নির্বাচন নিয়ে যা বললেন ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতারা

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:১১ পিএম, ২৯ ডিসেম্বর ২০১৮ শনিবার

নির্বাচন নিয়ে যা বললেন ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতারা

নারায়ণগঞ্জেও ভোটের রাজনীতিতে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। আর এই ভোটের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে ছাত্র রাজনীতিবিদদের। যারা ছাত্রসমাজের প্রতিনিধিত্ব করে থাকেন। ফলে এবারের সংসদ নির্বাচনেও বিরোধী দলীয় ছাত্র সংগঠনগুলোর ছাত্র নেতাদের মধ্যে চলছে নির্বাচন নিয়ে চলছে বিচার বিশ্লেষণ।

তবে এবারের নির্বাচনে তাদের অন্যতম প্রধান চাহিদাগুলোর মধ্যে একটি হলো মত প্রকাশের স্বাধীনতা দেয়া। যারা নির্বাচিত হবেন তারাই যেন মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করে।

এ বিষয়ে মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি শাহেদ আহমেদ নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘ভোটকে কেন্দ্র করে আবারো দেশে অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। আমরা চাই দেশে সুষ্ঠু ভোট হোক এবং জনগন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ পাক। আমরা দেখে আসছি জনপ্রতিনিধি যারা আসেন তারা ছাত্র সমাজকে সবসময়ই ব্যবহার করতে চায়। আমরা দেখছি দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জের কলেজগুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হচ্ছে না। ক্ষমতাসিন দলের সংগঠনই ছাত্র সংসদ দখল করে রেখেছেন। নতুন প্রজন্ম জানেই না, ছাত্র সংসদ নির্বাচন কি? তারা কখনো ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ভালো দিকটা দেখেইনি। তাই আশা করবো যে জনপ্রতিনিধি আসবেন সে সাধারন ছাত্রদের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেবেন। তবে নিরাপদ সড়ক ও কোটা সংস্কারের আন্দোলনকারী বাস্তব সম্মত সাধারন ছাত্র সমাজের পাশে আমরা ক্ষমতায় এলেও থাকবো।’

মহানগর ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক মুমিনুর রহমান বাবু বলেন, ‘বর্তমান সরকার দেশে পরপর দুই বার ক্ষমতায় ছিলেন। বর্তমান সরকার দেশের এমন অবস্থা করেছেন যে বর্তমানে দেশে গণতন্ত্র বলতে কিছু নেই। গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধারের আগে পর্যন্ত দে]শের জনগণ শান্তিতে নিঃশ্বাস ফেলতে পাবে কিনা আমরা সন্দিহান। এ কারনে বিএনপি, ঐক্যজোটসহ সকলে একসাথে কাজ করছে। দেশের গনতন্ত্র ফিরে পেতে সক্ষম হলে আশা করি আমরা ছাত্র সংগঠনগুলো একত্রিত হয়ে সাধারন ছাত্রদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে পারবো। যা বর্তমান সরকারের আমলে আমরা দেখিনি।’

জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক ইসমাইল হোসেন মামুন নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘বর্তমানে পরিস্থিতি এমন যে আমাদের বিরোধীদলের সংগঠনগুলো আতঙ্কে আছে। আমাদের নেত্রী মুক্তি পেলে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে বলে আশা করছি। সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ন নির্বাচনের জন্য আমরা নেতাকর্মীরা সকল নির্বাচনী কেন্দ্রে পাহাড়া দিবো। তাছাড়া ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হলে নতুন ছাত্ররা দেশের রাজনীতিতে ভুমিকা রাখবে কি করে? সুযোগ না পেলে তারা ছাত্র সমাজের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবে না। তবে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে তাহলে আমরা সাধারন ছাত্রদের অধিকারের জন্য আবারো ছাত্র নির্বাচনের আয়োজন করাবো।’

ছাত্র ফেডারেশনের জেলা সাধারন সম্পাদক ইলিয়াস জামান নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন সক্রিয়ভাবে তাদের দায়ত্ব পালন করতে পারছে না বরং আমরা দেখেছি কিছুদিন আগে নির্বাচন কমিশনের এক সদস্য নিজের মত প্রকাশের সুযোগ না পেয়ে সভা ত্যাগ করেছেন। আমরা দেখতে পাচ্ছি নির্বাচন কমিশনকে বিভিন্ন ভাবে দলীয়করন করা হচ্ছে। ফলে এমন একটি নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বে সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে তা আমরা ভরসা রাখতে পারছি না।

ছাত্র ফেডারেশনের জেলা সভাপতি শুভ দেব নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জনগনের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যাচ্ছে না। কারণ সরকার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে যে কারিশমা দেখিয়ে যাচ্ছে তাতে জনগণ নিজের ভোটাধিকার সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারবে কিনা তাতে সন্দিহান। তাছাড়া নারায়ণগঞ্জ সন্ত্রাসের অভয়ারন্যে পরিনত হয়েছে। ফলে যে জনপ্রতিনিধিই ক্ষমতায় আসুক তার প্রয়োজন পাড়ায়, মহল্লায় নিরাপদ সেল গঠন করা। আমরা দেখি একবার ভোট হয়ে যাওয়া মানে নেতা সাত আসমানে উঠে যায়, নেতার আর খবর নেই। তাকে জনগনের সাথে দূরত্ব কমিয়ে আনতে হবে এবং সত্যিকারের অর্থে জনপ্রতিনিধি হয়ে উঠতে হবে।’

ছাত্র ফ্রন্টের জেলা সভাপতি সুলতানা আক্তার নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘বিদ্যমান পরিস্থিতি দেখে জনগনের মনে হতাশা কাজ করছে। নির্বাচনে টাকার খেলা, সাম্প্রদায়িকতা এবং পেশীশক্তি হিসেবে যা চলে তা আমরা দেখতে চাই না। তা না হলে আজকের ছাত্র সমাজ ভালো কিছু শিখতে পারবে না এবং তারাও হতাশার দিকে যাবে। ছাত্রসমাজ এবার আর ধর্মের রাজনীতি, বৈশম্যের রাজনীতি শক্তি প্রদর্শনের রাজনীতি দেখতে চায়না। এমন একজন নেতা চাই যে সকলের উন্নয়নের জন্য কাজ করবে নিজের উন্নয়নের জন্য এবং নিজের ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য নয়।’

এ বিষয়ে ছাত্র ফ্রন্টের জেলা সাধারন সম্পাদক বেলাল হোসেন নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘ইউনেস্কো অনুযায়ী দেশের মোট জাতীয় বাজটের ২৫ ভাগ শিক্ষাখাতে বরাদ্দ করতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশে তার পরিমাণ অনেক কম। আমরা প্রায়ই দেখছি টাকার অভাবে মেধাবী শিক্ষার্থীরা পাবলিক এবং মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেয়েও ভর্তি হতে পারছেনা। তাছাড়া আমাদের দেশে ৫ বছরে অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পরছে। আমাদের দেশে ৮৬ হাজার গ্রামের মধ্যে ১৮ হাজার গ্রামেই কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। এসব গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় তৈরি করলে শিক্ষার হারের পাশাপাশি বেকারদের জন্য চাকরি ক্ষেত্রও তৈরি হবে। এতে অনেক শিক্ষর্থীকেই পড়াশোনা শেষে চাকরির জন্য অনিশ্চয়তায় ভুগতে হবে না। অন্যদিকে দেখতে পাই আমাদের শীতলক্ষা লাশের ভাগারে পরিনত হয়েছে। ফলে আমরা এমন জনপ্রতিনিধি চাই যে আমাদের এসকল চাহিদা পুরন করবে এবং জনগনের নিকট দায়বদ্ধ থাকবে।’

তবে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পরিবেশ এখন থেকেই এবং আবারো অস্থির হতে শুরু করেছে বলে ধারনা করছে ছাত্রসংগঠনের নেতারা। এমনকি ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়ার মাধ্যমে সাধারন ছাত্রদের যে অধিকার ক্ষুন্ন হচ্ছে তা আসন্ন জনপ্রতিনিধি ফিরিয়ে দিতে পারবেন কিনা তা নিয়ে বিচার বিশ্লেষন করছে ছাত্র প্রতিনিধিরা।


বিভাগ : সাক্ষাৎকার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও