rabbhaban

দিন দিন বর্বরতার যুগে পা রাখছে অমানুষগুলো!


রণজিৎ মোদক | প্রকাশিত: ০৫:৫৯ পিএম, ২৫ জুলাই ২০১৮, বুধবার
দিন দিন বর্বরতার যুগে পা রাখছে অমানুষগুলো!

ক্ষুধা দারিদ্র মুক্ত দেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে বর্তমান সরকার কাজ করছে। উন্নয়ণশীল দেশের সবুজ খাতায় নাম লেখা হয়েছে বাংলাদেশের। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের কাছে রোল মডেল। এ সত্যকে অস্বীকার করার কোনো অবকাশ নেই। তারপরও এক শ্রেণীর মানুষ নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে চোখের লজ্জ্বার পাতা উল্টে বসে ধরাকে সরাজ্ঞান করছে। আর এ সব মানুষ নামের অমানুষগুলোর জন্য শান্তি প্রিয় সরল সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ উৎকন্ঠা বৃদ্ধি পাচ্ছে। দিন দিন বর্বরতার যুগে পা রাখছে অমানুষগুলো!

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী প্রবীর ও স্বপন হত্যাকান্ড ৭ খুনের ঘটনাকে হার মানিয়েছে। এক একটি খুনের পিছনে একাধিক কারণ আছে। তবে প্রবীর ও স্বপন হত্যার পিছনে কি কারণ আছে তা তদন্তে জানা যাবে। পত্রিকার প্রতিবেদনে যা মনে হচ্ছে তাতে তিনটি বিষয় (মদ, মেয়ে, টাকা) এখানে কাজ করেছে বলে অনেকেই মনে করছে। শীতলক্ষ্যা, বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরী, বিধৌত শিল্প বন্দর নগরী ও নারায়ণগঞ্জের পল্লী মাটি গড়া নরম মনের মানুষগুলো পোড়া ইটের ন্যায় পাথর হয়ে যাচ্ছে কি?

বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে সোনার মানুষ চেয়েছিলেন। জীবন ভরা এ দেশের মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে কাজ করে গেছেন। সেই দেশের মানুষের এ অবস্থা কল্পনা করা যায় না। নেশার জগতে মানুষ অমানুষ হয়ে যাবে তা কারো কাম্য নয়। বঙ্গকণ্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, পেশিশক্তি, সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন। বঙ্গকণ্যা শেখ হাসিনার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সচেতন মহল। তবুও কলি কালের ধৃতরাষ্ট্রতা মরণ নেশা মাদক সেবনে ধীরে ধীরে স্বেচ্ছায় মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এসব ধৃতরাষ্ট্ররা নিজেরাও মরছে সমাজকেও মারছে। পরিবার সমাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। মাদক আজকের বিষয় নয়, পূর্বেও ছিল লঞ্চঘাট, রেল স্টেশন ও বস্তিতে। এই মাদক শহর, নগর, গ্রামগঞ্জে এমন কি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করেছে।

সম্প্রতি এক পরিচিত বন্ধু তার ৯ম শ্রেণীর ছেলের সমস্যা নিয়ে কথা বললেন, পরবর্তীতে আমি তার ছেলের সাথে কথা বলে আমার মাথায় যেন বজ্র পরলো। আমার শিক্ষকতা জীবনে আমি অনেক দুষ্টু ছেলেদের শাসন করেছি। তাদের অবচেতন মনকে চেতনায় ফিরিয়ে আনতে, গোপনে ডাক দিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে অন্তরে আলতোভাবে আঘাত করেছি। সেইসব অনেক ছাত্র এখনও পায়ে হাত দিয়ে সালাম করে। ছাত্র ও শিক্ষকের মাঝে বর্তমানে যে দূরত্ব দেখা দিয়েছে তা আমাকে রীতিমতো ভাবিয়ে তুলছে। এই দূরত্বের কারণ খুঁজতে গিয়ে বারবার অর্থ সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। ‘মানি ইজ দ্যা সেকেন্ড গড’ অনেকেই এ কথাটি বলে তবে এ কথাটির সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত নই। মা-বাবার সাথে সন্তানের সম্পর্ক কি টাকার? না। মা-বাবার সাথে সন্তানের সম্পর্ক নিঃস্বার্থ। তেমনি শিক্ষকের সাথে ছাত্রের পিতা-পুত্রের ন্যায় আত্মিক সম্পর্ক।

কিন্তু বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থীরা শিক্ষককে তো দূরের কথা মা-বাবাকেও মানে না। আমি সবার কথা বলছি না। মাদক এবং অসৎ সঙ্গ প্রিয় ছেলেদের কথা বলছিলাম। দেশে ধর্ষণ খুনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিনের দৈনিক পত্রিকায় চোখ রাখলে মন্দ সংবাদগুলো চোখে পড়ছে। নারায়ণগঞ্জের মাসদাইরে পাষন্ড স্বামী খোকন ও তার স্ত্রী ঊর্মি আট বছরের গৃহকর্মী শিশু মাহিকে খুন্তির ছ্যাকায় নির্যাতন করেছে। এ সমাজে ঊর্মি খোকনের অভাব নেই। ঊর্মি খোকনের মুখের আদল সুন্দর-ই মনে হলো কিন্তু মনের ভিতরটা বুঝতে বাকি নেই কারো।

২১ জুলাই বাংলা ভবনে ইসদাইর পঞ্চায়েত কমিটির আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেন, “মাদক বিক্রেতারা শয়তানের চেয়েও খারাপ” তিনি মাদকের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষনা করেছেন।

এক সময়কার মাদকের আস্তানা চাঁদমারী বস্তিতে সাবেক ফতুল্লা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা গাউছুল আযম মাদক নির্মূল ও বস্তিতে থাকা শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়ানোর লক্ষ্যে স্বপ্নডানা স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। স্বপ্নডানার স্বপ্ন যেন অপমৃত্যু না হয়, এই জন্য তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।

সরকার যখন মাদকের বিরুদ্ধে কঠিন পদক্ষেপ নিয়েছেন, র‌্যাব-পুলিশ ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন মাদক ব্যাবসায়ীকে পাকড়াও করার পর মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবনকারীদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। আইনের হাত থেকে বাঁচার লক্ষ্যে তাঁরা অনেকেই বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে। আবার অনেকেই তাবলীগের নাম করে অন্য জেলায় বিভিন্ন আত্মীয়স্বজনের বাসায় আত্মগোপন করেছে বলে অনেকের ধারণা।

এদিকে শহর ও শহরতলী এলাকায় রিকশা-ইজিবাইক চালকের অধিকাংশই মাদকের সাথে জড়িত। এসব রিকশা ও ইজিবাইক চালকদের যানবাহনে চলাচল নিরাপদ নয়। প্রায়ই ঘটছে সড়ক দূর্ঘটনা। ইতিমধ্যে দেশে সড়ক দূর্ঘটনা যেন মাত্রাতিরিক্তভাবেই বেড়ে চলেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এর কারণ অনুসন্ধান করলে দেখা যায়, চালক মাদক সেবন করায় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি। এত করে অকালে অনেক প্রাণ ঝরে পড়ছে। অনেক মায়ের বুক খালি হচ্ছে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের সাথে আমরা সবাই এক কাতারে আছি। সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংবাদ সবচেয়ে কষ্টদায়ক। দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু কারো কাম্য নয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ দুঃখকে হৃদয়াঙ্গম করে দুর্ঘটনা রোধকল্পে বেশ কিছু নিয়ম-কানুনের পরামর্শ দিয়েছেন। যাক, যা বলছিলাম কলির ধৃতরাষ্ট্ররা মাদকের তীক্ষ্ম নেশায় হিতাহিত জ্ঞান শূন্য হয়ে দিন দিন মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হোক। মাদক মুক্ত সমাজ গড়ে উঠুক। নিজেরা নিজেদের জীবনকে ভালবাসুক। দেশ-জাতি, সমাজ-সংসার, পিতা-মাতা, ভাই-বোন, স্ত্রী, আত্মীয়স্বজন তাদের বিপদগামী সন্তানদের সুন্দর জীবন দেখতে চায়।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
rabbhaban
আজকের সবখবর