rabbhaban

‘নারায়ণগঞ্জে সন্ত্রাসীদের অস্ত্র ভাণ্ডার অক্ষত’ তালিকা হচ্ছে এসপি


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৩১ পিএম, ১৭ আগস্ট ২০১৯, শনিবার
‘নারায়ণগঞ্জে সন্ত্রাসীদের অস্ত্র ভাণ্ডার অক্ষত’ তালিকা হচ্ছে এসপি

নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আশীর্বাদপুষ্ট সন্ত্রাসীদের বিশাল অস্ত্র ভান্ডার এখনও অক্ষত রয়েছে। গত এক যুগে র‌্যাব ও পুলিশের সঙ্গে ক্রসফায়ারে জেলার আলোচিত দুই ডজন তারকা সন্ত্রাসী নিহত হলেও তাদের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় নারায়ণগঞ্জবাসী শঙ্কিত। তাদের অস্ত্রগুলো হাত বদল হয়ে এখন অন্যান্য সন্ত্রাসীদের কাছে চলে যাচ্ছে। শীর্ষ সন্ত্রাসীরা একাধিকবার গ্রেপ্তার হলেও তাদের অস্ত্র ভান্ডারের সন্ধান রয়ে গেছে তিমিরে।

নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) হারুন-অর-রশীদ জাতীয় গণমাধ্যম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অস্ত্রবাজদের ধরতে প্রতিনিয়ত অভিযান চালানো হচ্ছে। এলাকায় যারা অস্ত্রবাজ হিসেবে পরিচিত তাদের তালিকা করা হয়েছে। ওই তালিকায় অনেক রাঘববোয়ালের নাম আছে। কাউকে আমরা ছাড় দিচ্ছি না। সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।’

পুলিশের সূত্রগুলো জানায়, অপরাধীদের কাছে স্পেন ও জার্মানির তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র আছে। ওই অস্ত্র ওজনে হালকা, গুলি করার সময় শব্দ ও ঝাঁকুনি কম এবং সহজেই লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। এ ধরনের পিস্তল সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে উদ্ধার হচ্ছে অহরহ। রাজনৈতিক ক্যাডার ও অপরাধীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে ছোট আকারের অস্ত্র। বহন ও ব্যবহারে নিরাপদ বলেই তারা ক্ষুদ্রাস্ত্র ব্যবহারে বেশি আগ্রহী। ৭৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৫ লাখ টাকায় মিলছে অত্যাধুনিক অস্ত্র।

র‌্যাব ও পুলিশের সুত্রমতে, ২০০৪ সালের ১০ আগষ্ট দিবাগত রাতে জেলার আলোচিত কুখ্যাত কিলার রেকমত বাহিনীর প্রধান রেকমত ফতুল্লায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুক যুদ্ধে ক্রস ফায়ারে পড়ে মারা যাওয়ার মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জে পুলিশ ক্রস ফায়ারের খাতা খুলে। সন্ত্রাসী রেকমতের মৃত্যুর পর তাকে শেল্টার এবং লালন পালনকারী একাধিক গডফাদারের নাম প্রকাশ পায়। তার বিরুদ্ধে ৪০ টি খুনসহ অর্ধ শতাধিক মামলা ছিল। ২০০১ সনের ৯ আগষ্ট পর্যন্ত রেকমত ও তার বাহিনীর হাতে ফতুল্লা এবং সিদ্ধিরগঞ্জে প্রায় ৫০ ব্যক্তি খুন হয়। এর পর একে একে ক্রসফায়ারে পড়ে মারা যান আদমজীর যুবলীগ কর্মী শফিকুল ইসলাম, জেলার আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী  ও যুবদল ক্যাডার  মমিন উল্লাহ ডেভিড, আদমজীর কদমতলী এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও বিএনপি কর্মী মিনিষ্টার শাহ আলম, যুবলীগের নজরুল ইসলাম সুইট, আদমজীর শীর্ষ সন্ত্রাসী ও যুবলীগ ক্যাডার রগ কাটা জাফর, ফতুল্লার বিএনপি সন্ত্রাসী রুবেল, অস্ত্র ও মাদক ব্যবসায়ী বিপ্লব এবং আলমগীর হোসেন, বন্দরের মকবুল, কেন্দ্রীয় কৃষক লীগ নেতা টাওয়ার সেলিম, আবদুল্লাহ আল মামুন, কিলার রুবেল, আড়াইহাজারের কুখ্যাত ডাকাত সর্দার রওশন, জাকির খানের সহযোগী আহাদ, ফতুল্লার শীর্ষ সন্ত্রাসী ইবু বাহিনীর প্রধান ইবু, ডাকাত সর্দার দানিয়েল, রূপগঞ্জে মোহাম্মদ আলী, বন্দরে সুমন, আবুল হোসেন, মাহে আলম বিপু, সিদ্ধিরগঞ্জে মামুন প্রমুখ।

২০০৫ সালের ২১ জুন স্থানীয় বিএনপি নেতা বিপ্লব ও আলমগীর হোসেনের কাছ থেকে একে-৪৭, নাইন এম এম সহ অত্যাধুনিক অনেক অস্ত্র উদ্ধার-ই বলে দিয়েছিল নারায়ণগঞ্জে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র রয়েছে। কিন্তু পরবর্তিতে স্থানীয় আইন শৃঙ্কলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিগত ৪ বছরে উল্লেখযোগ্য কোন অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি। এ ব্যাপারে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনও বার বার একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। বর্তমান পুলিশ সুপার সরদার নুরুল আমিনও জানান, সন্ত্রাসী ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের অভিযান চলছে। এতে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। কিন্তু শহরবাসীর মতে, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে প্রশাসনের ব্যর্থতা স্পষ্ট।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর