আমরা কবে মানুষ হবো!


রাজু আহমেদ | প্রকাশিত: ১০:৩৬ পিএম, ০৮ মার্চ ২০২০, রবিবার
আমরা কবে মানুষ হবো!

গত দুই দশকে এই দেশের মানুষের কাছে বেশ পরিচিত ও ঘৃনিত হয়ে ওঠা শব্দের নাম “সিন্ডিকেট”। রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি সহ পুরো সিস্টেম গিলে খেয়েছে এই ‘সিন্ডিকেট’।

একেক সেক্টরে একেক সিন্ডিকেট, কিন্তু চরিত্রগত ভাবে এরা সবাই একই। হাঁসের বাচ্চাকে যেমন কখনও সাতাঁর শেখাতে হয় না, সে দুনিয়ার যে দেশেরই হোক। ঠিক তেমনি একেক সেক্টরে একেক সিন্ডকেট থাকলেও এদের মজ্জাগত চরিত্রগত বৈশিষ্ট্য কিন্তু একই রকম, গিলে খাওয়া।

আরো আশ্চর্যের বিষয় হলো এই সিন্ডিকেটের টুঁটি চিপে ধরা তো দূরের কথা, টিকিটি ছোয়াও অনেক সময় দুস্কর হয়ে যায়। এজন্য কেউ দুষেন সরকারকে, কেউ রাজনীতিকে। এই মাত্র কিছু দিন আগেই পেয়াজ নিয়ে সিন্ডিকেটের খেলা হলো। সিন্ডিকেটের পকেটে কোটি কোটি টাকা চলে গেল আর নি¤œবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত সকলেরই পেয়াজ নিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলা ছাড়া কোন উপায় রইলো না। মজার বা ক্ষোভের বিষয় হলো এই পেয়াঁজ সিন্ডিকেট কিন্তু ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গেল।

আমার কেন জানি মনে হয়, কাল যদি বিশ্বের কোন বিজ্ঞানীদল বা গবেষক আবিস্কার করে ফেলেন যে, ঘাষ নিয়মিত খেলে গড় আয়ু বৃদ্ধি পায় তাহলে দেশে ঘাষের অভাবে গবাদি পশুপালের ভাগ্যে দুর্ভিক্ষ ছাড়া কিছুই জুটবে না। কিংবা যদি আবিস্কার হয়, পুরুষের চুল রাতে ভিজিয়ে রাখবেন, সেই পানি দিয়ে মুখ ধুলে নারীর রং ফর্সা হবে, তবে দেশে অল্প সংখ্যক স্বামীকূলের চুল অবশিষ্ট থাকবে বৈকি। কি বলবো! হুজুকে বাঙালী??  মনে হয় না।

আসলে আমরা বাঙালী হয়ে আছি ঠিকই, এখনও মনে হয় মানুষ হতে পারিনি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেন, কোন অবস্থায় কোন পরিস্থিতিতে লিখেছিলেন “৭ কোটি বাঙালীরে হে মুগ্ধ জননী রেখেছো বাঙালি করে মানুষ করনি” আমি জানি না। তবে কবি গুরু বেঁচে থাকলে লাইন ঠিকই থাকতো কিন্তু সাত এর জায়গায় এডিট ভার্সনে হয়ে যেত ১৬কোটি।

আমাদের দেশেই নয়, পুরো দুনিয়ার এখন সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম করোনা ভাইরাস। সকলে আতঙ্কে থাকলেও আতঙ্কে নেই শুধু এই সিন্ডিকেট। ভয় কে জয় করে করোনা ভাইরাসকেও ব্যবসায় লাগিয়ে দিয়েছে এই সিন্ডিকেট। ভাইরাস থেকে প্রতিরক্ষা পেতে সকলকে মাস্ক ব্যবহারের যে পরামর্শ দেয়া হয়েছে, সেই পরামর্শকেই কাজে লাগিয়ে দিয়েছে এই সিন্ডিকেট। যে সার্জিক্যাল (ওয়ান টাইম) মাস্ক মাত্র ৭দিন আগেও ছিল খুচরা ৫টাকা প্রতি পিছ আর পাইকারী আড়াই থেকে ৩টাকা, সেই সার্জিক্যাল মাস্ক এখন প্রতি পিছ বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫টাকায়। রেগুলার ব্যবহারের জন্য যে মাস্ক ছিল ৪০ বা ৫০টাকা সেটি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০টাকায়। ভাবা যায়, কি প্রখর ব্যবসায়ীক জ্ঞানসম্পন্ন আমাদের এসব সিন্ডিকেট!

আমার তো মনে হয়, করোনা কেন যদি পৃথিবী জুড়ে এর চেয়েও ভয়ঙ্কর কোন গজব আসে সেটাকেও কাজে লাগাতে প্রশিক্ষিত আমার দেশের সিন্ডিকেট।

যেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী করোনা আক্রান্ত চীনে লাখ লাখ মাস্ক আর চিকিৎসা পন্য দিয়ে সাহায্য সহযোগিতার,বন্ধুত্বের নিদর্শন স্থাপন করছেন, সেখানে সিন্ডিকেট ২টাকার মাস্ক এর দাম ৩০টাকায় উঠিয়ে দিয়েছে। একবার ভেবে দেখার বিষয়, দেশের হত দরিদ্র মানুষগুলো, রিকশা ওয়ালা, দিনমজুর খেটে খাওয়া মানুষগুলো ১৫০টাকা দিয়ে মাস্ক পরবে নাকি পেটে ভাত জুটাবে। সরকারের স্বদিচ্ছার বিন্দুমাত্র অভাব নেই আমি জানি। হয়তো সরকারের কোন না পর্যায়ে বিষয়টি নজরে আসবে এবং সরকারীভাবে মাস্ক সরবরাহও করা হতে পারে। কিন্তু এই সিন্ডিকেট এর টুটি চেপে ধরার সঠিক সময় মনে হয় এখনই। কারণ, ক্ষোভটা আসে ঠিক বুকের মধ্য থেকে। বলতে ইচ্ছা করে, আমরা কবে মানুষ হবো ?

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর