rabbhaban

পুলিশের সোর্সদের দৌরাত্ম্য, তল্লাশির নামে হয়রানির অভিযোগ


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:৩৮ পিএম, ১৬ জুন ২০১৯, রবিবার
পুলিশের সোর্সদের দৌরাত্ম্য, তল্লাশির নামে হয়রানির অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জে চুরি ছিনতাই কমে আসলেও শহরে শুরু হয়েছে আতংক। আর এই আতংকের নাম পুলিশের সোর্স আতংক। রাতের বেলা পুলিশের এই সোর্স আতংকের পাশাপাশি পুলিশের বাজে ব্যবহার ও সাধারণ মানুষকে হয়রানি যেন যুক্ত করেছে ভোগান্তির নতুন মাত্রা।

ঈদের কিছুদিন আগে থেকে শুরু হয়ে এখনো এ আতংক চলমান আছে শহর ও শহরতলীতে। আতংকের কারণে সন্তানদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছেন সন্তানদের বাবা মায়েরাও। পাশাপাশি এমন হয়রানি বন্ধে জেলা পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন অভিভাবকেরা।

জানা যায়, গত ২৭ রমজানের রাতে তারাবির নামাজের পর মাসদাইর বাজার এলাকার মোড়ে মসজিদ থেকে পাশেই বাড়িতে ফিরছিলেন এক যুবক। বাড়ির সামনে আসতেই তাকে দেখিয়ে দেয় এক সোর্স। আর তাতেই পুলিশের ৪ জন সদস্য একটি অটোরিকশা থেকে নেমে তাকে তল্লাশি শুরু করেন। কিছু না পাওয়ার পর যুবককে গালমন্দ শুরু করেন পুলিশ সদস্যরা। পরে যুবক এর কারণ জানতে চাইলে তাকে ৭ থেকে ৮টি থাপ্পর মারে এক কনস্টেবল। তাকে মাদক ব্যবসায়ী বলে নানা গালমন্দও করতে থাকে পুলিশ সদস্যরা। এতে এলাকার লোকজন ও তার বাড়ির মানুষ বের হয়ে পুলিশকে আটকে ধরলে তারা দ্রুত সেখান থেকে সটকে পড়েন।

যুবকটি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আমার বাবা মারা যাবার পর আমি ব্যবসা করে পরিবার চালাই। এলাকার মুরুব্বিরাও আমাকে খুব ভালো জানেন। আমি আমার কাপড়ের গদি বন্ধ করে বাসার ফেরার সময় এ ঘটনা ঘটে। কোন কারণ ছাড়াই মারধর শুরু করে উনারা। পরে এলাকার মুরুব্বিরা এসে পড়লে আমাকে রেখে দ্রুত তারা পালিয়ে যায়।

আরেকটি ঘটনা ঘটে মাসদাইর আদর্শ স্কুলের সামনে। ঈদের ৮ম দিন রাতে মাসদাইর তালা ফ্যাক্টরীর মোড়ে পুলিশের একটি অটো হটাৎ একটি মোটরসাইকেল আরোহী যুবককে সিগন্যাল দেয়। যুবক ঈদের পর আত্মীয়ের বাড়ি থেকে দাওয়াত খেয়ে ফিরছিল। এসময় তাকে নামিয়ে তার কাছে অস্ত্র আছে দেখিয়ে পুলিশের এক সোর্স তাকে ধরতে বলে। এতেই পুলিশ তাকে তল্লাশি না করেই তাকে মারতে মারতে আদর্শ স্কুলের সামনে নিয়ে যায় এবং বেধম মারধর করে। তার মোটরসাইকেল ও সাথে থাকা সকল জিনিসও নিয়ে নেয় পুলিশ। তাকে বলা হয় সে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ও তার অস্ত্র আছে। বেশি কথা বললে তাকে হত্যা মামলায় জড়িত বলে ক্রসফায়ারে দেয়া হবে। পরে এলাকাবাসীর মাধ্যমে এ সংবাদ শুনতে পেয়ে বাড়ির মানুষরা দ্রুত ছুটে এসে ছেলেকে মারধরের কারণ জানতে চান এবং পুলিশের বিরুদ্ধে আদালতে যাবেন বলে জানালে পুলিশ যুবককে সরি বলে চলে আসে। এলাকাবাসীকে তখন পুলিশ জানায় এখানে ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে এবং অন্য একজনের সাথে তার চেহারা মিল থাকায় এমন হয়েছে।

যুবকটি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, আমার মোটরসাইকেলসহ সব নিয়ে যায় পরে বাড়ির মানুষের চাপে এসব ফিরিয়ে দেয়। আমাকে কোন কারণ ছাড়াই বেধম মারধর করে যার চিহ্ন এখনো আমার শরীরে রয়েছে। পরে আমি স্থানীয়ভাবে চিকিৎসাও নেই। আমার সকল আত্মীয়রা ছুটে না আসলে হয়তো আমাকে মেরেই ফেলতো। আমি নিজেকে পরিচয়ও দিয়েছি একটি ঢাকার একটি প্রাইভেট ভার্সিটির ছাত্র, আইডি কার্ডও দেখিয়েছে কিন্তু তারা সেটিও মানতে নারাজ। বলেছি, সামনেই আমার বাড়ি আমার পরিবারের সবাই এলাকার সম্মানিত ব্যক্তি কিন্তু তারা কোন কথাই শোনেনি।

এদিকে এমন ঘটনা প্রতিদিনই শহর ও আশেপাশের এলাকাগুলোতে ঘটছে বলে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। সন্ধ্যার পরই অটোরিকশা নিয়ে পুলিশের একাধিক টিমের সদস্যরা সোর্সদের সাথে নিয়ে এসব কাজ করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে কেউই নিজের নাম প্রকাশ করতে চায়না কারণ পুলিশ সদস্যরা আগামিতে আবারো তাদেরকে সমস্যায় ফেলতে পারে এ ভয়ে। 

দ্রুত এ ধরনের হয়রানি বন্ধে জেলা পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সন্তানদের অভিভাবকরা।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর