৩০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, শুক্রবার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ , ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ

ঝুলে আছে নাট্যকার চঞ্চল হত্যা মামলা


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:২৬ পিএম, ৫ ডিসেম্বর ২০১৭ মঙ্গলবার | আপডেট: ০২:২৬ পিএম, ৫ ডিসেম্বর ২০১৭ মঙ্গলবার


ঝুলে আছে নাট্যকার চঞ্চল হত্যা মামলা

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত একটি হত্যাকা- দিদারুল ইসলাম চঞ্চল। তিনি ছিলেন দেশের একজন প্রতিশ্রতিশীল তরুণ নাট্যকার, অভিনেতা ও সঙ্গীতশিল্পী ছিলেন। মাত্র ২০ বছর বয়সেই চঞ্চল একজন সফল নাট্যকার হিসেবে খ্যাতি অর্জন করে। সে নারায়ণগঞ্জ ঐকিক থিয়েটারের একজন সক্রিয় সদস্যও ছিল। কিন্তু হত্যার ৫ বছরেও কোন কূলকিনারা হয়নি।

ক্ষণজন্মা এই নাট্যকার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ‘শত মানুষের হাজার স্বপ্ন’, ‘হাড় তরঙ্গ’ এবং ‘বক্তাবলী’ নামে তিনটি নাটক রচনা করে। নিখোঁজ হওয়ার মাত্র তিন দিন আগে ২০১২ সালের ১৩ জুলাই মুক্তিযুদ্ধের ৪০ বছর উপলক্ষে ঢাকা শিল্পকলা একাডেমিতে যে ১০০টি মুক্তিযুদ্ধের নাটক মঞ্চস্থ হয় তার মধ্যে চঞ্চলের রচিত ‘বক্তাবলী’ নাটকটিও মঞ্চস্থ হয়। ওই নাটকের জন্য শ্রেষ্ঠ নাট্যকার হিসেবে পুরস্কৃত করা হয় তাকে। ২০১২ সালের ১৬ জুলাই গভীর রাতে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় চঞ্চল। ওই রাত ৩টায় চঞ্চল, তার বন্ধু মীম প্রধান, রাকিব ও শফিক একত্রে নগরীর ২নং রেলগেট এলাকার একটি দোকানে চা-নাশতা খেয়েছিল। নিহত চঞ্চলের মোবাইলে রাত ৩টা ৯ মিনিটে সর্বশেষ কল করেছিল মীম প্রধানের আত্মীয় মেহেদী হাসান রোহিত। সে মীমের সঙ্গে তাকে দেখা করতে বলে। এরপর থেকে চঞ্চল নিখোঁজ হয়।

পরে ১৮ জুলাই শীতলক্ষ্যা নদীতে বন্দর উপজেলার শান্তিনগর এলাকা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে চঞ্চলের লাশ উদ্ধার করে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করে ফেলে পুলিশ। খবর পেয়ে ১৯ জুলাই লাশের ছবি ও পরিধেয় কাপড় দেখে উদ্ধার করা লাশটি চঞ্চলের বলে শনাক্ত করে নিহতের বড় ভাই জোবায়ের ইসলাম পমেল। প্রথমে পুুলিশ এ মামলাটির তদন্ত কাজ শুরু করলেও উল্লেখযোগ্য কোন অগ্রগতি না হওয়ায় তদন্তভার পরবর্তীতে ডিবিতে অর্পন করা হয়।

পরে গত বছরের অক্টোবরে চঞ্চল হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত ৫জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা। ওই ৫জন হলেন চঞ্চলের বন্ধু মেহেদি হাসান রুহিত, মীম প্রধান, রাকিব, রাশেদ, শফিক। পরে নিহতের পরিবারের অভিযোগপত্রের (চার্জশিট) বিরুদ্ধে বাদীর না রাজী পিটিশন মঞ্জুর করেছেন আদালত। একই সঙ্গে আদালত মামলাটি পুনরায় তদন্ত করতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছেন।

”ঞ্চলের ভাই যোবায়ের পমল জানান, মামলাটি এখন সিআইডি তদন্ত করছে।

দিদারুল ইসলাম চঞ্চল বেঁচে থাকলে ৪ ডিসেম্বর দিনটি তার জন্য থাকতো অন্য রকম দিন। কারণ এদিন সে ভূমিষ্ট হয়েছিল এ পৃথিবীতে। বেঁচে থাকা সময়ে দিনের প্রহর রাতে শুরু হওয়ার আগেই মোবাইলের ইনবক্স ভরে শুভ কামনায়। সময় যত গড়াতো ততই ক্ষুদে বার্তার সংখ্যাও বাড়তো। দুপুরের পর গোধূলী লগ্ন আর সন্ধ্যার পর নেমে আসা আঁধারে ছোট অনুষ্ঠানে উজ্জল নক্ষত্র হয়ে থাকতো চঞ্চল। কিন্তু সে আজ নেই। তাই পরিবারে নেই জন্মদিনের কোন আমেজ। বরং এদিন অশ্রুসিক্ত নয়নে নোনা জল ফেলে পুরানো সেই স্মৃতি নাড়া দিত পরিবারের লোকজনদের। সর্বদা গায়ে পিটে থাকা ছোট ভাই জোবায়ের ইসলাম পমেলের কষ্টটা একটু বেশী।

বেঁচে থাকলে ৪ ডিসেম্বর চঞ্চল পা দিত ২৫ বছরে। আজ এই দিনে হয়তো অনেকেই তাকে শুভেচ্ছা জানাত। হয়তো তার মোবাইলের ইনবক্স ভরে যেত তার শুভ কামনায়। নিজের জন্মদিনে চঞ্চলতা একটু বেশিই থাকত তার।

তার ভাই জোবায়ের ইসলাম পমেল জানান, ‘ওকে পাবো না আর কোন দিন আমরা। খুন করে দিল তার স্বপ্নভরা জীবনটাকে। নিরব, নিস্তব্দ এখন ওর ঘরটা আর কোন দিন ফিরে পাবে না প্রাণচাঞ্চল্য। সুমিষ্ট বাশির আওয়াজ শোনা যাবে না এই ঘর থেকে নির্জন রাতে। তার পোশাকগুলো এখন সযতেœ রাখা আলমারিতে। ভাই তো কোনদিন আর ফিরে আসবেনা আমাদের মাঝে। কিন্তু সোমবার ছিল আমার প্রাণ প্রিয় ভাইটির জন্মদিন। জন্মদিন সবার কাছেই আনন্দের কিন্তু ওকে ছাড়া আমাদের কাছে তা শুধুই কষ্টের ও বেদনার।’

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

সাহিত্য-সংস্কৃতি -এর সর্বশেষ