১০ বৈশাখ ১৪২৫, সোমবার ২৩ এপ্রিল ২০১৮ , ৭:২৭ অপরাহ্ণ

Kothareya1150x300

চাষাঢ়া শহীদ মিনারের পাশে ইংরেজি সাইনবোর্ডে উদ্বেগ


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:৪৪ পিএম, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ শুক্রবার | আপডেট: ০৩:৪৪ পিএম, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ শুক্রবার


চাষাঢ়া শহীদ মিনারের পাশে ইংরেজি সাইনবোর্ডে উদ্বেগ

নারায়ণগঞ্জের সংস্কৃতজন হিসেবে পরিচিত রফিউর রাব্বি লেখা ‘নারায়ণগঞ্জে ভাষা আন্দোলন’ বইটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এসে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া শহীদ মিনারের চার পাশে ইংরেজিতে লেখা সাইনবোর্ড ও ব্যানার ফেস্টুন দেখে কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছে দেশবরেণ্য চিত্র শিল্পী এবং ভাষা সৈনিক মুস্তফা মনোয়ারের কণ্ঠে। ভাষা আন্দোলনে এ শহীদ মিনারের আশেপাশে অনেক আন্দোলন স্মৃতি জড়িত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শহীদ মিনারের চারপাশে আশে ১৪টি ইংরেজি লেখা দেখতে পারছি বিভিন্ন স্থানে। অন্তত শহীদ মিনারের আশেপাশে এসব শব্দ না থাকাটাই ভালো ছিল। এগুলো থাকলে তো আর বাংলা ভাষাকে পরিপূর্ণভাবে কায়েম করা যাবে না।

৯ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ নগরের চাষাঢ়া শহীদ মিনারে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট মোড়ক উন্মোচনের আয়োজন করে। বইটির মোড়ক উন্মোচনের পর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনায় অংশ নেন, দেশবরেণ্য চিত্র শিল্পী এবং ভাষা সৈনিক মুস্তফা মনোয়ার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন ও শওকত আরা হোসেন, ভবানী শঙ্কর রায় এবং হালিম আজাদ। এছাড়া বইটির লেখক রফিউর রাব্বি বইটির বিষয়ে তার অভিব্যক্তি এবং মূল্যায় তুলে ধরেন।

মুস্তফা মনোয়ার আলোচনায় বলেন, পাকিস্তান আমলে উর্দুকে পবিত্র ভাষা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু পৃথিবীর কোন ভাষাই পবিত্র কিংবা অপবিত্র নয়। বাংলা ভাষা মনের অবিব্যক্তি প্রকাশ্যে অনন্য। তিনি বাংলা ভাষাকে বৈজ্ঞানিক ভাষা হিসেবেও উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, রবীন্দ্র নাথ, নজরুল ইসলামরা এমন ভাবে বাংলা ভাষাকে ধরলেন, যা অত্যন্ত গোপনে নিজের অজান্তেই বাংলা ভাষা আমাদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে। ইংরেজীতে সাইনবোর্ড পরিহার করা যায় কিনা তা ভেবে দেখার সময় এসেছে।

নারায়ণগঞ্জ থেকে ভাষা আন্দোলনে সম্পৃক্ত থাকার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে দেশ বরণ্যে এই চিত্র শিল্পী বলেন, সে সময় আমি নবম শ্রেণীর ছাত্র ছিলাম। আন্দোলন করতে গিয়ে নিজের গ্রেফতার হওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, তখন হাজতখানায় পুলিশের মার থেকে আমাদের ৩ স্কুল ছাত্রকে রক্ষা করেছিলেন ওই সময়ের ছাত্র নেতা শফি হোসেন খান।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, লক্ষ মায়ের মিলিত ভাষাই মাতৃ ভাষা, বাংলা ভাষা। সেখানে আমার মা-ও রয়েছেন। এ ভাষা রবীন্দ্র নাথ, নজরুল ইসলাম, লালনের ভাষা-আমাদের প্রিয় ভাষা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, অনেকেই সেদিন ভাষা আন্দোলনে সম্পৃক্ত হলেও তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

সাহিত্য-সংস্কৃতি -এর সর্বশেষ