আইভীর উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ আগামী ২ বছর

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৭:৫৮ পিএম, ২৩ ডিসেম্বর ২০১৯ সোমবার

আইভীর উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ আগামী ২ বছর

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দ্বিতীয় ভোট গ্রহণের তৃতীয় বর্ষপূর্তি ২২ ডিসেম্বর। ২০১৬ এ দিনে প্রথমবারের মত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে ভোট হয় যেখানে জয়ী হন নৌকা প্রতীকের সেলিনা হায়াৎ আইভী। তাঁর নৌকা ভাসলেও কেটে যায় সাখাওয়াত হোসেন খানের ধানের শীষ। এর আগে ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রথম ভোটেও আইভীর জয় ঘটে। আর এর আগে ২০০৩ সালের ১৬ জানুয়ারী হয় বিলুপ্ত পৌরসভার নির্বাচন সেখানেও ওই সময়ের বিএনপির প্রার্থীকে নাকানি চুবানি খাইয়ে জয়ী হন আইভী।

সম্প্রতি এ ব্যাপারে আইভীর সঙ্গে আলাপকালে তিনি সাফ জানিয়েছেন এবার লক্ষ্য চূড়ান্ত উন্নয়ন। যেসব উন্নয়ন কাজ চলমান আছে সেগুলো দ্রুত ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা। তিনি মনে করেন এ মেয়াদে ইতোমধ্যে ৩ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। বাকি ২ বছর অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন কাজগুলো সমাপ্ত করতে।

সম্প্রতি আইভী বলেন, আমরা নাগরিক সুবিধাও বাড়িয়েছি। খেলার মাঠ সংরক্ষণ করেছি, খালগুলো উদ্ধার করে সেগুলোকে সংরক্ষণ করেছি। নাগরিকবাসীর হাঁটার জায়গা ঘুরার জায়গার ব্যবস্থা করেছি। তার বাইরে নারায়ণগঞ্জ এরিয়ার ভিতরে রেলওয়ে কিংবা রোড অ্যান্ড হাইওয়ের যে সকল জায়গা রয়েছে সেগুলো কোন না কোনভাবে প্রভাবশালীদের দখলে চলে যায়। নারায়ণগঞ্জ ইতিহাস ঐতিহ্যে কোন অংশেই কম ছিল না। নদীর পাশ ঘেঁষে যত জায়গা রয়েছে সবগুলো দখলে কারো না কারো দখলে রয়েছে। তারা কিন্তু সহজেই জায়গা পেয়ে যায়। আমরা কিন্তু স্বায়ত্ত্বশাসন প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও খেলার মাঠের জন্য, স্কুলের জন্য, ট্রাক স্ট্যান্ডের জন্য ও বাস স্ট্যান্ডের জন্য এই জায়গাগুলো চাইলেও পাই না। ফলে নাগরিক সুবিধা যতটুকু দেয়ার দরকার ততটুকু দিতে পারছি না। পরিবেশ কিভাবে দূষণ করে যাচ্ছে সেটা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।

নগরবাসীর উদ্দেশ্যে মেয়র আইভী বলেন, ‘অতিতেও আমার সকলে কাজে নগরবাসী পাশে ছিল ভবিষ্যতেও আমার পাশে থাকবে আমি বিশ্বাস করি। আমার উন্নয়ন কাজ চলমান আছে সেটা চলমানই থাকবে। নারায়ণগঞ্জ মানুষের জন্য আমার উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে।’

মেয়র আইভী বলেন, ৩৪৫ কোটি ৯১ লাখ ৩১ হাজার টাকা ব্যয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণ ব্যবস্থাপনা শীর্ষক প্রকল্পের বিপরীতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীতে ৩০৫ কোটি ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। নগরীতে ময়লা নিয়ে সমস্যার অচিরেই সমাধান করা হবে। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য জালকুড়িতে ২৩.২৮ একর জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ইতিমধ্যে জমি আমাদেরকে জেলা প্রশাসন থেকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। বালু ভরাট ও দেয়াল নির্মাণের টেন্ডার আহবান করা হয়েছে। স্থায়ী ডাম্পিং গ্রাউন্ড নির্মাণের লক্ষ্যে অবশিষ্ট ৪০ কোটি ৭৯ লাখ ৮১ হাজার টাকা ব্যয়ে ভূমি উন্নয়ন, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ও যানবাহন ক্রয় খাতে ব্যয় করা হবে। এছাড়া দৈনিক ৫০০ টন বর্জ্য হতে ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সাথে সমঝোতা চুক্তি সাক্ষরিত রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ শহরে ৬টি বহুতল বিশিষ্ট পরিচ্ছন্ন কর্মী নিবাস নির্মিত হতে যাচ্ছে। যার মধ্যে টানবাজারে ২টি, ইসদাইরে ২টি ও ১৭নং ওয়ার্ডে ২টি। ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাবুরাইল খালকে আধুনিকায়তন করা হচ্ছে। যার মধ্যে ইতিমধ্যে ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। শহরের দেওভোগে প্রস্তাবিত শেখ রাসেল পার্কের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জে ১২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে লেক উন্নয়নের কাজ চলমান রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন অনুষ্ঠান করার জন্য উন্মুক্ত মঞ্চও থাকবে।

জাইকা ও জিওবি’র আর্থিক সহযোগিতায় সিটি গর্ভানেন্স প্রকল্পের (সিজিপি) অধীনে ৪০০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ গত দুই বছর ধরে চলমান রয়েছে। এছাড়া প্লাষ্টিক বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন প্লান্ট নির্মাণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। এই জ্বালানি তেল সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন যানবাহনে ব্যবহৃত হবে।

তিনি আরো বলেন, নারায়ণগঞ্জ শহর ও বন্দরবাসীর সেতুবন্ধন স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৭ বছরেও হয়নি। নারায়ণগঞ্জবাসীর বহুল প্রতিক্ষিত শীতলক্ষ্যা সেতুর নির্মাণ কাজ ২০১৮ সালের ৯ অক্টোবর একনেক সভায় অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ৫৯০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সরকারের অর্থায়নে ১৩৮৫ মিটার দৈর্ঘ্যে ও ১২.৫ মিটার প্রস্থ বিশিষ্ট সেতুটি নগরীর ৫নং ঘাটে নির্মিত হবে। ইতোমধ্যে কনসালট্যান্ট নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। আশা করছি অচিরেই প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন সম্ভব হবে। উক্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ২০১৯-২০ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীতে (এডিপি) ১৮২.৭৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। জুন ২০২২ সালের মধ্যে ব্রিজটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে।

আইভী বলেন, আমরা চাই ৭ খুনের নেগেটিভ ইমেজ থেকে বেরিয়ে পজেটিভ নারায়ণগঞ্জ গড়তে। এজন্য আমি সকলের সহযোগিতা চাই। সাধারণ মানুষের উন্নয়নের জন্য যে কারো সঙ্গে একই প্ল্যাটফরমে আসতে রাজি আছি তবে অন্যায়ের পক্ষে কারো সঙ্গে জোট বাধতে রাজী না। আমি সাধারণ মানুষকে সেবা দেয়ার জন্য দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে করি তবে আমি যেহেতু আওয়ামীলীগের পরিবারের সন্তান সেহেতু আমি দলের জন্যও কাজ করি।


বিভাগ : সাক্ষাৎকার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও