বিএনপি কখনোই ভারত বিদ্বেষী নয় : নজরুল ইসলাম আজাদ

|| সূত্র : নয়াদিগন্ত ০৯:৪৫ পিএম, ২০ মার্চ ২০১৯ বুধবার

বিএনপি কখনোই ভারত বিদ্বেষী নয় : নজরুল ইসলাম আজাদ

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রতিবেশী বন্ধু রাষ্ট্র ভারতের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখেই বিএনপি এগোবে বলে জানিয়েছেন দলটির সহআন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ।  সম্প্রতি ভারতের অবজারভেশন রিসার্চ ফাউন্ডেশন (ওআরএফ) আয়োজিত ‘ভারত সপ্তাহ’ শীর্ষক সাত দিনের এক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে দেশে ফিরে একান্ত আলাপচারিতায় এ মন্তব্য করেন তিনি। সূত্র : নয়াদিগন্ত।

গত ১০ থেকে ১৬ মার্চ অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে অংশ নেয় বাংলাদেশের তরুণ নেতা ও তরুণ সংসদ সদস্যের মধ্যে ২৫ জনের একটি প্রতিনিধি দল। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের তরুণ প্রজন্মের নেতারা এতে প্রতিনিধিত্ব করেন। তারা সপ্তাহব্যাপী এই সফরে ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ, ব্যবসা এবং শিল্পের পাশাপাশি ভারতে নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্ব কৌশলগত স¤প্রদায়, গণমাধ্যমের সাথে মতবিনিময়সহ বৈশ্বিক বাণিজ্য, পরিবর্তনশীল ভূ-অর্থনৈতিক সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন।

বিএনপির হয়ে এই প্রতিনিধি দলে ছিলেনÑ বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ। ১৯৭৬ সালের ১২ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণকারী নজরুল ইসলাম আজাদ ভারতের বেঙ্গালুরুতে কম্পিউটার সায়েন্সে পড়ালেখা শেষে বাণিজ্য বিভাগে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেছেন। গত রোববার সন্ধ্যায় ভারত সফর নিয়ে কথা হয় তার সাথে।

ওআরএফ আয়োজিত ভারত সফরের মূল বিষয়বস্তু কী ছিল? এমন প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম আজাদ বলেন, এই কর্মসূচির উদ্দেশ্যÑ বাংলাদেশের তরুণ এবং উদীয়মান নেতাদের সাথে অভিজ্ঞতা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে উৎসাহ দেয়া। দুই দেশের সাথে বিদ্যমান সম্পর্ককে আরো জোরদার এবং উন্নত করা।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিএনপি কখনোই ভারত বিদ্বেষী নয়। বরং ভারতের সাথে বিএনপির সুসম্পর্ক অনেক পুরনো। বিএনপি সরকারে থাকাকালে ভারতের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি এই সম্পর্ক উন্নয়নে আরো গভীর মনোযোগী ছিল। ভারতের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে নানা উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস ভারত কোনো দল বা ব্যক্তিবিশেষ নয় বাংলাদেশের জনগণের সাথে সুসম্পর্ক তৈরি করবে।

তিনি বলেন, ওআরএফ আয়োজিত এক সপ্তাহের এই কর্মসূচিতে নানাবিধ বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। চার দিন দিল্লি এবং দুই দিন মুম্বাইয়ে সফর করেছি। পাশাপাশি আগ্রার তাজমহলসহ ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা, বাণিজ্যিক কার্যালয় ও বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ পরিদর্শন এবং বিশেষ মধ্যাহ্ন ও নৈশভোজে অংশগ্রহণ করেছি।

নজরুল ইসলাম আজাদ বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান চীন, ভারত, মধ্যপ্রাচ্যসহ প্রতিবেশী ও প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর সাথে কূটনৈতিক ও পারস্পারিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কোন্নয়নে জোর দিয়েছিলেন। সেই থেকে বিএনপি যখনই ক্ষমতায় এসেছে এই সম্পর্কোন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। যারা বলেন, ‘বিএনপি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দুর্বল’ এই কথা ঠিক নয়। আমরা বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে এবং নির্দেশনায় কাজ করে যাচ্ছি। আশা করি আমরা সফল হবো ইনশা আল্লাহ।

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে বিএনপির এই তরুণ নেতা বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ যে নেই এটা গোটা বিশ্ব অবহিত। আমাদের বৃহৎ প্রতিবেশী ও বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র ভারতসহ অন্যান্য রাষ্ট্রগুলোও বাংলাদেশে গণতন্ত্র হত্যার চিত্র দেখেছে। কেননা, বাংলাদেশে গত ৩০ ডিসেম্বর ইলেকশনের নামে সিলেকশন হয়েছে। ভারতও এ ব্যাপারে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। আমরা আশা করি, বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক স¤প্রদায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, প্রতিবেশীদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়ন করা ভারতের একটি অগ্রাধিকার নীতি। এজন্য পর্যবেক্ষক গবেষণা ফাউন্ডেশন (ওআরএফ) এর আমন্ত্রণে ২৫ জন তরুণ নেতা এবং কয়েকজন সংসদ সদস্য ‘ভারত সপ্তাহ’ কর্মসূচিতে অংশ নেয়। ওআরএফ বাণিজ্যসংক্রান্ত বিষয়গুলোর ওপর ভারতের বিভিন্ন থিংকট্যাংকের সাথে মিথস্ক্রিয়া তৈরি করে। ২০১৪ এবং ২০১৬ সালে বাংলাদেশের সংসদ সদস্যদের ফলপ্রসূ সফরের পর ওআরএফ দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরো এগিয়ে নিতে চায়। বিশেষ করে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সংযোগ উন্নত করা।


বিভাগ : সাক্ষাৎকার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও