rabbhaban

১ লাখ টাকার জন্য হত্যায় অংশ নেয় বাবু


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৩৭ পিএম, ১৫ মে ২০১৯, বুধবার
১ লাখ টাকার জন্য হত্যায় অংশ নেয় বাবু

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বিদেশ পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করে টাকা আত্মসাৎ ও হত্যার ঘটনায় সুলতান মাহমুদ বাবু আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী প্রদান করেছে। বুধবার (১৫ মে) সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিল্টন হোসেনের আদালতের আদালতে এই জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়। আসামী বাবু ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততা ও সহযোগীতার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দী প্রদান করে বলে নিশ্চিত করেছেন কোর্ট পুলিশের ইন্সপেক্টর হাবিবুর রহমান।

জবানবন্দীতে হত্যার পরিকল্পনাকারী মহিউদ্দিন বুলুর প্রধান সহযোগী সুলতান মাহমুদ বাবু জানায়, বুলুর পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী বেড়ানোর নাম করে নৌকা ভাড়া মাজেদকে নির্জন স্থানে এনে হত্যার জন্য নির্যাতন শুরু করে। এসময় মাজেদ চিৎকার করলে নৌকার ইঞ্জিনের শব্দ বাড়িয়ে দেয়ার নির্দেশ দেয় বুলু। উভয়ে মিলে মাজেদকে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত হলে দুজনে মিলে মেঘনা নদীতে মাজেদের লাশ ফেলে দেয়। মূলত বাবু নিজেই তার পরিচিত নৌকা চালক সোহেলকে সারাদিনের জন্য ভাড়া করেছিলো।

এর আগে সাংবাদিক সম্মেলনে র‌্যাব জানায়, নাজমা বেগম (৩৫) নামের নারী র‌্যাব-১১ বরাবর এই মর্মে একটি অভিযোগ দেন যে, তার স্বামী মাজেদ আলী গত ১০ মার্চ হতে নিখোঁজ রয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করেন তারা স্বামী-স্ত্রী বিদেশ যাওয়ার উদ্দেশ্যে মহিউদ্দিন বুলু নামের এক আদম ব্যবসায়ীর কথায় পাবনা থেকে নারায়ণগঞ্জে আসে। বুলু তাদেরকে ফতুল্লার টাগারপাড় এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় রাখে। পাসপোর্ট, ভিসা, মেডিক্যাল ও বিভিন্ন কাজের কথা বলে বুলু তাদের কাছে থেকে ২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। বুলু তাদের বিদেশ না নিয়ে নানা ছলচাতুরি করে কালক্ষেপন করতে থাকে। গত ১০মার্চ মহিউদ্দিন বুলু বিকালে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে কৌশলে মাজেদ আলীকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত আসলেও মাজেদ আলী বাসায় ফিরে না আসায় নাজমা বেগম স্বামীর জন্য কান্নাকাটি করলে আদম-বেপারী মহিউদ্দিন বুলু কৌশলে পালিয়ে যায় এবং নাজমা বেগমের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।

অভিযোগ প্রাপ্তির পর র‌্যাব-১১ এর একটি বিশেষ গোয়েন্দা দল নিখোঁজ মাজেদ আলীর সন্ধান ও সন্দেহভাজন মহিউদ্দিন বুলুকে গ্রেফতারের জন্য গোয়েন্দা কার্যক্রম শুরু করে। বেশ কয়েকটি স্থানে অভিযান চালিয়ে গত ৮এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা মডেল থানার শিবু মার্কেট এলাকা হতে মহিউদ্দিন বুলুকে (৪২) আটক করে।

র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত মহিউদ্দিন বুলুকে নিখোঁজ মাজেদ আলীর পরিণতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে সে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করে। কিন্তু অভিযুক্ত মহিউদ্দিন বুলুর ও নিখোঁজ মাজেদ আলীর মোবাইল কল লিষ্ট ও ঘটনার দিনে তাদের গতিবিধি পর্যালোচনা করে দেখা যায় ওই দিন তারা নারায়ণগঞ্জ থেকে বিকালে দাউদকান্দি ব্রীজ এলাকায় ও সন্ধ্যায় মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানাধীন মেঘনা নদীর তীর এলাকায় অবস্থান করে।

অনুসন্ধানের ধারাবাহিকতায় কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকার সোহেল নামক এক নৌকার মাঝির নাম পাওয়া যায়। সে, তার এলাকা ভাটেরার চর ও দাউদকান্দি বাজারের মধ্যে ইঞ্জিন চালিত নৌকায় যাত্রী আনা-নেওয়া করে।

গোপন সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন ১০ মার্চ আদম বেপারী মহিউদ্দিন বুলু নিখোঁজ মাজেদ আলী ও অজ্ঞাত এক লোককে নিয়ে সোহেল মেঘনা নদীতে নৌকা চালিয়ে ছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-১১ এর একটি বিশেষ দল গত ১০ মে কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি বাজার ঘাট হতে নৌকার মাঝি সোহেলকে (২১) আটক করে এবং তার নৌকাটি জব্দ করা হয়। গ্রেফতারের পর র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নৌকার মাঝি সোহেল ঘটনার লোমহষর্ক বর্ণনা দিয়ে জবানবন্দী প্রদান করে এবং জানা যায় আদম-বেপারী মহিউদ্দিন বুলু ও বাবু একত্রে সোহেলের নৌকায় মাজেদ আলীকে পাশবিক নির্যাতন করে, গলা টিপে ও নাক-মুখ চেপে ধরে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে মেঘনা নদীতে লাশ ভাসিয়ে দেয়।

গ্রেফতারকৃত নৌকার মাঝি সোহেল গত ১৩ মে নারায়ণগঞ্জ জেলার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী প্রদান করে। নৌকার মাঝি সোহেলের জবানবন্দী থেকে প্রকাশ পাওয়া মাজেদ আলীর হত্যাকান্ডের পরিকল্পনা ও হত্যার সাথে সরাসরি জড়িত সুলতান মাহমুদ বাবুকে গ্রেফতারের জন্য বেশ কয়েকটি স্থানে অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-১১ এর একটি আভিযানিক দল গোপন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ১৪ মে গজারিয়া থানাধীন গোয়াগাটিয়ার শিমুলিয়া এলাকায় তার নিজ বাড়ি হতে সুলতান মাহমুদ বাবুকে (৩৬) আটক করে।

গ্রেফতারকৃত সুলতান মাহমুদ বাবুকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ঘটনার মূল অভিযুক্ত মহিউদ্দিন বুলু ও সুলতান মাহমুদ বাবু দুই জনই গোয়াগাছিয়া এলাকার দূর সম্পকীয় আত্মীয় ও সম্পর্কে মামা-ভাগিনা। ঘটনার কয়েক দিন আগে বুলু এক লোককে মারার জন্য তার সহযোগিতা চায় এবং সহযোগিতা করলে এক লক্ষ টাকা দিবে বলে আশ্বাস দেয়। টাকার লোভে বাবু রাজি হয় এবং দুইজন মিলে ওই লোককে হত্যা করার পরিকল্পনা করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী বাবু তার শ্বশুর বাড়ির এলাকা হতে তার পূর্ব পরিচিত সোহেলের নৌকা ভাড়া করে। অন্য দিকে বাবু মাজেদকে নৌকায় করে নদীতে ও চরে ঘুরতে নিয়ে যাবে বলে কৌশলে ফুসলিয়ে ফতুল্লা ভাড়া বাসা থেকে নিয়ে যায়। দুইজন মিলে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ঠান্ডা মাথায় মাজেদ আলীকে হত্যা করে মেঘনা নদীতে লাশ ভাসিয়ে দেয়।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর