rabbhaban

নারায়ণগঞ্জে যে পন্থায় রোহিঙ্গাদের পাসপোর্টের জন্ম সনদ


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:২৩ পিএম, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বুধবার
নারায়ণগঞ্জে যে পন্থায় রোহিঙ্গাদের পাসপোর্টের জন্ম সনদ

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অভিযান চালিয়ে রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট তৈরিতে সহযোগিতাকারী প্রতারক চক্রের ৬ সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-২)। এসময় পাসপোর্ট তৈরির জন্য ভুয়া জন্ম সনদ, কাউন্সিলর সিল, সরকারি দপ্তরের সিল, ল্যাপটপ, মোবাইল সহ অবৈধ লেনদেনের ২ লাখ ৩০ হাজার নগদ টাকা জব্ধ করা হয়।

১১ সেপ্টেম্বর বুধবার বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত র‌্যাব-২ এর কোম্পানি কমাণ্ডর মহিউদ্দিন ফারুকের নেতৃত্বে একটি টিম সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সামনে ৪টি কম্পিউটার দোকানে ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় আশে পাশের অন্য কম্পিউটার দোকান দ্রুত বন্ধ করে পালিয়ে যায়।

আটককৃতরা হলো নারায়ণগঞ্জের ফজলুল করিম (৩৩), সাইফুল ইসলাম (২৪) ও আজিম হোসেন (২৬), নেত্রকোনার একটি ইউপির উদ্যোক্তা সদস্য মামুন মিয়া (৩৫), ঢাকার একটি সিটি কর্পোরেশন এর মাঈন উদ্দিন (৩৮) ও জাহাঙ্গীর (৩৬)।

আটক ফজলুল করিম সাংবাদিকদের জানান, ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার বিনিময়ে এক একটি জন্মসনদ করে দেওয়া হতো। এজন্য ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা মাঈনুদ্দিন আহমেদ তাকে সহযোগিতা করতো। মাঈনুদ্দিন আহমেদ জন্ম সনদের জাতীয় সার্ভারের নাম ও পাসওয়ার্ড দেয়, নাম ও পাসওয়ার্ডের মাধ্যমে সার্ভারে প্রবেশ করে জন্মসনদ বের করা হতো।

তিনি আরো বলেন, ‘এটা অপরাধ আমি জানি। কিন্তু পেটের দায়ে এ কাজ করেছি। এজন্য আমি ক্ষমা চাই।’

র‌্যাব কমান্ডার মহিউদ্দিন ফারুক সাংবাদিকদের বলেন, রোহিঙ্গাদের পাসর্পোট কিভাবে তৈরি করা হচ্ছে এ বিষয়ে তদন্তের সূত্র ধরে নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রথমে তিনজনকে আটক করা হয়। যারা জন্ম সনদ জাতীয় সার্ভার থেকে বের করতে সহযোগিতা করে আসছিল। পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এ প্রতারক চক্রের আরো সদস্যদের গ্রেফতারে বিকেল থেকে নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের বাইরে কম্পিউটার দোকানে অভিযান শুরু হয়। এসময় ৪টি দোকানে অভিযান চালিয়ে ৬জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে বিপুল সংখ্যাক ভুয়া জন্ম সনদ, কাউন্সিলর সিল, সরকারি দপ্তরের সিল, ল্যাপটপ, মোবাইল সহ অবৈধ লেনদেনের ২ লাখ ৩০ হাজার নগদ টাকা জব্দ করা হয়।

তিনি আরো জানান, এরা বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশে জন্মনিবন্ধন সার্টিফিকেট করে সরবরাহ করতো। এদের ল্যাপটপে তল্লাশী করে ভুয়া জন্ম সনদ সহ হার্ড কপিও পাওয়া গেছে। এরা রোহিঙ্গাদেরকে এসব জাল সনদ দিয়ে পাসপোর্ট তৈরীতে সহায়তা করতো। এভাবে ভুয়া তথ্যে দেশের বেশ ক`টি এলাকা থেকে ১৩/১৪ জন জোরপূর্বক বাস্তÍচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক জন্ম সনদ নিয়েছে।


জন্ম সনদ করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে ফারুক বলেন, ৫ হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা বিনিময়ে সিটি করপোরেশন ও দেশের বিভিন্ন জেলার বেশ ক`টি ইউনিয়ন পরিষদের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে জোরপূর্বক বাস্তচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক, সাজাপ্রাপ্ত ও ফেরারী আসামী, দাগী অপরাধী, বয়স কম-বেশী দেখিয়ে বিদেশ যাবার জন্য আগ্রহী লোকজন এর নামে জন্ম সনদ তৈরী করে দেয়া হতো। জাতীয় ভাবে জন্ম সনদের যে সার্ভার রয়েছে তারা সিটি করপোরেশনের কিংবা ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে সার্ভার নাম ও পাসওয়ার্ডে নিয়ে সেখানে প্রবেশ করতো। সেখানে বর্তমান ঠিকানা ব্যবহার করা হতো যেমন নারায়ণগঞ্জ কিন্তু স্থায়ী ঠিকানা কক্সবাজার উখিয়া সহ বিভিন্ন ঠিকানা ব্যবহার করতো। যার ফলে সার্ভারে জন্ম সনদটি মিল পাওয়া যেতো। কিন্তু এটা সম্পূর্ণ অবৈধ ও আইনগত দণ্ডনীয়। এ কাজের জন্য প্রতারক চক্রটি ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ সহ যেসব এলাকায় বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ বসবাস করতো সেসব অঞ্চলের পাসপোর্ট অফিসগুলোতেই ভীড় করতো।

এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে ও পাশাপাশি এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর