থানার ভেতরে মারধর, আওয়ামী লীগ নেতা মীর সোহেলের বিরুদ্ধে মামলা


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৭:০৩ পিএম, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, রবিবার
থানার ভেতরে মারধর, আওয়ামী লীগ নেতা মীর সোহেলের বিরুদ্ধে মামলা

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফতুল্লা থানা যুবলীগের সভাপতি মীর সোহেল আলীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। থানার ভেতরে মারধরের শিকার ব্যবসায়ী সিকদার সেলিম বাদী হয়ে রোববার ১৭ নভেম্বর বিকেলে ওই মামলাটি দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সদর উপজেলার ফতুল্লার কুতুবপুরের মীর হোসেন মীরুর বাহিনী কুতুবপুর ইউনিয়নের বউবাজার এলাকায় মুরাদ হোসেন নামে এক ব্যবসায়ীর মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি ও অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে। এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই মুরাদ বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ওই ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়েরের পর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শক করেন এবং পরদিন শুক্রবার রাতে তাদেরকে থানায় যেতে বলেন।

সিকদার সেলিম জানান, বৃহস্পতিবার ফতুল্লা থানায় অভিযোগ দায়েরের পর এসআই মিজান ঘটনাস্থলে আসেন এবং পরদিন (শুক্রবার) রাতে আমাকে থানায় আসতে বলেন। সে মোতাবেক আমি থানায় প্রবেশ করছিলাম এমন সময় থানা থেকে বের হয়ে আসছিলেন মীর সোহেল আলী, শাহীনসহ আরও বেশ কয়েকজন। তখন মীর সোহেল আলী ও তার লোকজন থানার ভেতরই আমার উপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে আমাকে মারতে মারতে থানা থেকে রাস্তার নিয়ে আসে। আবার এখান থেকে টেনে ওসি তদন্তের রুমে নিয়ে যায় আমাকে লকআপে ঢুকিয়ে দিবে বলে।

তিনি আরও বলেন, ওসি তদন্তের রুমে নেওয়ার পর তিনি আমাকে উল্টো ধমকাচ্ছিলেন আর বলছিলেন ‘থানায় আপনার কাজ কি, কেন এসেছেন!’ এভাবে থানার ভেতরই যদি আমাদের উপর হামলা করে তাহলে বাইরে আমাদের নিরাপত্তা কতটুকু এবার বুঝে নেন।

সেলিম আরও বলেন, এর আগে মীর হোসেন মীরুর বিরুদ্ধে আমি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেছিলাম। বৃহস্পতিবার রাতে আমাকে পেয়ে মীর সোহেল আলী ও তার লোকজন আমাকে থানার ভেতরে এলোপাথাড়ি মারধর ও হামলা চালায়।

নির্যাতনের শিকার ব্যবসায়ী সেলিম বাদী হয়ে রোববার বিকেলে মীর সোহেল ও তার সহযোগী শাহীন মিয়ার নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ১০/১৫ জনকে আসামী করে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগ মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তবে এ ব্যাপারে মীর সোহেল আলী বলেন, সেলিমকে থানার বাইরে গেটের সামনে দেখে আমি তাকে আমার অফিসে আসার কথা বলেছি। যাতে তাদের বিরোধটি নিষ্পত্তি করা যায়। কারণ সে এলাকায় আওয়ামীলীগের রাজনীতির পরিচয় দিয়ে চলে। আওয়ামীলীগের কর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হলে এতে দলের জন্যই খারাপ হয়। তাই আমি জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দুই পক্ষকেই আমার অফিসে ডেকেছি মিমাংসার জন্য। তাকে মারধরের প্রশ্নই উঠেনা। এছাড়াও এদিন বিকেলে বিষয়টি মিমাংসার জন্য ফতুল্লা থানার তদন্ত কর্মকর্তার আমাকে থানায় থাকতে বলেছিলেন।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন জানান, এই ঘটনায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত আসামীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর