আমি অকৃতজ্ঞ না, মৃত্যুও হাসি মুখে বরণ করে নিব : এটিএম কামাল

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:১০ পিএম, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ বুধবার

আমি অকৃতজ্ঞ না, মৃত্যুও হাসি মুখে বরণ করে নিব : এটিএম কামাল

সম্প্রতি মধ্যরাতে বাসায় অভিযান চালিয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সেক্রেটারী এটিএম কামালকে না পেয়ে, তাঁর ছেলে নাহিন মোজতাবা সোহানকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। টানা ১২ঘণ্টা আটকে রেখে পরদিন দুপুরে মুক্তি দেয় পুলিশ। ওই ১২ঘণ্টায় থানায় সোহান ছিল নিদ্রাহীন ও বাসায় সবাই ছিল আতঙ্কিত। এ মুহূর্তে পরিবারের পাশেও থাকতে পারেননি এটিএম কামাল। তার দাবি ছিল, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান করা ও প্রচারণায় অংশগ্রহণ করায় জামিনে থাকার পরও এ ধরনের গ্রেফতার অভিযান পরিচালনা করা হয়। আর এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে মামলায় আসামী হয়েছেন এটিএম কামাল।

কিন্তু এ এটিএম কামালকেই দেওয়া হয়নি নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে দলীয় মনোনয়ন। এতো কিছুর পরও মান অভিমান ভুলে নতুন করে দলের পক্ষে কাজ করতে গিয়ে নতুন মামলার স্বীকার হয়েছেন তিনি।

এর প্রেক্ষিতে এটিএম কামাল নিজের ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে লিখেছেন, ‘আমার স্ত্রী ও সন্তানদের বলছি আমি অকৃতজ্ঞ নই। পারিবারিক বিপর্যয়ে যারা আমাদের সহযোগিতা করেছে, তাদের কাছে আমরা ঋণী। তবে দল, দেশমাতা ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেওয়া দায়িত্বের সাথে মুনাফেকি করতে পারবো না । যদি তাতে আমার মৃত্যুও হয় হাসি মুখে বরণ করবো।’

এটিএম কামাল ছিলেন আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও) আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিলুপ্ত নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। একই সঙ্গে সামাজিক ও অরাজনৈতিক পরিবেশবাদী মানবাধিকার সংগঠন ‘নির্ভিক’ এর প্রধান সমন্বয়ক। কিন্তু বিএনপি এটিএম কামালকে মনোনয়ন দেয়নি।

একইভাবে বাদ দেয়া হয় ২০১৬ সালের নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মেয়র প্রার্থী থেকেও। এভাবে বার বার বঞ্চিত হলেও দলের প্রতি ভালোবাসা কিংবা রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনে কোন ভাবেই থেমে যাননি।

এসব ছাড়াও আরেকটি পরিচয় হলে নারায়ণগঞ্জ পুলিশের তালিকায় সর্বাধিক মামলার আসামী বিএনপি নেতা এটিএম কামাল। যার বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ জেলার সাতটি থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় প্রতিদিন নারায়ণগঞ্জ আদালতে হাজিরা দিয়ে যাচ্ছেন। শুধু হাজিরা নয় এসব মামলায় একাধিকবার গ্রেফতার হয়ে কারাগারেও ছিলেন দীর্ঘদিন।

বিএনপির আইনজীবীদের সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ ও ২০১৪ আওয়ামীলীগ সরকারের অধীনে দলীয় কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে রাজনৈতিক ভাবে ৩০ এর অধিক মামলায় আসামী হয়েছেন এটিএম কামাল। এছাড়া রাজনৈতিক জীবনে এখনও পর্যন্ত অর্ধশতাধিক মামলায় আসামী হয়েছেন তিনি। এসব মামলার মধ্যে বেশ কয়েকটির খারিজ হয়ে গেলেও এখন তিনি বাকি মামলায় হাজিরা দিয়ে যাচ্ছেন। তাছাড়া ইতোমধ্যে কয়েকটি মামলায় চার্জশীট হয়ে গেছে আবার কিছু মামলায় চার্জশীট হওয়ার প্রক্রিয়ায় আছেন। তবে এসকল মামলাগুলো সবই রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে হয়েছে। আর কারাগারে ছিল ১০ বারে দুই বছরেরও বেশি সময়। বিভিন্ন মামলায় রিমান্ড ও কারাগারে থেকে অসুস্থ্য হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন এখনও।

এটিএম কামালের ছেলে নাহিন মোস্তবা সোহান বলেন, সপ্তাহের শুক্র ও শনিবার ছাড়া বাকি ৫দিনই সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত আদালতে বিভিন্ন মামলায় হাজিরা দিতে হয়। একদিনে একাধিক মামলায়ও হাজিরা দিতে হয়। তারপরও তিনি রাজনৈতিক কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, দলীয় কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে তিনি বিভিন্ন সময় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এজন্য দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। এখনও চিকিৎসাধীন আছেন। সব শেষে তিনি বিদেশ থেকেও চিকিৎসা নিয়ে দেশে এসেছেন। এসেই তিনি জাতীয় নির্বাচনের কাজে গ্রামে গ্রামে মানুষের কাছে ধীনের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

প্রসঙ্গত কেন্দ্রীয় ও দলীয় কর্মসূচির বাইরেও এটিএম কামালের দলীয় কর্মসূচির মধ্যে আলোচিত হলো, বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও মরহুম আরাফাতক রহমান কোকোর মুক্তির দাবিতে টানা ১২ দিনের অনশন, সুন্দরবন বাঁচাও-বাংলাদেশ বাঁচাও  আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জ থেকে পায়ে হেঁটে রামপাল পদযাত্রা। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর এটিএম কামাল কাফনের কাপড় পরে আন্দোলনে নামা। অপহরণ, গুম ও নৃশংস হত্যাকা-ের স্বীকার হবে না মানুষ থাকবে স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি দাবিতে কর্মসূচি। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জ ও সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনেও ছিল সক্রিয়।


বিভাগ : সাক্ষাৎকার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও