মাঠপর্যায়ের গণমাধ্যমকর্মীরা মূল্যায়িত হয়নি,আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন


হাবিবুর রহমান বাদল | প্রকাশিত: ১০:০৭ পিএম, ২১ মার্চ ২০২০, শনিবার
মাঠপর্যায়ের গণমাধ্যমকর্মীরা মূল্যায়িত হয়নি,আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন

বিশে^র বিভিন্ন দেশে করোনা ভাইরাস আঘাত হানার পর বাংলাদেশে আতঙ্ক বেড়েছে। ইতোমধ্যে দুইজন বয়স্ক ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি সংর্স্পশে এসে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। সরকার করোনা ভাইরাস যাতে ছড়িয়ে না পড়ে এ জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

ইতোমধ্যে স্কুল কলেজসহ দেশের বড় বড় নামীদামি ক্লাবগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। করোনায় যাতে আঘাত হানতে না পরে এ জন্য সরকার প্রচার প্রচারনা চালাচ্ছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল করোনা ভাইরাসে যাতে কেউ আক্রান্ত না হয় এ জন্য সচেতনতামূলক পরামর্শসহ হাত ধোয়ার সামগ্রী ও মাক্স বিতরণ শুরু করেছে। জনবহুল এলাকা পরিহার করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। এমন কি স্বাস্থ্য বিভাগ অতিব জরুরী ছাড়া প্রতিটি নাগরিককে ঘরে অবস্থানের পরামর্শ দিচ্ছে।

এ অবস্থায় করোনা ভাইরাসের মধ্যে সবচাইতে ঝুঁকিতে রয়েছে চিকিৎসক ও গণমাধ্যমকর্মীরা। চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় ব্যবহার সামগ্রী সরকারের পক্ষ থেকে সরবরাহ করা না হলেও একজন চিকিৎসক অনেকটা দূরত্ব বজায় রেখে নিজের স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে তার দায়িত্ব পালন করছেন।

কিন্তু একজর গণমাধ্যমকর্মী শত ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই নিজেদের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। বাস্তবতা হলো নারায়ণগঞ্জের মত জেলা শহরে লোক দেখানো করোনা ভাইরাস বিরোধী তৎপরতা কেউ কেউ শুরু করলেও প্রশাসন রাজনৈতিক দল ক্ষমতাসীন দলের বিত্তবান নেতারা গণমাধ্যমকর্মীদের এই ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়টি মাথায় আনছে বলে আমার মনে হয়না।

নারায়ণগঞ্জে বিদেশ ফেরত লোকের সংখ্যা ৫ হাজার বলে জানা গেলেও শতাধিক বিদেশ ফেরতকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়নি। অথচ বাংলাদেশে প্রথম করোনা ভাইরাস সন্দেহের তালিকায় নারায়ণগঞ্জের দুইজনকে সনাক্ত করা হয়।

এ অবস্থায় গণমাধ্যমকর্মীরা বলা চলে ঝুঁকি নিয়েই কাজ করে চলেছে। নারায়ণগঞ্জে প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকাগুলির মধ্যে দুই তিনটি পত্রিকার পিছনে বিত্তবানদের সহায়তা থাকলেও অধিকাংশ পত্রিকাই অনেকটা চরম দূরাবস্থার মধ্যে প্রকাশ করে চলেছে। এসব পত্রিকার সংবাদকর্মীদের সংবাদ সংগ্রহের সময় যে সকল প্রয়োজনীয় নিয়ম কানুন মানা উচিৎ তা সাধ থাকলেও অধিকাংশ পত্রিকা কর্তৃপক্ষের সাধ্য নেই।

তাছাড়া জাতীয় দৈনিকগুলোর সেন্ট্রাল ডেক্সে কাজ করা তাদের সহকর্মীদের যেভাবে সুযোগ সুবিধা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করছে নারায়ণগঞ্জের সাংবাদকর্মীদের নিয়ে তেমনটা এখনো চিন্তা ভাবনা করছে বলে মনে হয় না। চরম এই ঝুঁকির মধ্যে নারায়ণগঞ্জের প্রকৃত গণমাধ্যমকর্মীদের কাজ করে যেতে হচ্ছে।

দেখা যাচ্ছে, শত প্রতিকূলতার মধ্যেও সামান্য একটি মাক্স ব্যবহার করে তারা দায়িত্ব পালনের জন্য ছুটছেন। কখনো কখনো এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ঝুঁিতে পড়লেও গণমাধ্যমকর্মীদের হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করার মত অবস্থাও নেই। এ অবস্থার ক্ষমতাসীন দলের দায়িত্বশীল নেতারা গণমাধ্যমকর্মীদের পাশে এ পর্যন্ত দাঁড়িয়েছেন এমনটা অন্তত আমার চোখে পড়েনি। তাই একজন সামন্য গণমাধ্যমকর্মী হিসাবে কর্মরত সকল পেশাদার গণমাধ্যমকর্মীদের নিকট আমার বিনীত অনুরোধ করোনা ভাইরাসের মত এই মরণব্যধি থেকে নিজেদের দূরে রাখার জন্য আল্লাহ’র উপর ভরসা করা ছাড়া আমাদের যেমন কোন পথ খেলা নেই তেমনই দায়িত্ব পালন শেষে এবং সম্ভব হলে দায়িত্ব পালনকালেও অন্তত একটা হ্যান্ড স্যানিটাইজার সঙ্গে রেখে বার বার হাতে তা ব্যবহার করুন কোন সংবাদ সংগ্রহ কালে নিজেকে যতটা সম্ভব অন্যের সংস্পর্শে থেকে দূরে রাখুন।

সবসময় মাস্ক ব্যবহারে চেষ্টা করুন। প্রয়োজন ছাড়া নিজ কার্যালয়ে অবস্থান করে সংবাদ সংগ্রহ করুন। সংবাদপত্রকে চতুর্থ স্তম্ভ হিসাবে আখ্যায়িত করা হলেও প্রকৃত অর্থে মাঠ পর্যায়ের গণমাধ্যমকর্মীরা কখনো মূল্যায়িত হয়নি। গণমাধ্যমকর্মীরা বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক দলের নেতাদের উপরে উঠার সিঁড়ি হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু গণমাধ্যম কর্মীদের অসুস্থতা কিংবা পরিবার পরিজন নিয়ে কিভাবে দিন কাটছে ক্ষমতায় গিয়ে কোন রাজনৈতিক দলের নেতাই তার খেয়াল রাখেনি। যদিও এর উল্টোদিকটা জেনেই তা অস্বীকার করার মত অবস্থা আমার নেই।

অনেকেই বিভিন্ন সমেয় ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের আনুকুল্য পেয়ে নিজের ভাগ্য পরিবর্তনে সক্ষম হয়েছে। তবে এদের সংখ্যা খুবই নগন্য। এমতাবস্থায় গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আমার আবারো অনুরোধ নিজেকে এই মরণব্যধি যাতে আঘাত করতে না পরে সেজন্য যতটুকু সম্ভব নিজেকে সাবধানে রেখে স্বাস্থ্য সচেতনভাবে দায়িত্ব পালন করে যান। কারণ করোনা ভাইরাসের কারণে সবাই বাড়িতে বসে থাকলেও পেশাদার গণমাধ্যমকর্মীদের দায়িত্ব ঠিকমত পালন করার স্বার্থেই বাইরে বেরুতে হবে তবে সে ক্ষেত্রে সাধ্যমত আমাদেরকে স্বাস্থ্যনীতি মেনে চরতে হবে। মনে রাখতে হবে এই সময়টা গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য একটি কঠিন সময়। এ অবস্থায় আমাদেরকে আরো দায়িত্বশীল হতে হবে এবং কারো মুখাপেক্ষি না হয়ে নিজেদের দায়িত্বই নিজেদেরকে করোনা ভাইরাসের মোকাবেলা করতে হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর