‘৭ খুনের আসামীদের পাশে কনডেম সেলে ছিলাম’

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:১৪ পিএম, ৪ জানুয়ারি ২০১৯ শুক্রবার

‘৭ খুনের আসামীদের পাশে কনডেম সেলে ছিলাম’

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন ৫৯ দিন কারাভোগ করে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। কারাভোগের সেই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছেন এ নেতা। আর তাতে করে অসহনীয় বিড়ম্বনার চিত্র ফুটে উঠেছে। তবে দলের নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানো এই নেতার দুঃসময়ে তার পাশে কেউ না থাকায় বেশ আক্ষেপও করে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলেছেন।

১ জানুয়ারি বছরের প্রথম দিন তিনি জামিনে বের হন। এর আগে ৫ নভেম্বর বিকেলে চাষাঢ়া থেকে তাকে গ্রেফতার করে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা।

জামিনে মুক্তি পেয়ে দলীয় বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছেন তিনি। তিনি নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীদের সকল রাজনৈতিক মামলায় বিনা খরচে আইনি সহায়তা দিয়ে থাকেন। তিনি কারাগারে যাওয়ায় দলের অনেক নেতাকর্মীই মামলা নিয়ে পড়ে যান বিপাকে। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের মামলা মোকাদ্দমা দেখাশোনা সহ নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির উচ্চ পদে থাকার পরেও দলটির পক্ষ থেকে তার মুক্তির দাবিতে কোন বিবৃতি দেয়া হয়নি।

কারাগার থেকে বের হয়ে ৫৯ দিনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার চিত্র তুলে ধরে সাখাওয়াত নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, আমি একজন আইনজীবী হয়েও নিম্ন আদালত থেকে জামিন পাইনি এটাই সবচেয়ে দুঃখের বিষয়। অথচ আমি এই আদালতেই আমার কর্মজীবন চালিয়ে যাচ্ছি। এখানেই আমি নিম্ন আদালতের বিচারকদের সাথে আইনি মামলা লড়েছি ও সার্বিক কার্যক্রম করে এসেছি। আমি এই আইনজীবী সমিতির নির্বাচিত সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি ছিলাম।

তিনি নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, আমাকে প্রথমে চাষাঢ়া থেকে ধরে নিয়ে বলা হলো আমি নাকি কোথায় বোমা বা ককটেল মেরেছি বা বাস ভেঙেছি। কিন্তু এমন কোন ঘটনাই ঘটেনি। তবে আমাকে গ্রেফতারের পর নেয়া হলো থানায়। সেখানে বিকাল থেকে পরদিন দুপুর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত আমাকে রাখা হয়েছে থানার কারাগারের সর্ব নিকৃষ্ট স্থানে। এই সময়ে আমাকে কিছুই খেতে দেয়া হয়নি। এমনকি আমাকে দেখতে আসা ব্যক্তিরা যারা আমাকে খাবার দিয়েছে তাদের খাবারও দিতে দেয়া হয়নি। পরিবার কিংবা পরিচিত কারো সাথে আমাকে সাক্ষাতের সুযোগ দেয়া হয়নি। পরে আমাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

‘নারায়ণগঞ্জ কারাগারে আমাকে রাখা হয়েছিল ফাঁসির আসামীদের কনডেম সেলে। সেখান থেকে আমাকে একেবারেই বের হতে দেয়া হয়নি। অথচ আমার পাশেই রুমেই ছিল ৭ খুনের আসামিরা যাদের বিরুদ্ধে আমি আইনি লড়াই লড়েছিলাম। তারা নিয়মিত বের হয়ে আমার সামনে দিয়ে ঘুরাফেরা করতো আর বাজে বাজে মন্তব্য করতো যা বলাটাও আমার পক্ষে অসম্ভব।’

সাখাওয়াত নিউজ নারায়ণগঞ্জকে আরো বলেন, এর মধ্যে আমি হঠাৎ একদিন খুব অসুস্থ বোধ করলে ডাক্তারকে বলি আমার প্রেসার ও ডায়াবেটিক যেন মাপা হয়। কিন্তু সেটা করা হয়নি। এর মধ্যে ফতুল্লা থানার পুলিশ ও প্রিজন ভ্যানও প্রস্তুত। কিন্তু আমার কোন জিনিসও আমাকে আনতে দেয়নি। সেসব জিনিসের অর্ধেকটা লোক দিয়ে আনিয়েছে আর বাকিটা রয়েই গেছে। আমি আমার পরিবার স্বজনদের কারাগার স্থানান্তরের বিষয়টি জানাতে চাইলেও তা দেয়া হয়নি।

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমি ঢাকা কারাগারে গিয়ে প্রথম সেদিন হাটতে বের হলাম আমি নিজেকে সামলাতে পারছিলাম না। সেখানের মাঠে বিএনপির নেতাকর্মীদের শুধু সমাবেশ বললে ভুল হবে এটি আসলে মহাসমাবেশ। ঢাকা কারাগারে আমাদের নেতাকর্মী দিয়ে ভরা। সেখানে বের হলে পল্টনের ময়দান হয়ে যায়। ঢাকার প্রতিটি ওয়ার্ডের নেতাকর্মী কারাগারে জেলা খাটছে। সেখানে হাজার হাজার নেতাকর্মী আমার সাথে কথা বলতে আসে। এভাবে দুদিন পর আমাকে ডেকে জানানো হলো, আমার সাথে এত নেতাকর্মী কথা বলে কেন যদি এমন হয় তাহলে আমাকে এখান থেকে অন্য জেলের কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হবে। এরপর থেকে আর আমাকে বের হতে দেয়া হয়নি। আমি এমনও দেখেছি বাবা ছেলে একসাথে কারাগারে, দুই ভাই কারাগারে শুধু বিএনপি করার অপরাধে। আবার অনেকে বিএনপি করেনা কিন্তু মোবাইলে বিএনপির কোন ছবি ছিল এমন মানুষও সেখানে আছে। অনেকের পরিবার এখনো জানেনা যে তারা কারাগারে।

তিনি আরো বলেন, ‘আমার সাথে ঢাকায় ফজলুল হক মিলন, সাবেক ছাত্রদল নেতা হাসান মামুন, ছাত্রদলের সিনিয়র সহ সভাপতি মামুনুর রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সপু, ঢাকায় কয়েকজন সাবেক কমিশনারসহ অনেকের দেখা হয়েছে সেখানে। আমি তো সেখানের বিএনপি নেতাকর্মীদের অতিথি ছিলাম। তারা তো দিনের পর দিন শুধু রাজনীতি করার কারণে সেখানে মুক্তির প্রহর গুনছেন।


বিভাগ : সাক্ষাৎকার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও