rabbhaban

এখনও ‘ভালোবাসি’ বলেনি জুয়েল রিতা


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৬:৫৬ পিএম, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, বুধবার
এখনও ‘ভালোবাসি’ বলেনি জুয়েল রিতা

দীর্ঘ প্রায় দশ বছর প্রেম করেছিলেন নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির নব নির্বাচিত সভাপতি ও অভিনেতা অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল। সেই প্রেমিকা এখনও তার পরাণের গহীনে রয়েছেন। মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত তার পরাণের গহীনেই থাকবে সেই সহপাঠী কলেজ ছাত্রীটি। ১৯৮৮ সালে নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজে একই শ্রেণিতে লেখাপড়া করার সুবাদে পরিচয় হয় তারই সহপাঠী এক মেয়ের সঙ্গে। দু’জনের মধ্যে হয়ে যায় ঘনিষ্ঠতা।

ঘনিষ্ঠতার মাধ্যমে দু’ জনের চোখের ভাষাই বলে দিত দু’জন দু’জনকে ভালবাসে। কিন্তু কেউ কাউকে বলেনি। সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে নারায়ণগঞ্জ আইন কলেজে একই সঙ্গে ভর্তি হয় দুজন। তবে সহপাঠী মেয়েটি হাসান ফেরদৌস জুয়েলকে ভালবাসতো সেটা মুখে না বললেও তাদের মধ্যে মন দেয়া নেয়া হয়ে গেছে দুজনের অজান্তেই। বুকের ভিতরে আর চেপে না রেখে ‘তোমাকে ভালবাসি’ বলার পর কলেজ ছাত্রী মুচকি হেঁসেই হাতটি ধরেছিলেন হাসান ফেরদৌস জুয়েলের। ১৮ বছর ধরে এখনও সেই হাতটি ধরেই রয়েছেন তারা দুজন দুজনার। সেই প্রেমের পরিণতি গড়ায় বিয়েতে। প্রেমে সফলতা আনতে গিয়ে অনেক বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করেছেন অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল ও অ্যাডভোকেট সৈয়দা ওয়াহিদা আহম্মেদ রিতা।

অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল ও অ্যাডভোকেট সৈয়দা ওয়াহিদা আহম্মেদ রিতা নারায়ণগঞ্জ আদালতে আইন পেশায় নিয়োজিত। সদা হাস্যোজ্জল ও মিশুক প্রকৃতির অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির টানা দুইবারের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, একবার যুগ্ম সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ দুবার ও স্পোটর্স অ্যান্ড কালচারাল সেক্রেটারী দুই বার নির্বাচিত হন। সেই সঙ্গে ইতিমধ্যে ধারাবাহিক নাটক সহ ৮০টির অধিক নাটকে অভিনয় করেছেন হাসান ফেরদৌস জুয়েল। এছাড়াও তিনটি চলচ্চিত্রেও অভিযোগ করেছেন তিনি। অভিনয় জগতের রয়েছে তার সুনাম ও ব্যাপক পরিচিতি।

অন্যদিকে তার স্ত্রী অ্যাডভোকেট সৈয়দা ওয়াহিদা আহম্মেদ রিতা নারায়ণগঞ্জ আদালতের কৌশলী। তাদের ২২ বছরের সুখের সংসারে এক ছেলে ও এক কন্যা সন্তান রয়েছে।

অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল জানান, ১৯৮৮ সালের দিকে প্রথম পরিচয় হয় সরকারি তোলারাম কলেজে লেখাপড়া করার সুবাদে ওয়াহিদা রিতার সঙ্গে। সেই থেকেই দুজনের মধ্যে ভালো পরিচয়। ভালো পরিচয় থেকে এক পর্যায়ে ভালো লাগা। ভাল লাগা থেকেই দুজন দুজনকে ভালবাসা। একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ আইন কলেজে দুজনে ভর্তি হন। ওখান থেকে পাশ করে হাসান ফেরদৌস জুয়েল চলে যান চাকুরীতে। সেখান থেকে এসে যোগদান করেন নারায়ণগঞ্জ আদালতে আইন পেশায়। এর মধ্যে দুজনের প্রেমের বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায় দুজনের পরিবারের কাছে। ব্যাপক চাপের মধ্যে পরে যান ওয়াহিদা রিতা। সেখানে সহযোগীতা করেন এনায়েত হোসেন ও আশরাফ আলী মন্ডল। তারা দুজন দু’পরিবারের সদস্যদের বুঝিয়ে ১৯৯৭ সালের ২৫ ডিসেম্বর পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। যে কারনে এনায়েত হেসেন ও আশরাফ আলী মন্ডলের কাছে তারা কৃতজ্ঞও।

জুয়েল বলেন, আমার স্ত্রী একজন দায়িত্বশীল নারী। একজন স্ত্রীর যে ধরনের গুণ থাকা প্রয়োজন তার সবই আছে তার মাঝে। আমাদের ১৮ বছরের উপরে হয়ে গেছে সংসার জীবন। দুজনের একই সঙ্গে আইন পেশায় প্র্যাকটিস করছি। সেই সুবাদে দুজন দুজনের চোখের সামনেই থাকি। সংসারের সকল দেখাশোনা সেই করে থাকে। আমি তো সব সময় ঘুরি ফিরি। বিয়ের পর আমাদের ভালবাসা মনে হয় কোটিগুণ বেড়ে গেছে। দুই সন্তান নিয়ে আমরা খুব সুখেই সংসার করছি। আমরা যেনো এভাবেই জীবন পার করতে পারি তাই সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করছি। আর বিশ্ব ভালবাসা দিবসে সকলকে জানাই ভালবাসা দিবসের শুভেচ্ছা। বিশ্ব ভালবাসা দিবসে তার স্ত্রী অ্যাডভোকেট সৈয়দা ওয়াহিদা আহম্মেদ রিতাকে বলেন, “আমারো পরানো গহীনে তোমার অবস্থান; রাখিব মৃত্যুকাল।”

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর