‘এবার নারায়ণগঞ্জে মন্ত্রী চাই’

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:০৪ পিএম, ৪ জানুয়ারি ২০১৯ শুক্রবার

‘এবার নারায়ণগঞ্জে মন্ত্রী চাই’

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে ৪বার সরকার গঠন হলেও মন্ত্রীত্ব মেলেনি নারায়ণগঞ্জের ভাগ্যে। তাই ৫ম বারের মত সরকার গঠন করতে যাওয়া দলটির কাছে বিজয়ী এমপিদেরকে মন্ত্রী সভায় ঠাঁই দেয়ার জোরালো দাবী জানিয়েছেন আন্দোলনের সূতিকাগার খ্যাত নারায়ণগঞ্জের সকল শ্রেণি পেশার মানুষ।

বিএনপি শাসনামলে জেলার কয়েকজনকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী করা হলেও বারবার অবহেলার শিকার হয়েছেন আওয়ামীলীগের এমপিরা। ১৯৯৬ সাল থেকে এপর্যন্ত আওয়ামীলীগের নেতৃত্বাধীন সরকার ৩ বার ক্ষমতার মসনদে বসলেও কোন মন্ত্রীসভাতেই ঠাঁই হয়নি নারায়ণগঞ্জের কারোরই। ঔপনিবেশিক আমল থেকে জাতীয় রাজনীতিতে অবদান রাখা এবং দেশের রপ্তানী খাতের ৩৯ দশমিক ২ শতাংশ দখলে রাখা এই জেলার বাসিন্দারা মুখিয়ে আছেন অন্তত এবারের মন্ত্রীসভায় ঠাঁই হবে তাদের।

এদিকে আওয়ামীলীগের দুর্ভেদ্য ঘাঁিট হিসেবে পরিচিত জেলার তৃনমূল থেকে শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা দাবী তুলেছেন প্রভাবশালী নেতা একেএম শামীম ওসমানের পক্ষে। স্থানীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শামীম ওসমানকে মন্ত্রী সভায় দেখতে চেয়ে রীতিমত ঝড় তুলছেন তারা।

রাজধানীর সর্বনিকটে অবস্থিত নারায়ণগঞ্জকে এক সময় বলা হোত ‘পলিটিক্যাল হান্টিং গ্রাউন্ড অব বেঙ্গল’। কালের স্বাক্ষী হয়ে এখনও ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে শতবর্ষী ‘বায়তুল আমান’ ভবন যেখানে প্রতিষ্ঠা হয়েছিল স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের। এমনকি বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনীতেও বারবার উঠে এসেছে বায়তুল আমানের নাম। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ছেষোট্টির ছয় দফা আন্দোলন, উনসত্তরের গণঅভ্যূত্থান, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ সব খানেই ছিল এখানকার মানুষের জোরালো অংশগ্রহণ।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, স্বাধীনতা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে এমএনএ ও এমপি নির্বাচিত হয়েছিল ভাষা সৈনিক খান সাবে ওসমান আলী ও তার ছেলে ভাষা সৈনিক একেএম সামসুজ্জোহা। সত্তর দশকের শেষের দিকে জিয়াউর রহমানের (বিএনপি) শাসনামলে নারায়ণগঞ্জ থেকে এম এ সাত্তারকে পাটমন্ত্রী করার মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জবাসী প্রথম মন্ত্রীত্বের স্বাদ পায়। ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর জেলার রুপগঞ্জ থেকে নির্বাচিত প্রয়াত আব্দুল মতিন চৌধুরীকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার আগে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনেই আওয়ামীলীগের প্রার্থীরা বিজয়ী হলেও জোটেনি মন্ত্রীত্ব।

২০০১ সালে মতিন চৌধুরীকে প্রথম বস্ত্র মন্ত্রী ও পরে দপ্তরহীন মন্ত্রীও করা হয়েছিল। একই সাথে সোনারগাঁও আসন থেকে নির্বাচিত এমপি অধ্যাপক রেজাউল করিমকেও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী করা হয়। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের বিএনপির নেতা অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারকে বিআরটিসির চেয়ারম্যান করা হয়। ২০০৮ ও ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনেও জেলার পাঁচটি আসনের সব কটিতে আওয়ামীলীগ ও তাদের শরিক জাতীয় পার্টির এমপিরা নির্বচিত হনস কিন্তু মন্ত্রী সভায় নারায়ণগঞ্জ স্থান পায়নি।

নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল জানান, দেশের জাতীয় ভিত্তিক ৭টি ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রধান কেন্দ্র নারায়ণগঞ্জে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নারায়ণগঞ্জকে বিশেষ গুরুত্ব দেন বলেই এখানে ৬টি ইপিজেএড নির্মাণের কাজ চলছে, গড়ে উঠেছে সরকারী-বেসরকারী একাধিক বিদ্যুত কেন্দ্র। এখানে রয়েছে প্রায় ১২হাজার শিল্প্রতিষ্ঠান। দেশের জাতীয় রাজস্ব খাতে নারায়ণগঞ্জের অংশ গ্রহন বিশেষ ভুমিকা পালন করছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে জেলার সকল ব্যবসায়ীদের প্রাণের দাবী এবারের মন্ত্রীসভায় নারায়ণগঞ্জের যোগ্য ও গণমানুষের আস্থা রয়েছে এমন কাউকে মন্ত্রীসভায় যাওয়ার সুযোগ করে দিবেন।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর শারমিন হাবিব বিন্নি জানান, বিএনপির যতবার ক্ষমতায় গেছে নারায়ণগঞ্জ থেকে কেউ না কেউ মন্ত্রীসভায় ঠাই পেয়েছে কিন্তু আওয়ামীলীগ শাসনামলে হয়নি এটা নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য দুঃখজনক। আমরা চাই যার যোগ্য নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ সুরক্ষিত ও সুসংগঠিত তাকেই মন্ত্রীসভায় এবার স্থান দেয়া হোক।

নারায়ণগঞ্জ আইনজীবি সমিতির সভাপতি হাসান ফেরদৌস জুয়েল জানান, জেলাবাসীর কাছে উন্নয়নের স্মারক হিসেবে পরিচিত একেএম শামীম ওসমানকে মন্ত্রীসভায় দেখতে চায় সকল আইনজীবিরা।

নিউজ পেপারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আরিফ আলম দীপু জানান, বর্তমান সরকার নারায়ণগঞ্জে যে ধারবাহিক উন্নয়ন করেছে তার প্রতিদানে সাধারন মানুষ দিয়েছে। নারায়ণগঞ্জের মত গুরুত্বপূর্ন জেলায় মন্ত্রীত্ব নেই এটা দুখে:র কারণ আমাদের জন্য। সাধারন মানুষের আশা এবার মন্ত্রীসভায় ঠাঁই হবে নারায়ণগঞ্জের।

বাংলাদেশ বিসিএস শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক ও সরকারী তোলারাম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক প্রফেসর জীবন কৃষ্ণ জানান, নারায়ণগঞ্জ থেকে মন্ত্রীসভায় ঠাঁই হওয়ার সাধারন মানুষের যে বাসনা সেটি এক অর্থে আমাদের অধিকার। আশা রাখি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবার যে বাসনার প্রতি সুবিচার করবেন।


বিভাগ : সাক্ষাৎকার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও