rabbhaban

ইসলামী শ্রমনীতি চালু হলে সকল সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে


এইচ এম এ মোমিন | প্রকাশিত: ০৫:২৫ পিএম, ৩০ এপ্রিল ২০১৯, মঙ্গলবার
ইসলামী শ্রমনীতি চালু হলে সকল সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে

১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। অন্যান্য বছরের মত এবারও দিবসটিকে যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে পালন করবে বিভিন্ন সংস্থা। বিশ্বের প্রথম মে দিবস পালিত হয় আর্জেন্টিনায়। ১৮৮৯ সালের কথা, ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে মে দিবস পালনের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এরপর ১৮৯০ সালের ১ মে থেকে সারাবিশ্বে পালিত হচ্ছে মে দিবস। ১৬-১৮ ঘণ্টা কাজের নিষ্ঠুরতম নিয়মের বেড়াজাল থেকে মুক্তি পেতে দৈনিক ৮ ঘণ্টা কর্ম ঘণ্টা দাবিতে ১৮৮৬ সালে ১মে থেকে ৪ মে আমেরিকার শিকাগো শহরের হে মার্কেটের দর্জি শ্রমিকেরা প্রথম আন্দোলনের সূত্রপাত করে। ফলশ্রুতিতে পুলিশি আক্রমনে ৪ জন শ্রমিক নিহত হয় অসংখ্য শ্রমিক আহত হয়। সেই প্রতিবাদ সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল। বিশ্বের হাজার মানুষের রক্ত আর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সেদিন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল শ্রমিক অধিকার। সেই থেকে মে দিবস হলো পুঁজিবাদী দাসত্ব থেকে শ্রমিকদের মুক্তি লাভের সনদ।

১৯২৩ সালে প্রথম ভারতীয় উপমহাদেশে মে দিবস পালিত হয়। তৎকালীন শ্রেণিবৈষম্যপূর্ণ সমাজের উপর তলার মানুষরা ছিলেন পুঁজিবাদী। আর নিচের তলার মানুষরাই বেশির ভাগ শ্রমজীবী বঞ্চিতের দলভুক্ত। মধ্যবিত্তরাই ছিল গোলকধাঁধার ঘূর্ণাবর্তে দ্যোদুল্যমান। অবশ্য মধ্যবিত্ত এমন এক শ্রেণি যা সবসময়ই উভয় সংকটের মধ্যে অবস্থান করে। সমাজে এদের অবদান সব থেকে বেশি থাকলেও সব সময় একটি জটিল সমীকরণের মধ্য দিয়ে এই শ্রেণিকে যেতে হয়। যার প্রভাব আমাদের বাংলা সাহিত্যেও পড়েছে।

যেমন তিরিশ শতকের পঞ্চকবি নামে খ্যাতদের মধ্যে একমাত্র বিষ্ণু দে ছাড়া বাকিরা (বুদ্ধদেব বসু, জীবনান্দ দাশ, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, অমিয় চক্রবর্তী) কেউই মে দিবসের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হননি।

কবি বিষ্ণু দেই বাংলা ভাষায় প্রথম মে দিবস নিয়ে কবিতা লিখেছেন। `সন্দীপের চর’ অন্তর্ভুক্ত ‘মে দিন’ কবিতায় তিনি বলেছেন- ‘বিশ্বমাতার এ উজ্জীবনে/ বৃষ্টিতে বাজে রুদ্রগগনে/ লক্ষ ঘোড়ার খুর।’

এদিকে সুভাষ মুখোপাধ্যায় মে দিবস নিয়ে চমৎকার পঙক্তি উচ্চারণ করেছেন। তিনি কবিতায় রোমান্টিকতা পরিহার করে বলেছিলেন- ‘প্রিয় ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য/ ধ্বংসের মুখোমুখি আমরা/ চোখে আর স্বপ্নের নেই নীল মদ্য/ কাঠফাটা রোদ সেঁকে চামড়া।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তিনি ছিলেন একজন জমিদার তথা উঁচু তলার মানুষ। স্বভাবতই এ শ্রেণির মানুষ পুঁজিবাদী সমাজের ধারক-বাহক। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ সেই বৃত্ত ভেঙে বেরিয়েছেন। এলিট শ্রেণির মানুষ যে নিচুতলার মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলতে পারেন তার উদাহরণ তৈরি করে গেছেন রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর। ‘অপমানিত’ কবিতায় তিনি স্বীকার করেছেন- ‘হে মোর দুর্ভাগা দেশ, যাদের করেছ অপমান,/ অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান!/ মানুষের অধিকারে/ বঞ্চিত করেছ যারে,/ সম্মুখে দাঁড়ায়ে রেখে তবু কোলে দাও নাই স্থান,/ অপমানে হে হবে তাহাদের সবার সমান।’

কবিতার শেষে তিনি ধিক্কার দিয়ে উচ্চারণ করলেন অমর কিছু বাণী। যেখানে তিনি বললেন এত অহংকারে কোনো লাভ নেই, মৃত্যু তোমাকে গ্রাস করবেই। আর মৃত্যুতেই প্রমাণ হবে মানুষে মানুষে নেই ভেদাভেদ। চিতাভস্মে সবাই সমান। ‘দেখিতে পাও না তুমি মৃত্যুদূত দাঁড়ায়েছে দ্বারে,/ অভিশাপ আঁকি দিল তোমার জাতির অহংকারে/ সবারে না যদি ডাক,/ এখনো সরিয়া থাক,/ আপনারে বেধে রাখ চৌদিকে জরায়ে অভিমান/ মৃত্যুমাঝে হবে তবে চিতাভস্মে সবার সমান।’

অন্যদিকে কাজী নজরুল ইসলাম সারা জীবন অন্যায় আর অত্যাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন। শ্রমজীবী মানুষের জয়গান গেয়েছেন, তাদেরকে দিয়েছেন জগত সেরার মুকুট। ‘কুলি-মজুর’ কবিতায় আমরা তা দেখতে পাই- ‘তোমারে সেবিতে হইল যাহারা মজুর, মুটে ও কুলি/ তোমারে বহিতে যাহারা পবিত্র অঙ্গে লাগাইল ধূলি/ তারাই মানুষ, তারাই দেবতা, গাহি তাহাদের গান/ তাদেরই ব্যথিত বক্ষে পা ফেলে আসে নব উত্থান।

‘মানুষ’ কবিতায় নজরুল শ্রমজীবী মানুষের লাঞ্ছনা, শ্রেণিবৈষম্য আর অবহেলার কথা তুলে ধরেছেন। সাম্যবাদের জয়গান গেয়েছেন। মানুষে মানুষে যে নেই কোন ভেদাভেদ তা প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছেন।

পৃথিবীর প্রত্যেকটি মানুষ সম্ভাবনাময়। কার মধ্যে কী মহান গুণ লুকিয়ে আছে তা বলা খুবই কঠিন। রাখাল কিংবা ক্ষুদ্র একজন কুলিও হতে পারে জগৎ বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব। তাই তো তিনি বলেছেন- ‘চাষা বলে কর ঘৃণা!/ দেখো চাষা রুপে লুকায়ে জনক বলরাম/ এলো কি না!/ যত নবী ছিল মেষের রাখাল, তারও ধরিল হাল/ তারাই আনিল অমর বাণী-/ যা আছে, রবে চিরকাল।

ইসলামী শ্রমনীতি যথাযথ বাস্তবায়ন হলে প্রকৃত অর্থে শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত হবে কারন আল্লাহ তায়ালার প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ) বলেছেন ‘শ্রমিকদের গায়ের ঘাম শুকানোর পূর্বে তাদের প্রাপ্য মজুরি দিয়ে দাও।’ ‘শ্রমিকেরা আল্লাহর বন্ধু।’ ‘নিজেরা যা খাবে তোমাদের দাস-দাসীদেরও তা খাওয়াবে’ তার বিদায় হজ্বের ভাষণে মহানবী (সঃ) এর মুখ থেকে শ্রমজীবী মানুষের পক্ষে উচ্চারিত বাণী আজও পৃথিবীর অধিকার বঞ্চিত শ্রমিকদের পাথেয় হয়ে আছে। ইসলামী শ্রমনীতি সমাজে চালু হলে শ্রমিকদের সকল সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর