rabbhaban

‘প্রেম নাটক’ নায়ক খোকা নায়িকা ডালিয়া


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৬:৫৫ পিএম, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, বুধবার
‘প্রেম নাটক’ নায়ক খোকা নায়িকা ডালিয়া

ভালোবাসার মানুষটিকে কাছে পেতে ছাঁদ থেকে লাফ দেয় এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা। জীবন মরণের সন্ধিক্ষনে বন্ধুরাই ছিল সঙ্গী। বিছানায় লাল কম্বলে মোড়ানো হাতে স্যালাইন নিয়ে খোকা ছোট চোখে তাকিয়ে দেখেন সামনে তার প্রিয় মানুষটি। ততক্ষণে তাদের মধ্যে ভালবাসার অনুভূতি সৃষ্টি হয়ে যায়। যা এখনো তাদের মধ্যে অব্যাহত রয়েছে।

বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে সম্প্রতি প্রতিবেদককে এসব কথা জানান, নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকার সহধর্মিনী ডালিয়া লিয়াকত। আর স্ত্রীর কথার সঙ্গে একমত পোষণ করেন সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকা নিজেও।

দুই জনার মধ্যে পরিবর্তন এসেছে বেশ। কিন্তু ভালোবাসা বদলায়নি এটুকুও। জনপ্রতিনিধি হয়ে যেমন মানুষের সেবায় ব্যস্ত থাকেন তেমনি একজন জীবনসঙ্গী হিসাবেও পরিবার ও ভালোবাসার মানুষটাকে সময় দিতে ভুল হয় না লিয়াকত হোসেন খোকার। তাদের এ ভালোবাসার ছোট্ট সংসার আলোকিত করে আসে লাবিবা হোসেন আদ্রিতা।

তাদের দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছরের ভালোবাসার জীবনের তেমনি কিছু অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ডালিয়া লিয়াকত জানান, ১৯৮৪ সালে বর্তমান জেলা জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের ৩ তলায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন এমপি খোকার স্ত্রী ডালিয়া। নিচ তলা ছিল জেলা জাপা কার্যালয়, আশে পাশে থাকতেন লিয়াকত হোসেন খোকা, এমপি শামীম ওসমান, শামসুল সালেহীন, ভিপি আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল সহ তাদের সহযোগীরা। এসএসসি পরিক্ষার্থী ডালিয়ার চলাচলে চোখ রাখতেন এমপি খোকা। সেই ভাল লাগা থেকে ভালবাসার প্রকাশ করে এমপি খোকা। তাতে রয়েছে ফিল্মী স্টাইলের কাহিনী

ডালিয়া লিয়াকত বলেন, ‘তখন আমি সরকারি মহিলা কলেজে পড়ালেখা করি। ১৯৮৫ কি ৮৬’র কথা। একদিন ফ্রেন্ডের বাসায় পড়ার নোট নিতে চাষাঢ়া মোড় হয়ে সোনারগাঁও কনফেকশনারী (ক্যাফে) পাশে বন্ধু চঞ্চলকে সঙ্গে (বর্তমান আইনজীবী) নিয়ে চাষাঢ়ার ভিতরে যাচ্ছিলাম। তখন হঠাৎ ওই মোড়ে টি শার্ট পড়ে সুন্দর নায়কের মতো দেখতে খোকা রিকশা থামিয়ে দেয়। কিছুতেই যেতে দিচ্ছিল না। কোন ভাবেই বোঝাতে পারিনি যে এটা আমার পরিবারের সবাই জানলে সমস্যা হতে পারে। তারপর খোকার অনেক অনুরোধের পর ও আমার সঙ্গে থাকা বন্ধু চঞ্চলের কথায় সেখানের ক্যাফেতে গিয়ে প্রথম কথা হয়। তখনই বুঝতে পারি সে আমাকে ভালোবাসে।’

তিনি আরো বলেন, ‘লিয়াকত হোসেন খোকা’র ভালবাসা কথা শুনে রীতিমত আতংকে পড়ে যাই। তখন তাদের অনেক ভয় পেতাম। শামীম ওসমানের সঙ্গে চলাফেরা করে। এরপর একদিন আমি তখন নাদিয়া আপুর বাসায় কবিতা আবৃত্তি শেখার জন্য যেতাম। তখন হঠাৎ একদিন নাদিয়া আপু আমাকে আলম কেবিনের সামনে নিয়ে আসে। সেখানে এসে বলে লিয়াকত হোসেন খোকা ছাঁদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মাহত্যা করার চেষ্টা করেছে। এখন মূমূর্ষ অবস্থায় আছে। আমাকে শেষবারের মতো দেখতে চায়। ওই সময় আর মনটা কেমন জানি হয়ে ওঠে। অনেক কিছু পার হয়ে দেখতে যাই। তখন দরজার বাইরে শামীম ওসমান আমাকে প্রশ্ন করেছিল তুমি নিজেকে কি ভাবো? সাধারণ ভাবেই বলেছিলাম ‘মানুষ’। তখন শামীম ওসমান আমাকে বলে ওর কিছু হলে আমাকে ছাড়বে না। তারপর রুমের ভিতরে প্রবেশ করে দেখি বিছানায় লাল কম্বল দিয়ে মুড়িয়ে রেখেছে। পাশে ডান হাতে স্যালাইন লাগানো। মাথার চুলগুলোও ভেজা। তবে এসব কিছু যে আমাকে পাওয়ার জন্য নাটক ছিল তা জানতে পেরেছি। বিয়ের ঠিক ৯ থেকে ১০ বছর পর। যে স্যালাইন লাগানো ছিল সেটার ভিতরে পানি তাও পাশে একটা প্লাস্টিকের ভল ছিল। আর চুলে তেল ও পানি দিয়ে ওইরকম করেছিল। এসব কিছু যখন জানতে চেয়েছি। তখন শুধু একটা কথাই বলেছে ‘মরে গেলে তোমাকে পাওয়া হতো না’। এভাবেই প্রেম ছিল দীর্ঘদিন। তারপর একসময় পরিবারের কাছে জানানোর পরও খোকা সাথে বিয়ে দিতে রাজি হয়নি। দুইজনের মাঝে একটা দুরত্ব তৈরি হলেও ভালোবাসা কমেনি।  সেই ভালবাসা দূরত্ব বদলে আরো কাছে ভীড়তে থাকে। দীর্ঘ ৪ বছর অপেক্ষা শেষে ১৯৯০ সালে দু’পরিবারের সম্মতিক্রমে দুই জনের বিবাহের কাবিন হয়। তার ঠিক ১ বছর পর ১৯৯১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি খোকা বাড়িতে তুলে নেয়।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর