১০ আশ্বিন ১৪২৫, বুধবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ১:৫০ পূর্বাহ্ণ

নারায়ণগঞ্জের হল বিমুখ সিনেমা প্রেমীরা


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:০৮ পিএম, ২৭ এপ্রিল ২০১৮ শুক্রবার


নারায়ণগঞ্জের হল বিমুখ সিনেমা প্রেমীরা

নারায়ণগঞ্জ সহ এর আশপাশের উপজেলাগুলোতে সিনেমা হল গড়ে উঠেছে দর্শকের চাহিদার উপর ভিত্তি করে। গড়ে ওঠা এসব সিনেমা হলগুলোই একসময় ছিল চিত্তবিনোদনের একমাত্র মাধ্যম। সে সময় সাধারণ মানুষ সিনেমা দেখতে দলবেধে সিনেমা হলগুলোতে যেতেন। কিন্তু বর্তমানে দর্শকের অভাবে দিনে মাত্র দু-একটি প্রদর্শনী চালিয়ে থাকে মালিক পক্ষ। বেশ কিছু এলাকার বিভিন্ন সিনেমা হল ঘুরে দেখা গেছে, সবখানেই হলগুলো প্রায় দর্শকশূন্য।

শহরের প্রবীণ দর্শক গোলন্দাজ বলেন, ষাট কিংবা সত্তরের দশকে পরিবারের সদস্যরা মিলে হলে গিয়ে সিনেমা দেখতাম। বর্তমানে পরিবার মিলে সিনেমা হলে যাওয়ার পরিবেশতো নাই, তার সঙ্গে তেমন ছবিও নাই যে বাবা-মেয়ে-মা-ছেলে একসঙ্গে বসে সিনেমা দেখা যায়। তার উপর হাওয়া পাল্টেছে। ঘরে বসেই টেলিভিশনে বিভিন্ন ধরনের সিনেমা দেখতে পাই। কখনো কখনো ছেলে-মেয়েরা মোবাইল ফোনে বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও সামাজিক ছবি দেখে থাকে। ফলে এখন আর সিনেমা হলে যাওয়া হয় না।

সুদূর গ্রাম বক্তাবলি। সেখানকার বাসিন্দা আয়ূব বলেন, এক সময় দলবেধে সিনেমা হলে যেতাম। কিন্তু বর্তমানে ডিস লাইন ও ইন্টারনেটের বদৌলতে ঘরে বসেই বিনোদনের সকল উপাদান পেয়ে থাকি। তাই এখন আর সিনেমা হলে গিয়ে গরম আর দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশে সিনেমা দেখার মানে হয় না।

সিনেমা হলের এক ব্যবস্থাপক যতিন্দ্র বলেন, বর্তমানে সিনেমা হলে দর্শক নেই বললেই চলে। প্রতি মাসে লোকসান গুনতে হচ্ছে। সরকার যদি অনিয়ন্ত্রিত ডিস চ্যানেল কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনে একটি সুস্থ ধারা তৈরি কওে, তবেই সিনেমা হলগুলোতে দর্শক ফিরে পাবে। আমরাও সমানে টিকে থাকতে পারবো।

তিনি বলেন, ডিস কালচারের কারণে আমরা সিনেমা হল গুলো ক্ষতির সম্মুখীন। এভাবে চলতে থাকলে হল বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া কোনো পথ থাকবে না বলে জানান তিনি।

নারায়ণগঞ্জের কয়েকটি সিনেমা হলে গিয়ে দেখা গেল, দর্শক নাই। নাম মাত্র কয়েক জন। এ অবস্থা সন্ধ্যা ছয়টা বাজার পরও। মালিক পক্ষ শো চালু না করে দর্শকের জন্য অপেক্ষা করছেন। দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা বললেন, আগে ৫০ জন দর্শক না হলে ছবি ছাড়তাম না, এখন পাঁচজন হলেও ছেড়ে দিই। আজ সেই পাঁচজনও পাওয়া যায় না।

তিনি বলেন, শুধু দুই ঈদে সিনেমা হল গুলোতে ভালো লাভ হয়। বছরের বেশির ভাগ সময় লোকসান গুনতে হয়।

এক হিসেবে দেখা যায় ২০১৭ সালে মাত্র ৬২টি বাণিজ্যিক সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। এর মধ্যে দেশে নির্মিত বাণিজ্যিক সিনেমা, অনুদান পাওয়া সিনেমাসহ আমদানি করা সিনেমাও রয়েছে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির হিসাবে মাত্র তিনটি সিনেমা হিট হয়েছে। এগুলো হচ্ছে বস টু, নবাব এবং ঢাকা অ্যাটাক।

চলচ্চিত্র ব্যবসায়ীদের মতে, সিনেমা হল চালানোর জন্য সপ্তাহে অন্তত দুটি বাণিজ্যিক ধারার নতুন সিনেমা এবং মাসে অন্তত একটি ব্যবসা সফল সিনেমা প্রয়োজন। কিন্তু সে হারে নতুন সিনেমা তৈরি হচ্ছে না।

মালিক আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমানে বাংলা সিনেমার ব্যবসা মন্দার দিকে। এরপর একের পর এক সিনেমা হল বন্ধ হয়ে গেলেও সময়ের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে টিকে আছে কয়েকটি।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

সাহিত্য-সংস্কৃতি -এর সর্বশেষ