১ শ্রাবণ ১৪২৫, মঙ্গলবার ১৭ জুলাই ২০১৮ , ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ

প্রথম প্রতিরোধে নামের তালিকা সম্বলিত স্মৃতিফলক করার দাবি


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:৩৭ পিএম, ২৭ মার্চ ২০১৮ মঙ্গলবার | আপডেট: ০৩:৩৭ পিএম, ২৭ মার্চ ২০১৮ মঙ্গলবার


প্রথম প্রতিরোধে নামের তালিকা সম্বলিত স্মৃতিফলক করার দাবি

২৭ মার্চ মঙ্গলবার ছিলো নারায়ণগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ ও হত্যাযজ্ঞ দিবস। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামের এই দিনে নারায়ণগঞ্জে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়েছিল। এই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছিলেন জানা অজানা অনেক মানুষ। আজও তাদের স্বীকৃতি মিলেনি। হয়নি কোন নাম সম্বলিত স্মৃতিফলক।

২৭ মার্চ মঙ্গলবার বিকেলে মাসদাইর কবরস্থান এলাকায় অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধের স্মতিস্তম্ভে নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজিত শ্রদ্ধাঞ্জলী ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ করছিলেন তখনকার শহীদ জসিমউল হক ও তাঁর স্ত্রী লাইলা হকের কন্যা ফারজানা হাসনাত। অঝোর ধারায় পানি ঝরছিল চোখ দিয়ে। কান্নার জন্য ঠিকমতো কথাও বলতে পারছিলেন না। তার স্মৃতিতে ৭১ নেই, হৃদয়ে ৭১ নিয়ে বয়ে বেড়াচ্ছেন। মাত্র ২ বছর বয়সেই হারিয়েছিলেন বাবা মাকে। তার মা তাকে আদর করে কখনো মাটিতে নামাতেন না। সবসময় তাকে কোলেই রাখতেন। কিন্তু পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী তাকেসহ তার পুরো পরিবারকেই মাটিতে নামিয়ে গেলেন।

‘তারা তিন ভাই-বোন। বড় বোন শারমিন, ভাই জামিল, তিনি বোবা কথা বলতে পারেন না। তাদের মা সবসময় নিজে সেলাই করে কাপড় পরিধান করাতেন। যেই কাপড় দিয়ে পরে পাকিস্তানী সৈন্যদের গুলিতে আহত মায়ের রক্ত থামাতে চেয়েও ব্যর্থ হয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত বাবা-মায়ের ক্ষত-বিক্ষত লাশ ফেলে রেখেই অজানা উদ্দেশ্যে পাড়ি দিতে হয়েছিল তাদের।’

ফারজানা হাসনাত বলেন, স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরেও আমাদের যুদ্ধ থামেনি। আমাদেরকে এখনো যুদ্ধ করে বেঁচে থাকতে হচ্ছে। কখনো কাউকে বুঝতে দেয়নি আমাদের কষ্ট, কেউ দেখে বুজবেও না আমরা কতটুকু কষ্টে আছি। জীবনের কঠিন সময় পাড়ি দিতে হয়েছে। আমাদের কাছে কেউ কখনো জানতে চাইনি আমাদের কথা। আমাদের মামাতো বোন হীরা অনেক সহযোগিতা করেছেন। তার বাবাও একজন ভাষা সৈনিক ছিলেন। আপনারা আমাদের বাবা-মার জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ যেন তাদের বেহেস্ত নসিব করেন।

স্মৃতিচারণ করছিলেন ব্যাংক কর্মকর্তা শহীদ শরিয়তউল্লাহ কন্যা ফাহমিদা আজাদ। তিনি বলেন, শহীদ পরিবারের সন্তান হিসেবে সম্মান পাওয়াটা আমাদের অধিকার। বর্তমানে নকল মুক্তিযোদ্ধাদের ভিড়ে আসল মুক্তিযোদ্ধারা হারিয়ে যাচ্ছে। শহীদ সদস্যদের তালিকা সম্বলিত স্মৃতিফলক করার জন্য কেন বার বার বলতে হবে। আমাদের চোখে আর পানি আসে না। আমরা এখন সবসময় হাসি। আর এটাই আমাদের প্রতিবাদ।

প্রথম প্রতিরোধে নামের তালিকা সম্বলিত স্মৃতিফলক করার দাবি
নারায়ণগঞ্জে প্রথম প্রতিরোধ ও হত্যাযজ্ঞ দিবস পালিত হয়েছে। ২৭ মার্চ মঙ্গলবার মাসদাইর কবরস্থান এলাকায় অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধের স্মতিস্তম্ভে নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা সভাপতি রফিউর রব্বী, জেলা খেলাঘরের সভাপতি রতিন চক্রবর্তী, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি হালিম আজাদ, বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টি জেলা সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, জেলা ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি হাফিজুর রহমান, ন্যাপ জেলা সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন, শহীদ পরিবার কল্যাণ সমিতির সভাপতি মজিবুর রহমান, শহীদ পরিবারের সন্তান ফাহমিদা আজাদ, ফারজানা হাসনাত, শারমিন, জামিলসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে রফিউর রাব্বী বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ পরিবারের কান্না এখনো থামেনি। মুক্তিযোদ্ধের চেতনা ধারণ করে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় বসে আছে। সাধারণ জনগণ স্বাধীনতার সুফল এখনো পায়নি। তাই আমাদের দাবি থাকবে আগামী ২৭ মার্চের আগেই স্মৃতিফলক তৈরি করতে হবে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

সাহিত্য-সংস্কৃতি -এর সর্বশেষ