এখনো এসপি হারুনের নামে আনোয়ার নুরুর তোলাবাজি!


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:০২ পিএম, ১১ নভেম্বর ২০১৯, সোমবার
এখনো এসপি হারুনের নামে আনোয়ার নুরুর তোলাবাজি!

তার পান্টে ঝোলানো থাকে হ্যান্ডকাফ, হাতে ওয়াকিটকি, চোখে রিবন সানগ্লাস। তেল বোঝাই লরি দেখলেই থামিয়ে দেন, চালান-পত্র চেয়ে বসেন। পরিচয় জানলে চাইলেই ব্যবহার করেন পুলিশের অনেক শীর্ষ কর্মকর্তার নাম। নিজে পরিচয় দেন ‘ওসি আনোয়ার’। বাস্তব জীবনে তিনি একজন চোরাই তেল ব্যবসায়ী এবং পুলিশ সেজে ডাকাতি করাই তার মূল পেশা।

ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি করার ঘটনায় গ্রেফতার হয়ে জেল খেটেছেন, গ্রেফতার হয়েছেন খুনের মামলাতেও। তার নাম আনোয়ার ওরফে সোর্স আনোয়ার ওরফে ডাকাত আনোয়ার। চলতি বছরের মার্চ মাসে আনোয়ারকে নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে আসা যাওয়া বন্ধ করে দেয় আনোয়ার।

এছাড়াও চোরাই তেলের চালানসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ীকে ধরিয়ে এনে কোটি কোটি টাকা কামিয়ে দিয়েছেন অনেক পুলিশ কর্তাকে। যার মধ্যে গত মাসেই সিদ্ধিরগঞ্জের এক ইসলামী দলের কেন্দ্রীয় নেতার ছেলেকে তেলের গাড়ীসহ আটক করে রাখা হয় ২দিন। নগদ ৩৮লাখ টাকায় মুক্তি মিলে তার।

জানা গেছে, ডাকাত আনোয়ার নিজে ভুয়া পুলিশ সেজে ডাকাতি করতো জেনেও আনোয়ারকে ক্যাশিয়ার নিযুক্ত করায় মনক্ষুন্ন ছিলেন অনেক পুলিশ কর্মকর্তারাই। তারা বলেন, যে ব্যক্তি পুলিশ সেজে ডাকাতি করতো যে ব্যক্তি পুলিশের ভাবমুর্তি নষ্ট করতো তার মত মানুষকে এসপি অফিসে অবাধ বিচরন দেখলে আমাদের রক্তক্ষরন হোত কিন্তু বলার মত শক্তি সাহস আমাদের ছিল না। অপরদিকে আনোয়ারের ক্ষমতার কাছে অসহায় জেলা পুলিশের আলোচিত সোর্স নুরুও পরাজয় স্বিকার করে আনোয়ারের সাথে কাজ শুরু করেন। অভয় পেয়ে নুরুও হয়ে উঠেন আগের চেয়ে অনেক বেশী বেপরোয়া।

জানা গেছে, আনোয়ারের বাড়ী জেলার রুপগঞ্জ থানার গাউছিয়া এলাকায়। তার মূল পেশা ভুয়া ডিবি সেজে ছিনতাই করা এবং অসাধু পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য সোর্স এর কাজ করা। ২০১৭ সালের ৩ জুন ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাই করতে গিয়ে আসল ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন আনোয়ার (৪২) ও ভুলতা ফাড়ির রাইটার গণি (৪০)। এসময় তেলভর্তি একটি গাড়ি উদ্ধার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ(ডিবি)। এব্যাপারে জেলা ডিবির তৎকালীন এসআই মফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মামলা (রুপগঞ্জ থানার মামলা নং ০৮) দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, আনোয়ার সহ একটি চক্র নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে সোনারগাঁও, আড়াইহাজার, রুপগঞ্জ এলাকায় বিভিন্ন সময়ে তেলবাহী গাড়ী ছিনতাই করে থাকে। গ্রেফতারের পর আনোয়ারের স্বীকারোক্তি অনুয়ায়ী তার গোডাউন থেকে প্রায় ৫লাখ টাকার চোরাই তেল উদ্ধার করে পুলিশ।

কয়েক বছর আগে আনোয়ার ফতুল্লা থানায় সোর্স এর কাজ শুরু করে। কিন্তু চোরাই তেল কারবারী ও মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে সখ্যতার কারণে তাকে ফতুল্লা থানা থেকে বিতাড়িত করা হয়। এরপর কয়েক বছর সে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সোর্স এর কাজ করার চেষ্টা করলেও সফল হতে পারেনি। এসপি হারুন যোগ দেয়ার পরপরই আনোয়ার কৌশলে ডিবি পুলিশের সোর্স এর কাজ শুরু করে। এক্ষেত্রে তার সার্বক্ষনিক সঙ্গী হন জেলা ডিবি পুলিশে যোগ দেয়া এসআই আলমগীর। আনোয়ার এমনই ক্ষমতার অধিকারী হয়ে উঠেন যে অনেক পুলিশ কর্মকর্তাকেও তিনি ধমকাতেন।

রূপগঞ্জের ৩০০ফিট এলাকায় আনোয়ারের রয়েছে তিনটি চোরাই তেলের গোডাউন। ঐ রাস্তায় আসা রুপগঞ্জের বিভিন্ন অয়েল মিলের তেলের গাড়ী আটকিয়ে তোলাবাজি ও কাগজপত্রের কমতি থাকলেই আনোয়ার ডিবির কোন না কোন টিমকে দিয়ে আটক করাতেন।

এছাড়া তার টার্গেটে ছিলেন সিদ্ধিরগঞ্জের বার্মশিল্ড বা বার্মাস্ট্যান্ড, এসও গেইট ও ফতুল্লার তেল কারবারিরা। এছাড়াও শহরের দেশী মদের দোকান, পলিথিন ফ্যাক্টরী, কারেন্ট জালের ব্যবসা, এসিডসহ ক্যামিকেলের ব্যবসা, নদী বন্দরের চোরাই তেলের ব্যবসা উল্লেখযোগ্য।

এদিকে খোদ জেলা পুলিশের মধ্য থেকে কথা উঠেছে, এসপি হারুনের নামে এখনও টাকা তুলছেন এই আনোয়ার ও নুরু।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর