rabbhaban

বিকেএমইএ’র এজিএম ও ইজিএমে সেলিম ওসমান : মামলার কারণে ভবন হচ্ছে না


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৩০ পিএম, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, শনিবার
বিকেএমইএ’র এজিএম ও ইজিএমে সেলিম ওসমান : মামলার কারণে ভবন হচ্ছে না

নীট গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বিকেএমইএ ২০১৬-২০১৮ সালের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ও বিশেষ সাধারণ সভা(ইজিএম) অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৭ নভেম্বর শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রুটের সস্তাপুর এলাকায় অবস্থিত নাসিম ওসমান মেমোরিয়াল পার্কের অভ্যন্তরের সংগঠনটির প্রায় ১হাজার সদস্যের উপস্থিতিতে উক্ত ইজিএম ও সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এজিএম অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অপরদিকে রাত ৮টায় একই স্থানে সংগঠনটির ২২ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে সদস্য প্রতিষ্ঠানের পুর্নমিলনী ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বার্ষিক সাধারণ সভায় সংগঠনটির সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান, ২০১৬ সালের জানুয়ারী থেকে ২০১৮ সালের জুন মাস পর্যন্ত বিকেএমইএ এর সকল আয়-ব্যয়ের হিসেব প্রদান করেছেন। যা লিখিত আকারে আগেই সকল সদস্যদের কাছে পৌছে দেওয়া হয়েছিল। এজিএম সম্পর্কে কারো কোন প্রশ্ন না থাকায় সর্ব সম্মতিক্রমে এজিএম এর সকল আলোচ্যসূচী সমূহ অনুমোদিত হয়।

প্রকাশিত হিসেব অনুযায়ী সংগঠনটির ২০১৬ সালের জানুয়ারীতে ব্যাংকে রক্ষিত থাকা নগদ অর্থের পরিমান ছিল ১৪ কোটি ৪৬ লাখ ১২২ টাকা। ২০১৮ সালের জুন মাসে এসে ব্যাংকে রক্ষিত নগদ অর্থের পরিমান দাড়িয়েছে ২৯ কোটি ২৪ লাখ ৩হাজার ৫৭টাকা। সুতরাং ২০১৬ থেকে ২০১৮ জুন পর্যন্ত বিকেএমইএ’র মোট নিট আয় হয়েছে ৮ কোটি ৭৬ লক্ষ ২৯ হাজার ২৮৯টাকা। আর সংগঠটির মোট সম্পদের পরিমান ৩০ কোটি ৬৫ লাখ ৯৪হাজার টাকা।

অতত্রব সংগঠনটির বর্তমানে মোট ৫৯কোটি ৮৯লাখ ৯৭ হাজার ৫৭টাকা সমমূল্যে ব্যাংকে নগদ সঞ্চিতি ও সম্পদ রয়েছে।

এজিএম শেষ হওয়ার পরপরই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শুরু হয় বিশেষ সাধারণ সভা(ইজিএম)। সভায় বিকেএমইএ সভাপতি সেলিম ওসমান উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা ছিল নারায়ণগঞ্জ থেকে বিকেএমইএ এর সকল কর্মকান্ড পরিচালনা করতে হবে। সেই মোতাবেক বিকেএমইএ চাষাঢ়ায় নবাব সলিমুল্লাহ রোডে খাজা সুপার মার্কেটের পেছনের অংশে ২০০৪ সালে ৬৫ লাখ ৪৬ হাজার ৫’শ টাকা মূল্যে ১০ দশমিক ৬২ শতাংশ জমি ক্রয় করে ছিল। যেখানে ২০১৬ সালের ৯ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত হওয়া ইজিএমে সদস্যবৃন্দরা বিকেএমইএ কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য ১৫ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন দিয়ে ছিলেন। ইতোমধ্যে কমপ্লেক্স নির্মাণ কাজে বেইজমেন্ট ও গ্রাউন্ড ফ্লোর তৈরিতে ২ কোটি ৪৫ লাখ ৯৪ হাজার টাকা ব্যয় করেছে। কিন্তু বিকেএমইএ এর ক্রয়কৃত জায়গার সামনের অংশের জমি টুকু কখনো রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ(রাজউক), কখনো নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন, আবার কখনো বা ব্যক্তিগত মালিকানা দাবী করা হয়েছে। বর্তমানে জমিটি নিয়ে রাজউকের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের দায়ের করা মামলা চলমান রয়েছে।

এমতাবস্থায় ২০১৯ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে যদি উক্ত অংশ টুকু নিয়ে মামলা মোকাদ্দমা শেষ না হয়, সেক্ষেত্রে বিকেএমইএ এর পরিচালনা পর্ষদের ২০১৬ সালের ইজিএমে অনুমোদিত হওয়া বাজেটের ১৫ কোটি টাকা থেকে অন্যত্র নতুন জমি ক্রয় করে বিকেএমইএ কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে বলে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

এজিএম ও ইজিএম শেষে সংগঠনটির ২২ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে সদস্য প্রতিষ্ঠানের পুর্নমিলনী ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু করা হয়। ২২০ পাউন্ডের কেক কেটে বর্ষপূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠান শুরু করা হয়। অনুষ্ঠানে বিকেএমইএ সদস্যবৃন্দদের পক্ষ থেকে বিকেএমইএ গঠনে মূল ভূমিকা পালন করা, ব্যবসায়ী হিসেবে ৮বার সিআইপি (শিল্প ও রপ্তানি) নির্বাচিত হওয়া এবং পরবর্তীতে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় সংগঠনটির সভাপতি এ.কে.এম সেলিম ওসমানকে ৫৩ ভরি রোপ্য খচিত একটি সম্মাননা পদক উপহার প্রদান করা হয়।

বর্তমান ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় ও বর্তমান ও তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহম্মেদ সার্বিক সহযোগীতায় ১৯৯৬ সালের ২ নভেম্বর বিকেএমইএ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। সংগঠনটির বর্তমান সক্রিয় সদস্য সংখ্যা মোট ১২৩৯। যার মধ্যে কমবেশি নারায়ণগঞ্জে ৬৮২, ঢাকায় ৪৮০ ও চট্টগ্রাম ৭৭টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বিকেএমইএ’র বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ(প্রধান) কার্যালয় এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম মোট ৩টি কার্যালয় রয়েছে। এরমধ্যে ১৯৯৯ সালে নারায়ণগঞ্জের প্রেস ক্লাব ভবনে ৪ হাজার ২০০ বর্গফুটের ফ্লোর ১৮ লক্ষ টাকায় পজিশন ক্রয় করে। যেখানে বর্তমানে প্রধান কার্যালয় হিসেবে কার্যক্রম চলছে। অপরদিকে ২০১১ সালে ঢাকায় ৬৭০০ বর্গ ফুটের ফ্লোর ডেকোরেশন সহ ১১ কোটি টাকায় ক্রয় করা হয়। সেখানে ঢাকা অফিসের কার্যক্রম চলছে। এছাড়াও চট্টগ্রামে ২০০৮ সালে ২২০০ বর্গফুটের ফ্লোর ভাড়া নিয়ে চট্টগ্রাম অফিসের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

বিকেএমইএ এর যাত্রাকাল থেকে বর্তমান অবস্থান তুলে ধরে সংগঠনটির সভাপতি এমপি সেলিম ওসমান বিকেএমইএ গঠনে সহযোগীতা করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহম্মেদ, সাবেক অর্থমন্ত্রী মরহুম শাহ্ এস.এম কিবরীয়া, ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ.কে.এম শামীম ওসমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সেলিম ওসমান আরো উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালে নীট প্রতিষ্ঠান গুলোকে আলাদা করে বিকেএমইএ গঠন করা হয়। জিএসপি সংক্রান্ত জটিলতায় শুরুতেই বিকেএমইএ এর সদস্য প্রতিষ্ঠান গুলো হোচট খায়। পরবর্তীতে বিকেএমইএ, তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর মধ্যস্থতায় জিএসপি জটিলতা কাটিয়ে উঠা সম্ভব হয়। যার ফলে পুনরায় বিকেএমইএ এর সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো আলোর মুখ দেখে। যার ফলপ্রসূতে বাংলাদেশে যেখানে মাত্র ১২টি স্পিনিং মিল ছিলো সেখানে প্রায় পাঁচ শতাধিক টেক্সটাইল মিলের জন্ম হয়। ফলে নীট সেক্টর ও টেক্সটাইল মিলে নতুন করে প্রায় ৩০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে এই সেক্টরে কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ। যাদের মাসিক বেতন গড়ে ১৫হাজার টাকা করে হিসেব করলে প্রতি মাসে নীট সেক্টর থেকে প্রায় ২হাজার ২৫০ কোটি টাকা প্রদান করা হয়। আর কর্মরত ১৫ লাখ শ্রমিকের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ নারী শ্রমিক কর্মরত রয়েছে।

আর গত ২২ বছরে বিকেএমইএ এর মাধ্যমে বিশ্বের ১৬৪টি দেশে মোট ১৩৬ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যে নীটপন্য বিদেশে রপ্তানি করা হয়েছে। এখানে উল্লেখ্য ওভেনের তুলনায় নীটপন্যে ভেল্যু এডিশন শতকরা ৭৫ শতাংশ বেশি হয়ে থাকে।

মনোজ্ঞ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংঙ্গীত পরিবেশন করেন দেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী কুমার বিশ্বজিত ও কনা।

বিকেএমইএ এর সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের সভাপতিত্বে এজিএম ও ইজিএম অনুষ্ঠানের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন, বিকেএমইএ এর প্রথম সহ সভাপতি মনসুর আহম্মেদ, দ্বিতীয় সহ সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, সহ সভাপতি(অর্থ) হুমায়ন কবির খান শিল্পী, পরিচালক মঞ্জুরুল হক ও আবু আহম্মেদ সিদ্দিক।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর