rabbhaban

লিংক রোডে শ্রমিক বিক্ষোভে পুলিশের গুলি লাঠিচার্জ ভাঙচুর


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ১০:০৯ পিএম, ০৮ আগস্ট ২০১৯, বৃহস্পতিবার
লিংক রোডে শ্রমিক বিক্ষোভে পুলিশের গুলি লাঠিচার্জ ভাঙচুর

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় একটি রপ্তানীমুখী পোষাক কারখানায় বেতন বোনাসের দাবীতে বিক্ষোভরত শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ শ্রমিক আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়েছে।

৮ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ফতুল্লার ভূইগড় এলাকায় জাজ অ্যাপারেলস নামে গার্মেন্ট শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ওই ঘটনা ঘটে। এ কারণে কয়েক ঘণ্টা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে যান চলাচল বন্ধ ছিল।

গার্মেন্ট শ্রমিক সামছুল ইসলাম জানান, ৫ মাসের ওভারটাইম ও দুই মাসের বকেয়া বেতন চাইলে মালিকপক্ষ দেই দিচ্ছি বলে সময় ক্ষেপন করতে থাকে। বৃহস্পতিবার বিকেলে বকেয়া বেতন চাইলে দুই শ্রমিককে অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে মালিক পক্ষের লোকজন মারধর করে।

এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে কারখানার ৫ শতাধিক শ্রমিক লিংক রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ করলে পুলিশ এসে আমাদের উপর লাঠিচার্জ করে। তখন কিছু শ্রমিক ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছে।

আন্দোলনকারী শ্রমিকরা জানান, গত চার মাস ধরে কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের বেতন ঠিকমতো দিচ্ছে না। কয়েক ভাগে অল্প বিস্তর দিলেও বেতনের অধিকাংশ টাকাই বকেয়া রয়েছে। এছাড়া ঈদ বোনাস বাবদ প্রতি শ্রমিককে মাত্র এক হাজার টাকা করে দিচ্ছে। শ্রমিকদের দাবি, বেতন বোনাস পরিশোধ না করেই কারখানা বন্ধ করে দেয়ার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদ জানালে কর্মকর্তারা শ্রমিকদের কয়েকজনকে ডেকে মারধর করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

জাজ অ্যাপারেলসের এজিএম আবুল কালাম আজাদ জানান, শ্রমিকদের অভিযোগ মিথ্যা। তারা চলতি মাসের বেতন পাবে আর ঈদ বোনাস। এতে মালিক পক্ষ থেকে বলা হয়েছে এখন মাস শেষ হয়নি তাই অর্ধেক মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস দেয়া হবে। কিন্তু শ্রমিকেরা তা না মেনে কারখানায় ভাংচুর করে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায়।

এদিকে সড়ক অবরোধ করে শ্রমিকদের বিক্ষোভের খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ও ফুতল্লা থানা পুলিশ সহ জেলা পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। তবে শ্রমিকদের অবরোধের কারণে ঢাকা-লিংক রোডের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। চরম দুভোগে পড়ে ঈদে ঘরমুখো মানুষ জন। কিন্তু বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা অনুরোধ না রেখে  পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এক পর্যায়ে শ্রমিকদের সাথে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটলে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিনিত হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে প্রায় অর্ধশত রাউন্ড টিয়াল সেল, রাবার বুলেট ও সটগানের গুলি ছুড়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন জানান, বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকদের নানা ভাবে চেষ্টা করা হয়েছে সড়ক থেকে নেমে গিয়ে কারখানার সামনে অবস্থান করার। কিন্তু তারা কিছুতেই পুলিশের কথা না শুনে উল্টো ইট পাটকেল ছুড়ে ১০ জন পুলিশ সদস্যকে আহত করেছে। এসময় পুলিশ ৪৪ রাউন্ড শর্ট গানের ফাকা গুলি ছুড়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

শিল্প পুলিশের পরিদর্শক মাসুদুর রহমান জানান, শিল্প পুলিশ এক রাউন্ড শর্টগানের ফাকা গুলি ও ৫ রাউন্ডের মত গ্যাস গানের গুলি ছুড়েছে। পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। মালিক পক্ষ সকল শ্রমিকদের কারখানায় ডেকে নিয়ে পুরো মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস দিয়ে দিয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর