rabbhaban

পাট মন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে ক্ষুধার্ত পাটকল শ্রমিকরা


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:০৯ পিএম, ১৪ মে ২০১৯, মঙ্গলবার
পাট মন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে ক্ষুধার্ত পাটকল শ্রমিকরা

সোনালী আশের দেশ খ্যাত পাট শিল্পের দেশ বাংলাদেশ। কালের বিবর্তনে এ সুনাম অনেকটাই হারিয়ে গেলেও এখনও রাষ্ট্রয়াত্ব বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পাট শিল্প বেঁচে আছে। আর যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে টিকে রয়েছে এই শিল্প তারাই আজ বেতন ভাতা সহ নানা সুবিধা থেকে বঞ্চিত। দুমুঠো খাবারের জন্য মাঠে নেমে আসতে বাধ্য হয়েছে নারী পুরুষ সহ সহস্রাধিক শ্রমিকরা।

নারায়ণগঞ্জের মত সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে পাটকল শ্রমিকদের এ আন্দোলন। নারায়ণগঞ্জের ডেমরা, যশোর এবং খুলনায় একযোগে ২৬টি রাষ্ট্রয়াত্ব পাটকল প্রতিষ্ঠানের ৮০হাজার শ্রমিক মাঠে নেমে এসেছে। অবরোধ ধর্মঘট সহ টানা আন্দোলনের কর্মসূচী পালনের মাঝেই প্রতিবাদ সমাবেশ করে আসছে। একই সাথে রমজানকে কেন্দ্র করে নামাজ আদায় এবং ইফত্র করছেন রাজপথেই। সাধারণ পাটকল শ্রমিকদের সাথে একাগ্রতা প্রকাশ করছেন ক্ষমতাসীন শ্রমিক লীগের নেতৃবৃন্দরাও। একের পর এক আশ্বাসেও কাংখিত সমাধান না পাওয়ায় এবার আর রাজপথ ছাড়তে রাজি নন এসকল শ্রমিকরা।

জানা যায়, বেতন ভাতা সহ ৯ দফা দাবীতে দীর্ঘদিন আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছেন রাষ্ট্রয়াত্ব পাটকল শ্রমিকরা। এর ভেতর পাট খাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্ধ, বকেয়া মজুরী পরিশোধ, জাতীয় মজুরী নির্ধারন, উৎপাদনশীলতা কমিশনের রোয়েদাদ ২০১৫ কার্যকর, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক কর্মচারীদের পিএফ ও গ্রাচুইটির অর্থ পরিশোধ, চাকরিচ্যুত শ্রমিক কর্মচারীদের পুর্নবহাল, শূন্য পদ পূরণ এবং নিয়োগ স্থায়ী করনের দাবী রয়েছে। এর আগে গত ২,৩ এবং ৪ এপ্রিল ৭২ ঘন্টার রাজপথ রেলপথ ধর্মঘট পালন করে। একই মাসের ১৫ তারিখ পুনরায় ৯৬ ঘন্টা ধর্মঘটের ডাক দেয়।

সেসময় আন্দোলনকারীদের সাথে শ্রম মন্ত্রণালয় ও বিজেএমসির সাথে সমঝোতার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্ত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বেতন ভাতা পরিশোধ না করায় আবারও আন্দোলন শুরু হয়। আর সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই ৫ মে থেকে সারাদেশে একযোগে সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে আন্দোলনে নামে শ্রমিকরা। অহিংস এই ধর্মঘটের মাধ্যমে স্থানীয়দেরও মানবিক দৃষ্টি আদায় করে নিতে সক্ষম হয়েছেন তারা।

শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সরকার থেকে ৯ দফা বাস্তবায়নে কথা দিয়েও কথা না রাখায় রমজান মাসে পাটকল শ্রমিকরা অনিশ্চিত ও মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে। দীর্ঘদিনের বেতন না পাওয়ার ফলে তাদের বাড়ী ভাড়া তো দূরে থাক পেটের দুই বেলা ভাত এখন ধার করে খেতে হচ্ছে তাদের। বন্ধ শ্রমিকদের ছেলে মেয়েদের স্কুলে যাওয়া। চরম দূরাবস্থা আর হতাশায় বাধ্য হয়েছেন তীব্র গরমের ভেতর দাবী আদায় করে নিতে। আর এই অবস্থা থেকে উত্তরন পেতে মাননীয় পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাটকল শ্রমিকদের সুযোগ সুবিধা এবং শ্রমিকদের ৯ দফা দাবির সুরাহা না করেই মিল কতৃপক্ষ তাদের খেয়াল খুশি মত কাজ পাটকল চালাচ্ছে। উর্ধতন কর্মকর্তারা মোটা অংকের বেতন ভোগ করলেও বঞ্চিত থাকছেন সাধারণ শ্রমিকরা। মন্ত্রণালয়ের উদাসীনতা ও একগুঁয়েমির ফলেই শ্রমিকদের বঞ্চিত করার মাধ্যমে ধ্বংসের মুখে পড়েছে ঐতিহ্যবাহী পাট ও পাটজাতশিল্প।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর