শ্রমিক লীগের কমিটি নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ সাবেক সভাপতির (ভিডিও)

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৬:২৪ পিএম, ২২ অক্টোবর ২০১৯ মঙ্গলবার

বায়ে মতিন মাস্টার ডানে শুক্কুর মাহমুদ।
বায়ে মতিন মাস্টার ডানে শুক্কুর মাহমুদ।

শ্রমিক লীগের বর্তমান কমিটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সবশেষ কমিটির সভাপতি আবদুল মতিন মাস্টার। তিনি বলেছেন, তার স্বাক্ষর জাল করে শ্রমিক লীগের কমিটি ছিনতাই হয়েছে। স্বাক্ষর জালিয়াতি করেই এ কমিটি হয়েছে। সুতরাং এ কমিটি প্রশ্নবিদ্ধ।

নিউজ নারায়ণগঞ্জের সঙ্গে আলোচনায় এসব কথা বলেন মতিন মাস্টার।

একজন সফল সংগঠক এক সময়ের তুখোড় শ্রমিক লীগ নেতা আবদুল মতিন মাষ্টার বলেন, ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আমরা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছি কিন্তু সুনির্দিষ্ট নেতৃত্বের অভাবে আমরা পারি নাই। ৬৯ থেকে এখন পর্যন্ত শ্রমিক লীগের সাথে আছি। ৭৯ তে আমাকে বানানো হল শ্রমিক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির মেম্বার। তারপর পাট শিল্প শ্রমিক কর্মচারি লীগ নামে জুট মিল সংক্রান্ত একটি কমিটি হলো সে কমিটিতে আমাকে ট্রেজারার নেয়া হলো। শ্রমিক লীগের সম্মেলন যখন আদমজী মাঠে হলো তখন আমাকে সহ সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাখা হলো। পরে জননেত্রী শেখ হাসিনা ৮১ সালের ১৭ এপ্রিল দেশে ফিরার পরে শ্রমিক লীগের কমিটি ভেঙ্গে দেয়া হলো। ২৬ জনের সাংগঠনিক কমিটি করা হলো সেখানেও আমি ৯ নাম্বার মেম্বার ছিলাম। ৮৩ সালে সম্মেলন হলো সেখানে আমাকে আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক করা হলো। ৮৭ তে সম্মেলনে আমাকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হলো। ৯২ তে সম্মেলনে আমি শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সেক্রেটারী নির্বাচিত হই। ৯৫ তে সম্মেলনে সহ সভাপতি নির্বাচিত হই। এরপর ২০০৩ সালে পল্টন ময়দানে কেন্দ্রীয় সম্মেলনে সেখানে আমাকে শ্রমিক লীগের প্রেসিডেন্ট করা হয়। ২০১২ সাল পর্যন্ত আমি প্রেসিডেন্ট ছিলাম এবং অত্যন্ত সততা ও দক্ষতার সাথে সারা বাংলাদেশে যোগাযোগ রেখে আমি সংগঠন করেছি। যখন আমি শ্রমিক লীগের প্রেসিডেন্ট তখন আমার সহকর্মী ছিল আহসান উল্লাহ মাস্টার আমি সেক্রেটারী থাকতে সে জয়েন সেক্রেটারী আমি যখন প্রেসিডেন্ট সে আমার ভাইস প্রেসিডেন্ট।

তিনি আরো বলেন, আহসান উল্লাহ মাষ্টারকে হত্যা করা হলো আন্দোলন সংগ্রাম করলাম। নেত্রী ওয়ান এলেভেনের পর গ্রেফতার হলেন আন্দোলন সংগ্রাম করলাম। সারা বাংলাদেশে শ্রমিক লীগকে প্রতিষ্ঠিত করেছি, যেখানে কমিটি ছিল না সেখানে গিয়েছি। নিজের টাকা খরচ করে সারা দেশে ভ্রমণ করে শ্রমিক লীগের সংগঠনকে দাঁড় করাই। এর মধ্যে দল ক্ষমতায় আসলো শ্রমিক লীগের সম্মেলন সভাপতি হিসেবে সমাপনী অধিবেশন পরিচালনা করছি। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সমাপনী বক্তব্য দিচ্ছি এরই মধ্যে বিভিন্ন টেলিভিশনে ব্রেকিং নিউজে নতুন কমিটি ঘোষণা হয় কিন্তু সভাপতি হিসেবে আমি কমিটি তখনো ভেঙ্গে দেই নাই। ওই কারণে একটু আঘাত পেয়েছি।

আক্ষেপ নিয়ে মতিন মাষ্টার বলেন, সারা জীবন পুলিশ মাথা ফাটিয়েছে, পিঠে মেরেছে, সারা জীবন জেলে গিয়েছি, থানায় নিয়ে আটকিয়ে রেখেছে, বাড়ীতে পুলিশ ধরে এনে মারছে, কোমড়ে দড়ি বেধে মারসে কষ্ট পাই নাই। কষ্ট পেয়েছি তখন, যখন আমি সভার সভাপতি সমাপনী ভাষণ দেওয়া অবস্থায় কমিটির ঘোষণা হয়। আমাকে জিজ্ঞেস না করে এবং তা আমার জননেত্রী শেখ হাসিনাও জানেন না। ১৭ জুলাই ২০১২ পরবর্তিতে ১৯ তারিখ নেত্রীকে জানানো হয় যে কমিটি বানানো হয়েছে। নেত্রী বেলেছেন মতিন মাস্টারের নাম কোথায়? উনাকে জানানো হয় আমার সাথে আলোচনা করে কমিটি বানানো হয়েছে। বলেছেন সেক্রেটারী রমেশের নাম কোথায়? বলা হয় তাকেও জানানো হয়েছে। কিছু লোক কমিটি ব্রেকিং নিউজে দিয়ে দিয়েছে, কমিটি বানিয়ে নেত্রীর নিকট নিয়ে গিয়েছে, আমরা তা জানি না। শ্রম আইন অনুযায়ি সাবেক সভাপতি হিসেবে স্বাক্ষর দিতে হবে নতুন কমিটিতে। আজ পর্যন্ত স্বাক্ষরের জন্য কেউ আসেও নাই দেইও নাই। তারা দুই নাম্বারী করে আমার স্বাক্ষর জাল করে শ্রমিক লীগকে ছিনতাই করে নিয়ে গেছে আমার হাত থেকে। তারপরও আমি বসে থাকিনি, দুঃখটা বুকে রেখে কিন্তু কাজ করে যাচ্ছি শ্রমিকদের জন্য।

আওয়ামী লীগের এই বর্ষীয়ান নেতা বলেন, এখন তো শ্রমিকদের নেতা লাগে না, আমার নেত্রী শ্রমিকদের সব ধরনের সুযোগ সুবিধা দিয়েছেন। শ্রমিকদের ব্যাপারে নেত্রী সবই জানেন বুঝেন যেখানে যা লাগে তিনি তা দিয়ে দেন। এখন আর আন্দোলন করা লাগে না, নেত্রী চাওয়ার আগেই শ্রমিকদের দেন। এখন শ্রমিকেরা ভাল আছে আমি মনে করি। দলের জন্য আমার পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করতে হয়েছে, দলের জন্য আঘাত প্রাপ্ত হয়েছি, গ্রেফতার হয়েছি। একটা জিনিষ জীবনে ভুলবো না আমি যখন বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তখন দেশনেত্রী শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ানকে দিয়ে এক লক্ষ টাকা পাঠিয়েছেন। আমাকে যে মূল্যায়ন করেছেন আমি কৃতজ্ঞ নেত্রীর কাছে। আমি বসে নাই, আমি কাজ করছি। জনগণের কাছে যারা ভাল সে লোকদের দিয়ে দল গঠন করলে দলটা ভাল চলবে। নেত্রী যদি আমাকে দিয়ে কোন কাজ করাতে চান আমি প্রস্তুত আছি। নেত্রী যদি আমাকে কিছুও না দেয় আমি আওয়ামী লীগ করবো করছি। আর মৃত্যুর সময় দয়া করে যদি আওয়ামী লীগের পতাকাটি আমার উপর রেখে মাটি দেয় আমার আত্মা শান্তি পাবে।


বিভাগ : সাক্ষাৎকার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও