দেশের গনতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার জন্য। আমি মনে করি দেশের যে বর্তমান পরিস্থিতি, সেখানে দেশের মানুষের সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করার স্বাধীনতা নাই। এবং মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে, কারণে অকারনে একটার পর একটা মামলা দেয়া হচ্ছে। অনেকেই বাড়িতে থাকতে পারেনা।’ গণমাধ্যম কর্মীদের এ কথা বলেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের  মনোনীত প্রার্থী এস এম আকরাম।

সেলিম ওসমানের সাথে নির্বাচন করছেন এবং এই নির্বাচন থেকে কি আশা করছে তা জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের তিনি বলেন, ‘আমি আশাবাদী, হতাশ হওয়ার লোক আমি নই। এই বয়সেও আরেকবার নির্বাচন করছি, একটা সুযোগ নিয়েছি। গত নির্বাচনে ৫০ টা কেন্দ্রে প্রায় ৪ ঘন্টা তারা জবরদস্তি দখল করে রেখেছে। তার পরেও আমি ৬৬ হাজার ভোট পেয়েছি। আগে থেকে জনগন অনেক বেশি সচেতন হয়েছে, তারা চায় সুষ্ঠু নির্বাচন হোক।’

তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচন কখনোই সহজ ছিল না। ভোগান্তি অনেক হয়েছে। আমি যদিও বিএনপি করতাম না। কিন্তু আমি বিএনপিকে দেখেছি কিভাবে অত্যাচার অবিচার, অনাচার করা হয়েছে। এবারে আমাদের ঐক্যফ্রন্টের বিশেষ করে বিএনপির জন্য এই নির্বাচন জীবন মরনের প্রশ্ন। ২দিন আগে ড. কামাল হোসেন বলেছেন পরিবর্তন চায়, পরিবর্তন হওয়ার তো কোনো লক্ষন দেখছি না।’

২০১৪ সালের ২৬ জুন অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের উপ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সেলিম ওসমানের বিরুদ্ধে লড়েন এস এম আকরাম। যদিও ওই নির্বাচনে বিএনপি ও আওয়ামীলীগের কোন প্রার্থী অংশ না নেয়ায় সেলিম ওসমান হয়ে পড়েছিলেন সর্বদলীয় প্রার্থী। কারণ ওই নির্বাচনে সেলিম ওসমানের পক্ষে কাজ করতে দেখা গিয়েছিল অনেক বিএনপি নেতাকে। আর যেসকল কেন্দ্রে জাতীয় পার্টি তথা আওয়ামীলীগের প্রার্থীও কখনো পাশ করতে পারেননি সেখানে সেলিম ওসমান জয়ী হয়েছিলেন। অর্থাৎ বিএনপির ভোটব্যাংক খ্যাত কেন্দ্রে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন সেলিম ওসমান। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে এস এম আকরাম ৬৬ হাজার ১১৪ ভোট পেয়েছিলেন। অথচ ওই নির্বাচনে সেলিম ওসমান সব রাজনৈতিক দলের সমর্থন নিয়েও পেয়েছিলেন ৮২ হাজার ৮৫৬ ভোট।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ হতে ২০০১ সাল পর্যন্ত এমপি ও ২০০২ সালের ২৭ মার্চ এস এম আকরামকে আহবায়ক করে ৬৩ সদস্য বিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে দেয়া হয়। কিন্তু ২০১১ সালের ৩১ অক্টোবর দল ও পদ দুটিই ছাড়েন আকরাম। পদত্যাগ পর্যন্ত জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। বরং আকরামের নেতৃত্বে শহরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে পাল্টা গ্রুপিং হয়। আকরামের পাশে তখন ছিলেন সিটি মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী, মহানগর আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি আনোয়ার হোসেন সহ তাদের অনুগামীরা। মূলত তখন রাজনীতি ছিল আকরাম ও শামীম ওসমান পন্থী আখ্যায়।


বিভাগ : সাক্ষাৎকার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

এই বিভাগের আরও