নারায়ণগঞ্জের সাবেক ওসির স্ত্রী গ্রেপ্তার


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৩:২৩ পিএম, ১৯ মার্চ ২০২০, বৃহস্পতিবার
নারায়ণগঞ্জের সাবেক ওসির স্ত্রী গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জে চেক জালিয়াতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ঢাকার রমনা এলাকা থেকে মুনমুনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তার বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতির মামলায় ৮ বছরের সাজা থাকায় তিনি ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ছিলেন। মুনমুন শহরের ডনচেম্বার এলাকায় বসবাস করতেন এবং তিনি পুলিশ কর্মকর্তা কামরুল আলমের স্ত্রী।

সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, চেক জালিয়াতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এর আগে ২০১৩ সালে আলোচিত সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সাবেক বিতর্কিত ওসি কামরুল আলম মোল্লার দ্বিতীয় স্ত্রী মুনমুনের বিরুদ্ধে  দুটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

ওই সময়ে পুলিশ জানায় “শহরের ১৬নং ঈশা খা রোড এলাকার মেসার্স মুন ড্রিম এক্সপোর্টার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিসেস মুনমুনসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ চুরি ও ব্যাংকের প্রতারণার মামলায় পৃথকভাবে দুটি ওয়ারন্টে ইস্যু করা হয়েছে।”

সাত খুনের আগে সিদ্ধিরগঞ্জে সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নূর হোসেনের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এক সঙ্গে বসেছিলেন মুনমুন ও  ওসি কামরুল।

ওই সময়ে কামরুল আলম মোল্লার প্রথম স্ত্রী রেহেনা পারভীন জেলা পুলিশ সুপারের কাছে দেওয়া এক লিখিত অভিযোগে বলেন, “পুলিশ পরিদর্শক কামরুল তার অমতে দ্বিতীয় বিয়ে করেছে। এর প্রতিবাদ করায় তাকে নানাভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকে কামরুল। সর্বশেষ ১৪ নভেম্বর বুধবার গভীর রাতে কামরুল তাকে পিটিয়ে সন্তানসহ বাসা থেকে বের করে দেয়। শরীরে নির্যাতনের যন্ত্রণা নিয়ে সারারাত তিনি থানার পাশে একটি চায়ের স্টলে অবস্থান করতে বাধ্য হন।”

ঢাকার রামপুরার বনশ্রীতে ওসি কামরুল জি ব্লকের ১নং সড়কের ২৫নং বাড়ীর ৪-এ নং ফ্যাটটি মাসিক ২০ হাজার টাকায় ভাড়া নেন। বাড়ীওয়ালার সঙ্গে চুক্তিপত্রে ওসি কামরুল আলম মোল্লা তার নাম লিখেছেন কামরুল ইসলাম মোল্লা। বাবার নাম শামসুল আলম মোল্লা হলেও লিখেছেন তোফাজ্জল হোসেন। ওসির গ্রামের বাড়ী গোপালগঞ্জ জেলার ইচাখালী গ্রামে, কিন্তু ভাড়ার চুক্তিপত্রে ওসি স্থায়ী ঠিকানা লিখেছে ৪৭/১, নিউ চাষাঢ়া, জামতলা, নারায়ণগঞ্জ। বর্তমান ঠিকানা লিখেছে ৩৭নং ঈশা খাঁ রোড, নারায়ণগঞ্জ। ওসির প্রথম স্ত্রী রেহানা পারভীন কন্যা, পুত্রসহ ঢাকায় ফার্মগেট এলাকায় বসবাস করেন।

ওসি কামরুল মুনমুন নামের এক মহিলাকে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই বিয়ে করেন ১ লাখ টাকা দেনমোহরে (কাবিননামা অনুযায়ী)। ওসির দ্বিতীয় স্ত্রী শেখ মুনমুন গত ২১ থেকে ২৫ জুন নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে আটক ছিলেন একটি প্রতারনা মামলায়। সি আর মামলা নং- ৩৭৩/১২, ধারা দন্ডবিধির ৪০৬, ৪২০, ৩৮০, ১৮০। মুনমুন কারাগারে থাকাকালে ওসি কামরুল তার স্বামী পরিচয়ে কারাগারের জেলারের সঙ্গে দেখা করেন এবং খোঁজ খবর নেন।

নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকলেও গোপালগঞ্জের লোক হওয়ায় ওসি কামরুলের বিরুদ্ধে জেলার ঊধ্বর্তন পুলিশ কর্মকর্তারা কোনো কথা বলতে সাহস পান না বলে জানা গেছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর