‘ওসমান পরিবার জড়িত থাকায় অভিযাগপত্র প্রদান করছে না’

সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৩৮ পিএম, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ শুক্রবার



‘ওসমান পরিবার জড়িত থাকায় অভিযাগপত্র প্রদান করছে না’

নারায়ণগঞ্জের মেধাবী ছাত্র চাঞ্চল্যকর তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যাকাণ্ডের ৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ৪দিনের কর্মসূচী ঘোষণা করেছে তার মৃত্যুর পর বিচারের দাবীতে গঠিত সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চ।

২৩ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বিকেলে ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচিব হালিম আজাদ প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব কর্মসূচী জানানো হয়।

কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে ৬ মার্চ তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীর কবর জিয়ারত, ৭ মার্চ নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনস্টিটিউটে শিশু সমাবেশ ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযাগিতা, ৮ মার্চ সকাল দশটায় জাতীয় প্রেসক্লাবে গোলটেবিল বৈঠক, ৯ মার্চ নারায়ণগঞ্জ শহরে সমাবেশ।

নিহতের বাবা রফিউর রাব্বি জানান, আগামী ৬ মার্চ তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার পাঁচ বছর। এই পাঁচ বছরেও ত্বকী হত্যার অভিযাগপত্র আদালত প্রদান করা হয় নাই। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী অপরাধ সংঘটনের ৯০ দিনের মধ্যে আদালতে অভিযাগপত্র প্রদানের বাধ্যবাধকতা থাকলেও পাঁচ বছরও ত্বকী হত্যার অভিযাগপত্র দেয়া হয় নাই। এ হত্যাকা-ে ওসমান পরিবার জড়িত থাকার কারণেই অভিযাগপত্র প্রদান করা হচ্ছে না বলে মনে করি। আর তাই হত্যাকা-ের সকল রহস্য উদঘাটিত হবার পরও আদালতে অভিযাগপত্র দিয়ে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা হয় নাই। এটাকে আমরা সুশাসন বা স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা নজির মনে করি না। এটা সরকারের পক্ষপাতমূলক বিচার প্রক্রিয়ার একটি নির্লজ্জ উদাহরণ।

প্রসঙ্গত তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ রক্ষা জাতীয় কমিটি জেলা শাখার আহবায়ক ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বির দুই ছেলের মধ্যে বড় ছিল তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। সে শহরের চাষাঢ়ায় ইংলিশ মিডিয়াম এবিসি ইটারন্যাশনাল স্কুলের ছাত্র ছিল। ২০১৩ সালর ৭মার্চ (নিখোঁজের একদিন পর ও লাশ উদ্ধারের একদিন আগে) এ লেভেল পরীক্ষার রেজাল্টে পদার্থ বিজ্ঞান ৩০০ নম্বরের মধ্য ২৯৭ পেয়েছিল যা সারাদেশে সর্বোচ্চ। এছাড়া সে ও লেভেল পরীক্ষাতেও পদার্থ বিজ্ঞান ও রসায়ন পরীক্ষাতে দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছিল।

২০১৩ সালের ৬ মার্চ বিকেলে ত্বকী শহরের শায়েস্তা খান সড়কের বাসা থেকে বেরিয়ে ফিরে আসেনি। পরে ৮ মার্চ সকালে শহরের চারারগোপ শীতলক্ষ্যা নদীর তীর থেকে ত্বকীর লাশ পাওয়া যায়। সে রাতেই নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় দায়ের করা মামলায় বাবা রফিউর রাব্বি উল্লেখ করেন, আমার অতীত ও বর্তমান বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে আমার ভূমিকার কারণে কোন কোন মহল এ হতাকান্ডটি ঘটিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মামলায় কারো নাম উল্লেখ করা হয় নাই।

ত্বকী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় র‌্যাব ইউসুফ হোসেন লিটন, সুলতান শওকত ভ্রমর, তায়েব উদ্দীন জ্যাকি ও সালেহ রহমান সীমান্ত নামের চারজনকে গ্রেফতার করে। ২০১৪ সালের ২০ মার্চ জামিনে মুক্তি পেয়ে আত্মগোপনে আছেন ভ্রমর। আদালত ভ্রমরের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি রেখেছে। সীমান্ত কারাগারে আর লিটন ও জ্যাকি জামিনে আছেন।

ত্বকী হত্যার বিচার চেয়ে প্রতি মাসেই মোমশিখা প্রজ্জলন, সমাবেশ করছে সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চ, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট সহ বিভিন্ন সংগঠন।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও