rabbhaban

নারায়ণগঞ্জে সরেনি মানহীন নিষিদ্ধ ৫২ পণ্য


সাবিত আল হাসান | প্রকাশিত: ০১:৪৬ পিএম, ২৭ মে ২০১৯, সোমবার
নারায়ণগঞ্জে সরেনি মানহীন নিষিদ্ধ ৫২ পণ্য

দেশে মানহীন হিসেবে প্রমাণিত বিভিন্ন কোম্পানির ৫২টি পণ্য এখনও সরিয়ে নেয়নি বিক্রেতা ও কোম্পানীগুলোর বিক্রয় প্রতিনিধি। একাধিক বার এ সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রদান করা হলেও রাজধানী লগোয় নারায়ণঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় দেদারছে চলছে নিষিদ্ধ এসকল পণ্য বিক্রি। একদিকে ক্রেতাদের অজ্ঞতার সুযোগ অন্যদিকে খুচরা পর্যায়ের বিক্রেতাদের বিপাকে পড়ে যাওয়ার ভয়। এসকল কারণে এখনও বিক্রি হচ্ছে জনস্বাস্থ্য ক্ষতিকর মানহীন পন্য।

নারায়ণগঞ্জের মূল শহর ছাড়াও শহরতলীর দোকানে দোকানে মিলবে নিষিদ্ধ মানহীন পণ্যের সমারোহ। ক্রেতাদের অজ্ঞতার সুযোগে মুহূর্তেই তাদের হাতে গছিয়ে দিচ্ছেন বিক্রেতারা। রমজানের পূর্বে এসকল পণ্য স্টক করার কারণে বিক্রেতারা দ্রুততার সাথে বিক্রি করে লোকসান এড়াতে চাইছেন। সচেতন ক্রেতারা এসকল পণ্য এড়িয়ে গেলেও অধিকাংশ ক্রেতারাই শিকার হচ্ছেন প্রতারণার।

নিত্যদিনের বাজার করতে আসা মোসাদ্দেক নামে ব্যবসায়ী জানান, বাজারে ৫২টি পণ্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে জানি। কিন্তু দুই একটি পরিচিত পণ্য ব্যাতিত আর কোনটিই তার মনে নেই। স্বাভাবিক ভাবেই সেসব মনে থাকারই কথা নয়। সে কারণে বিক্রেতারা ঠকিয়ে দিতে পারেন তাকে মূহূর্তেই। তাছাড়া প্রতিদিন হাতে লিস্ট নিয়ে যাওয়া কিংবা বাজার করে এসে মিলিয়ে নেয়াটাও তার পক্ষে সম্ভব নয়। তাছাড়া ৫২টি পণ্য যে নিষিদ্ধ করা হয়েছে তা দেশের প্রবীণ ক্রেতা বিক্রেতাদের অনেকেরই অজানা এখনও।

একই ভাবে ফতুল্লা বাজারের মুদি দোকানদার ফারুক আহমেদ জানান, বাজারে বেশ কিছু পণ্য নিষিদ্ধ করা হলেও সেসকল পন্যের বিক্রয় প্রতিনিধিরা দোকান থেকে তাদের পণ্য ফিরিয়ে নেয়নি। এই কারণে দোকানীরা দ্রুত পণ্য বিক্রি করে লোকসানের হাত থেকে বাঁচতে চাইছেন। তাছাড়া ঠিক কোন কোন পণ্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে তার অধিকাংশই খেয়াল থাকে না। সে হিসেবে একটি চার্ট প্রদান করা হলে সকল বিক্রেতাদের জন্য সুবিধা হতো।

কিন্তু জেনে শুনে শুধু মুনাফার লোভে মানহীন পন্য ক্রেতাদের হাতে তুলে দেয়া ঠিক হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

গত ১২ মে মানহীন হিসেবে প্রমাণিত হওয়ায় ৫২ টি পণ্যকে ১০ দিনের ভেতর বাজার থেকে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ প্রদান করেছিল আদালত। কিন্ত আদালতের এই নির্দেশ বাস্তবায়নে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টরা যে খুব একটা আন্তরিক নন এমনটাই ধারণা করছেন ক্রেতারা।

এ ব্যাপারে সামাজিক ও নাগরিক ইস্যু নিয়ে আন্দোলন করা আমরা নারায়ণগঞ্জবাসীর সভাপতি হাজী নূরউদ্দিন আহমেদ বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকার পরেও এখন পর্যন্ত সেটি বাস্তবায়ন না হওয়াটা অত্যান্ত পরিতাপের বিষয়। সম্প্রতি দেখতে পাচ্ছি তাদের পক্ষে বুদ্ধিজীবীরা সাফাই গাইছেন কেউ কেউ। কিন্তু আমাদের জানা প্রয়োজন যে এসকল পন্য সাধারণ মানুষের দেহের ক্ষতির পাশাপাশি গর্ভের সন্তানেরও সমস্যা হতে পারে। আমরা এই আদেশ কার্যকর এখনও দেখতে না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করছি। এটি ভোক্তা অধিকার কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের অবহেলা রয়েছে। আমরা এই উচ্চ আদালতের আদেশের দ্রুত বাস্তবায়ন দেখতে প্রশাসনের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহবান জানাচ্ছি।

৫২টি পণ্য হলো- প্রাণের হলুদ গুঁড়া, ফ্রেশের হলুদ গুঁড়া, মোল্লা সল্টের আয়োডিন যুক্ত লবণ, প্রাণের কারি পাউডার, ড্যানিশের কারি পাউডার, সিটি ওয়েলের সরিষার তেল, গ্রিন ব্লিচিংয়ের সরিষার তেল, শমনমের সরিষার তেল, বাংলাদেশ এডিবল ওয়েলের সরিষার তেল, কাশেম ফুডের চিপস, আরা ফুডের ড্রিংকিং ওয়াটার, আল সাফির ড্রিংকিং ওয়াটার, মিজানের ড্রিংকিং ওয়াটার, মর্ণ ডিউয়ের ড্রিংকিং ওয়াটার, প্রাণের লাচ্ছা সেমাই, ডুডলি নুডলস, শান্ত ফুডের সফট ড্রিংক পাউডার, জাহাঙ্গীর ফুড সফট ড্রিংক পাউডার, ড্যানিশের হলুদের গুঁড়া, এসিআইয়ের ধনিয়ার গুঁড়া, বনলতার ঘি, পিওর হাটহাজারী মরিচ গুঁড়া, মিস্টিমেলার লাচ্ছা সেমাই, মধুবনের লাচ্ছা সেমাই, মিঠাইয়ের লাচ্ছা সেমাই, ওয়েল ফুডের লাচ্ছা সেমাই, এসিআইয়ের আয়োডিনযুক্ত লবণ, কিংয়ের ময়দা, রূপসার দই, মক্কার চানাচুর, মেহেদীর বিস্কুট, বাঘাবাড়ীর স্পেশাল ঘি, নিশিতা ফুডসের সুজি, মধুবনের লাচ্ছা সেমাই, মঞ্জিলের হলুদ গুঁড়া, মধুমতির আয়োডিনযুক্ত লবণ, সান ফুডের হলুদ গুঁড়া, গ্রিন লেনের মধু, কিরণের লাচ্ছা সেমাই, ডলফিনের মরিচের গুঁড়া, ডলফিনের হলুদের গুঁড়া, সূর্যের মরিচের গুঁড়া, জেদ্দার লাচ্ছা সেমাই, অমৃতের লাচ্ছা সেমাই, দাদা সুপারের আয়োডিনযুক্ত লবণ, মদিনার আয়োডিনয্ক্তু লবণ ও নুরের আয়োডিনযুক্ত লবণ ডানকানের ন্যাচারাল মিনারেল ওয়াটার, আরার ডিউ ড্রিংকিং ওয়াটার, দীঘির ড্রিংকিং ওয়াটার।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর