rabbhaban

শীত নিবারণে প্রস্তুত মার্কেটগুলো


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:২৮ পিএম, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, শুক্রবার
শীত নিবারণে প্রস্তুত মার্কেটগুলো

রাতে রাস্তার বৈদ্যুতিক বাতিগুলোর দিকে তাকালেই চোখে পরে আলোটাকে যেন ঢেকে ফেলা হচ্ছে। চারদিকে সাদা ও ঝাপসা আবরণ। নিরব নিস্তব্দ এমন পরিবেশ গত কয়েক দিন ধরে রাত ১০টার পর থেকেই দেখা যাচ্ছে নগরীতে। আবার ভোর ৫টায় থেকে সকাল ৭টা পর্যন্তও এ কুয়াশার দৃশ্য দেখা যায়। হালকা বাতাসে শীতের অনুভূতিও বেশ। অনেককেই সকলে গরমের কাপড় না পড়লেও একাধিক জামা কাপড় পরে চলাফেরা করতে দেখা পাওয়া যায়।

শীতের এ বার্তার সঙ্গে সঙ্গে শহরের ফুটপাত ও বিভিন্ন বিপনী বিতনগুলোতেও দেখা যাচ্ছে গরমের পোশাকে আয়োজন। বাহারী রং বেরঙের সব পোশাকে ভরে যাচ্ছে দোকান। সমান তালে রয়েছে ফুটপাতের দোকানগুলোও। ছোট বড় সকল বেশিদের গরম কাপড় খোলা বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। দামও রয়েছে সহনীয় পর্যায়ে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছে শীত এখনও তীব্র না হওয়ায় ক্রেতাদের তেমন চাহিদা নেই। তবে শহর থেকে গ্রাম অঞ্চলে বেশি শীত হওয়ায় অনেকেই শহর থেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে কিছুটা বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু ক্রেতারা বলছেন বিগত বছর যেসব শীতের পোশাক বিক্রি হয়নি সেসবই উঠছে দোকানগুলোতে। তবে সেগুলোর দাম বিগত বছরের তুলনায় কয়েকগুন বেশি।

শহরের ডিআইটি এফ রহমান সুপার মার্কেটে আসা ক্রেতা রমজান জানান, বিগত বছরে শীতের যেসব পোশাক ছিল এবারও তাই দেখছি। ভিন্ন বলতে কিছুই নেই। কারণ গত বছর যেগুলো দোকানদাররা বিক্রি করতে পারেননি সেগুলোই দোকানে সাজিয়ে রাখছেন নতুন করে পলি করে। তবে গত বছরের দাম এবার নেই। যে সুয়েটার ছিল ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা এবার তা দাম চাইছে ১৫০০ থেকে ১৭০০ টাকা।

একই মার্কেটের বিক্রেতা জহিরুল ইসলাম জানান, শীতের পোশাকের ক্ষেত্রে সব জায়গাই একই হয়। কারণ শীতের বেচাকেনা হয় মাত্র দুই মাস। এজন্য অনেক পোশাক আনা হয়। কিন্তু সেই পরিমাণ বিক্রি হয় না। ফলে এক বছরের পোশাক অন্য বছর চলে আসে। এমনটা যে আমাদের দোকানে তা না পাইকারী কিনতে গেলেও একই অবস্থা। কারণ তারাও আমাদের পুরানো গুলোই বিক্রি করে। শীতের পোশাক খুব কম নতুন কোন ডিজাইন কিংবা ড্রেস আসে।

দাম বেশি ক্রেতাদের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, দাম কিছুটা বেশি সেটা সত্য। কারণ বিগত বছর যে টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে সেটার কিছু লাভের আশায় দাম বাড়িয়ে বিক্রির চেষ্টা করা হয়। তবে সেটা সহনীয় পর্যায়। কেননা বেশি দাম চেয়ে বিক্রি করতে না পারলে আরো একবছর পরে থাকবে। তখন পোশাক নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অনেকেই কেনা দামে বিক্রি করে ঘর খালি করেন।

এদিকে শহরের চাষাঢ়া হকার মার্কেটেও বাহারী রঙের শীতের পোশাক সাজিয়ে রাখতে দেখা গেছে। একই সঙ্গে দেখা যাচ্ছে শীতের পোশাক এক ধরে ঢেকে বিক্রি করা হচ্ছে। এসব দোকানগুলোতেও ক্রেতাদের ভিড় দেখা যায়। বিপনী বিতনের চেয়ে কম দামে পাওয়া যায় বলে সকলই এগুলো থেকে কিনতে আসেন।

তেমনি একজন রহিম বাদশা। তিনি বলেন, দোকান থেকে একটি সুয়েটার কিনতে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা লাগে। কিন্তু এখানে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা দামে একই রকম পাওয়া যায়। শীতের দুই মাস পরার জন্যই এগুলো কিনতে হয়। তা না হলে সারা বছর পরে থাকে।

সেলিনা বেগম বলেন, দোকানের চেয়ে হকার্স মার্কেটে শীতের পোশাকের দাম কম তাই এখানে আসি। ভালো করে দেখে কিনলে ভালো জিনিসই পাওয়া যায়। তাই এখানে আসা।

হাকার্স মার্কেটের বিক্রেতা সিরাজ বলেন, শীতের পোশাক বিক্রি এখনও শুরু হয়নি। একজন দুইজন আসছেন তাও বাচ্চাদের জন্য কিনতে। কারণ যে শীত পরছে তাতে গরমের পোশাকের প্রয়োজন হয় না। টিশার্ট ও শার্ট পড়লেই হয়ে যায়। তবে বাচ্চাদের জন্য পোশাক প্রয়োজন। তাই বাচ্চাদের পোশাকই বিক্রি হচ্ছে। তাও দাম সহনীয় পর্যায়ে আছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর