ত্বকী হত্যার বিচার নিয়ে বিশিষ্টজনদের ক্ষোভ হতাশা আক্ষেপ

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:৩৯ পিএম, ৫ মার্চ ২০২০ বৃহস্পতিবার

ত্বকী হত্যার বিচার নিয়ে বিশিষ্টজনদের ক্ষোভ হতাশা আক্ষেপ

২০১৩ সালের ৬মার্চ বিকেলে ত্বকী শহরের শায়েস্তা খান সড়কের বাসা থেকে বেরিয়ে রাতেও বাসায় ফিরে আসেনি। পরে ৮ মার্চ সকালে শহরের চারারগোপে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে ত্বকীর লাশ পাওয়া যায়। সে রাতেই নারায়ণগঞ্জ মডেল সদর মডেল থানায় দায়ের করা মামলায় রাব্বি উল্লেখ করেন, আমার অতীত ও বর্তমান বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে আমার ভূমিকার কারণে কোন কোন মহল এ হতাকান্ডটি ঘটিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মামলাটি পরে র‌্যাবে বদলী করা হয়। কিন্তু ৭ বছরেও কোন অগ্রগতি নাই।

ত্বকী হত্যার বিচার চেয়ে প্রতি মাসেই মোমশিখা প্রজ্জলন, সমাবেশ করে চলেছে সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চ, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট সহ বিভিন্ন সংগঠন। মৃত্যুবার্ষিকীর মাসে মার্চে কর্মসূচীর পরিধিও থাকে একটু বেশী। তবে এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের অনুষ্ঠানে হামলাও হয়েছে কয়েক বার।

নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহাবুবুর রহমান মাসুম বলেন, ত্বকী হত্যার বিচার না হওয়াটা দেশ ও জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জার ব্যাপার। কোনো গণতান্ত্রিক সভ্য দেশে এমন একটি হত্যাকান্ডের বিচার প্রক্রিয়া বছরের পর বছর থেমে থাকতে পারে না। এতে প্রমাণ হয়, দেশে এখনো সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ত্বকী হত্যাকান্ডে প্রভাবশালী সন্ত্রাসী গডফাদাররা জড়িত থাকায় এর বিচার হচ্ছে না দাবি করে তিনি বলেন, আমরা আশা করছি সরকার ত্বকী হত্যার সুবিচার করে দেশে সুশাসনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

সামাজিক ও অরাজনৈতিক সংগঠন ‘আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী’ এর সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা নূর উদ্দিন বলেন, ‘সাত বছরেও ত্বকী হত্যার বিচার হবে না সেটা আইনের শাসনের পরিপন্থি। বিচার পাওয়ার অধিকার আমাদের সবার আছে। সবার বিচার হয় এটা হচ্ছে না তার মানে এখানে কারো কালো হাত রয়েছে যাতে বিচার না হয়। যাতে একদিন আমরা ভুলে যাই। কিন্তু ত্বকী হত্যার বিচার হতে হবে। তারা যত ক্ষমতাবান হোক আজকে বিচার আটকে রাখলেও একদিন বিচার ঠিকই হবে। র‌্যাব একটি খসড়া প্রকাশ করেছিল ত্বকী হত্যায় কারা জড়িত, সে হিসেবে ত্বকী হত্যার মূল আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আবার অনেকে পালিয়ে গেছে। তাই প্রশাসনের কাছে জোর দাবি তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক। অপরাধী ঘুরে বেড়াবে আর ভুক্তভোগী বিচার পাবে না এ সংস্কৃতি হলে নগরবাসী তথা নগরের বাইরে যারা আছে আমরা সকলেই শংকিত। কারণ আমার সন্তানেরও ক্ষতি হতে পারে তখন আমিও বিচার পাবো না। সুতরাং এ ধরনের প্রবণতা শুধু নগরবাসী জন্য নয় জাতির জন্য ক্ষতি কারণ।’

সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচিব হালিম আজাদ বলেন, ৩০ এপ্রিল ২০১৪ সংসদ সদস্য নাসিম ওসমান মৃত্যুবরণ করলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী ওসমান পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতির কথা জানান এবং এর পর থেকেই কার্যত ত্বকী হত্যার তদন্ত কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এখন একদিকে ঘাতক আজমেরী ওসমান প্রশাসনের সামনেই বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে, অন্যদিকে শামীম ওসমান ত্বকী হত্যার বিচারপ্রার্থীদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে নিবৃত করতে ব্যর্থ হয়ে তাদেরকে হামলা করে, মামলাদিয়ে নির্যাতনের বিভিন্ন পথ অব্যাহত রেখেছে। বহু সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কর্মী বিভিন্ন সময় তার হামলার শিকার হয়েছে, রক্তাক্ত হয়েছে, রবীন্দ্রজয়ন্তী সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তারা হামলা চালিয়েছে। শামীম ওসমান নিজের স্ত্রী সহ বিভিন্ন আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠজনদের দিয়ে ত্বকীর পিতা রফিউর রাব্বির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করিয়েছে; তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ম-অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ এনে হেফাজতে ইসলামকে দিয়ে মামলা করিয়েছে, তাদের নিয়ন্ত্রিত মসজিদে মসজিদে মিথ্যা খুতবা দিয়ে জনতাকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করেছে, হেফাজতকে দিয়ে মিছিল করিয়েছে আবার সে মামলায় যাতে আদালতে যেতে না পারেন তার জন্য হেফাজত ও তার অনুগত ছাত্রলীগ-যুবলীগ পরিচয়ধারী ক্যাডারদের দিয়ে আদালত প্রাঙ্গনে লাশ চাই, কল্লা চাই বলে মহড়া দিয়েছে। হেফাজতকে নিয়ে সমাবেশ করে কতল করারও হুমকী দিয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের কমিটির সভাপতি ভবানী শংকর রায় বলেন, এমন একটি মেধাবী ছাত্রকে হত্যা করা হলো অথচ রাষ্ট্রের কোনো সুবিচার করছে না। দেশে আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে না। এভাবে একটি রাষ্ট্র চলতে পারে না। ত্বকী হত্যার বিচার এখন পর্যন্ত না হওয়ার কারণে রাষ্ট্র ও সরকার প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।


বিভাগ : সাক্ষাৎকার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও