৩০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, শুক্রবার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ , ২:৫১ পূর্বাহ্ণ

চঞ্চলের জন্য ভাইয়ের আবেগময় স্ট্যাটাস, বেঁচে থাকলে ইনবক্স ভরতো


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:০৯ পিএম, ৪ ডিসেম্বর ২০১৭ সোমবার | আপডেট: ০২:০৯ পিএম, ৪ ডিসেম্বর ২০১৭ সোমবার


চঞ্চলের জন্য ভাইয়ের আবেগময় স্ট্যাটাস, বেঁচে থাকলে ইনবক্স ভরতো

দিদারুল ইসলাম চঞ্চল বেঁচে থাকলে ৪ ডিসেম্বর দিনটি তার জন্য থাকতো অন্য রকম দিন। কারণ এদিন সে ভূমিষ্ট হয়েছিল এ পৃথিবীতে। বেঁচে থাকা সময়ে দিনের প্রহর রাতে শুরু হওয়ার আগেই মোবাইলের ইনবক্স ভরে শুভ কামনায়। সময় যত গড়াতো ততই ক্ষুদে বার্তার সংখ্যাও বাড়তো। দুপুরের পর গোধূলী লগ্ন আর সন্ধ্যার পর নেমে আসা আঁধারে ছোট অনুষ্ঠানে উজ্জল নক্ষত্র হয়ে থাকতো চঞ্চল। কিন্তু সে আজ নেই। তাই পরিবারে নেই জন্মদিনের কোন আমেজ। বরং এদিন অশ্রুসিক্ত নয়নে নোনা জল ফেলে পুরানো সেই স্মৃতি নাড়া দিত পরিবারের লোকজনদের। সর্বদা গায়ে পিটে থাকা ছোট ভাই জোবায়ের ইসলাম পমেলের কষ্টটা একটু বেশী।

বেঁচে থাকলে ৪ ডিসেম্বর চঞ্চল পা দিত ২৫ বছরে। আজ এই দিনে হয়তো অনেকেই তাকে শুভেচ্ছা জানাত। হয়তো তার মোবাইলের ইনবক্স ভরে যেত তার শুভ কামনায়। নিজের জন্মদিনে চঞ্চলতা একটু বেশিই থাকত তার।

তার ভাই জোবায়ের ইসলাম পমেল জানান, ‘ওকে পাবো না আর কোন দিন আমরা। খুন করে দিল তার স্বপ্নভরা জীবনটাকে। নিরব, নিস্তব্দ এখন ওর ঘরটা আর কোন দিন ফিরে পাবে না প্রাণচাঞ্চল্য। সুমিষ্ট বাশির আওয়াজ শোনা যাবে না এই ঘর থেকে নির্জন রাতে। তার পোশাকগুলো এখন সযতেœ রাখা আলমারিতে। ভাই তো কোনদিন আর ফিরে আসবেনা আমাদের মাঝে। কিন্তু সোমবার ছিল আমার প্রাণ প্রিয় ভাইটির জন্মদিন। জন্মদিন সবার কাছেই আনন্দের কিন্তু ওকে ছাড়া আমাদের কাছে তা শুধুই কষ্টের ও বেদনার।’

নিহত দিদারুল ইসলাম চঞ্চল নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজের অনার্স বাংলা বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। মাত্র ২০ বছর বয়সেই চঞ্চল একজন সফল নাট্যকার হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। তিনি নারায়ণগঞ্জ ঐকিক থিয়েটারের একজন সক্রিয় সদস্যও ছিলেন। ক্ষনজন্মা এই নাট্যকার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শত মানুষের হাজার স্বপ্ন, হাড় তরঙ্গ এবং বক্তাবলী নামে ৩টি নাটক রচনা করেছেন।

২০১২ সালের ১৩ জুলাই মুক্তিযুদ্ধের ৪০ বছর উপলক্ষে ঢাকা শিল্প কলা একাডেমিতে যে ১০০টি মুক্তিযুদ্ধের নাটক মঞ্চস্থ হয় তার মধ্যে চঞ্চলের রচিত ‘বক্তাবলী’ নাটকটিও মঞ্চস্থ হয়। ওই নাটকের জন্য চঞ্চল প্রশংসিত হন এবং নিদর্শন হিসেবে একটি ক্রেষ্ট ও ৫ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়।   কি কারণে কেন তাঁর ছেলেকে চলে যেতে হলো না ফেরার দেশে এ প্রশ্নটির উত্তর আজো খুঁজে ফিরছেন চঞ্চলের মা রুবিনা বেগমের। আদরের ধন বুকের মানিকের ঘাতকদের বিচার কি দেখে যেতে পারবেন এমন প্রশ্ন মা রুবিনা বেগমের। ক্ষোভ আর হতাশায় ভারাক্রান্ত তাঁর মন।

নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলএনএ রোডের আওলাদ হোসেন ও মা খালেদা আক্তার রুবিনার ছেলে দিদারুল ইসলাম চঞ্চল। ১৯৯২ সালের ৪ ডিসেম্বর চঞ্চল জন্মগ্রহন করে। ৪ ভাই ও ১ বোনের মধ্যে চঞ্চল ২য়।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

সাহিত্য-সংস্কৃতি -এর সর্বশেষ