rabbhaban

পরিবেশ দূষণে মেয়র ও ডিসিকে ড্যামকেয়ার


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:০০ পিএম, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বুধবার
পরিবেশ দূষণে মেয়র ও ডিসিকে ড্যামকেয়ার

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী ও জেলা প্রশাসকদের সব সময়েই ড্যামকেয়ার ভাব দেখিয়ে নির্বিচারে পরিবেশ দূষণ করে আসছিলেন পিংকি এন্টারপ্রাইজ।

দুই বছর আগে বিডিনিউজকের ব্লগারদের কয়েকজনের সঙ্গে আলাপকালে নগরীতে ধুলাবালির জন্য নিজের ব্যর্থতা স্বীকার করেন আইভী: “এটা সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব হলেও তা আমরা পালন করতে পারছি না। বিভিন্ন বাড়ি ও স্থাপনা নির্মাণের ইট ও বালি থেকে নগরীতে ধুলাবালি উড়ছে। বার বার অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হলেও কোনো কাজ হচ্ছে না।”

তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকের বাসভবনের উল্টো পাশে বিআইডব্লিউটিএ’র ঘাট থেকে ট্রাকে করে গলা চুনা বিভিন্ন স্থানে নেওয়া হয়। ট্রাক থেকে এসব চুনা পড়ে পিচ উঠে রাস্তা  নষ্ট হয়ে গেছে। বিভিন্ন সময় সিটি করপোরেশন থেকে অভিযান চালিয়ে জরিমানা আদায় করা হলেও তা বন্ধ করা যায়নি।’

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর মোড় থেকে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড় (চিটাগাং রোড) পর্যন্ত সড়কটি প্রায় ৮ কিলোমিটার। ওই সড়কের শহরের খানপুর মেট্রো হল থেকে কিল্লারপুল মোড় পর্যন্ত হাসপাতালসহ বেশ কিছু সরকারী সেবামূলক দফতর রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল। যেখানে প্রতিদিন দূর দূরান্ত থেকে কয়েক হাজার রোগীর আগমন ঘটে। এর বিপরীতে কুমুদিনীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। যেখানে অসংখ্য শ্রমিক কর্মরত রয়েছে। হাসপাতালের ঠিক পরেই রয়েছে জেলা প্রশাসকের বাসভবন। এরপর রয়েছে বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসি’র স্টাফদের কোয়ার্টার। বরফকল মাঠ সংলগ্ন স্থানে রয়েছে চৌরঙ্গী ফ্যান্টাসী পার্ক। বরফকল মাঠ থেকে কিল্লারপুল পর্যন্ত সড়কের দুই পাশেই রয়েছে অসংখ্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান। কিল্লারপুল মোড়ে রয়েছে ডিপিডিসি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয়। এছাড়া বরফকল খেয়াঘাট ও নবীগঞ্জ খেয়াঘাট দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী পারাপার হয়ে থাকে। ফলে নারায়ণগঞ্জ শহরবাসীর যাপিত জীবনে এই সড়কটির যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু কয়েকজন প্রভাবশালীর কারণে অল্পদিনের মধ্যে সড়কের পাশে নির্মিত ড্রেন ও সড়কে ভাঙ্গন শুরু হয়ে গেছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, খানপুর বরফকল ঘাট এলাকাতে নদীর তীরের জায়গা লিজ নিয়েছেন পিংকি ট্রেডার্সের মনির হোসেন নামের একজন। তিনি তিন বছর ধরে এই জায়গা লিজ নিয়ে সেখানে টাইলস, সিমেন্টের কাঁচামাল বিভিন্ন জাহাজ থেকে আনলোড করে গন্তব্যস্থলে পৌছে দেয়। বরফকলের সামনে সিরাজউদ্দৌলা সড়ক দিয়ে ট্রাকে করে এসব মালামাল বিভিন্ন স্থানে পৌছানোর সময়ে সড়কে যেমন পড়ে যায় তেমনি ত্রিপল দিয়ে ঢেকে না রাখায় বাতাসে উড়ে রাস্তায় পড়ে ড্রেন ভরাট ও রাস্তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ সড়কেই ডিসির বাংলো ও ৩০০ শয্যা হাসপাতাল।

এভাবে প্রতিনিয়ত ট্রাক যাতায়াত করার কারণে ডিসির বাংলোর দ্বিতীয় গেইটের ঠিক বিপরীত পাশে রাস্তার ভাঙ্গনও শুরু হয়ে গেছে। সেই সাথে চারপাশের পরিবেশের বিপর্যয় ঘটছে। ট্রাক দিয়ে বহন করে নিয়ে যাওয়ার রাস্তায় পড়ে থাকা কাঁচামাল ও ধুলোর কারণে নাকে হাত চেপে অথবা রুমাল চেপে চলাচল করতে হচ্ছে যাত্রীদের। ধুলোর কারলে অনেকেই শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভোগার পাশাপাশি নানাবিধ রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম জানান, কাগজপত্র আমরা যাচাই বাছাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

ওই ইজারাদার নিজেকে পিংকি ট্রেডার্সের মালিক পরিচয় দেন। তবে স্থানীয়রা জানান, এ মনির হোসেন মূলত তল্লা এলাকাতে অবস্থিত মডেল গ্রুপের গার্মেন্ট সেক্টর দেখভাল করে থাকেন। বৃহস্পতিবার অভিযানের সময়ে মনির হোসেন মডেল গ্রুপে চাকরি করেন না বা সম্পৃক্ত না বার বার দাবী করলেও সে বক্তব্য থেকে তিনি সরে এসেছেন।

মনির হোসেন জানান, ‘‘আমাদের কাগজপত্র আমরা সকল কিছু জমা দিয়েছি। আমরা আমাদের বক্তব্য তুলে ধরেছি সেখানে। তাদেরকে আমরা জানিয়েছি আমরা তো শুধু জায়গাটুকু ইজারা নিয়েছি আনা নেয়ার ক্ষেত্রে এখানে ট্রান্সপোর্টের লোকদের গাফিলতিতে অনেক সময় পরিবেশের এই বিপর্যয় হয়। তবে এখানে আমাদের লোক আছে, বিআইডব্লিউটিএর লোকও রয়েছে। তারাও বলে দেয় ড্রাইভারদের যেন মালামাল সঠিকভাবে ঢেকে আনা নেয়া করা হয়।’’

তিনি জানান, অনেক সময় রাস্তায় প্রশাসনের পক্ষ থেকেই তল্লাশি করে এই ত্রিপল খুলে দেখা হয়। পরবর্তীতে তা খোলা থাকে এমনটাই ড্রাইভারদের অভিযোগ। এখানে যেন ওভারলোড না হয় সেজন্য তো বিআইডব্লিউটিএ এর একটি দল এখানে দিতে পারে তারা। যারা মালামাল সঠিকভাবে লোড আনলোড হচ্ছে কিনা, ওভারলোড হচ্ছে কিনা কিংবা মালামাল ঢেকে আনা নেয়া করা হচ্ছে কিনা দেখতে পারে। আমরা তো তাদের কাছ থেকে টাকা দিয়েই ইজারা নিয়েছি, তাদেরও তো দায়িত্ব রয়েছে। হয়তো আমি এখান থেকে ব্যবসা বন্ধ করে চলে গেলাম কিন্তু আমার জায়গায় তো আরেকজন আসবে। আমিও চাই পরিবেশের কোন ক্ষতি না হোক কারণ আমার ছেলে সন্তান, ভাই বোন, আত্মীয় স্বজনরা তো এখান দিয়েই যাতায়াত করে। তার উপর পাশেই হাসপাতাল রয়েছে।

মডেল গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ব্যাপারে তিনি জানান, আমি মডেলে চাকরি করি সেটা আমার অন্য পরিচয়। আমি একজন ঠিকাদার আমি আমার পরিচয়ে এখানে ইজারা নিয়েছি। আমার পরিচয়ের সাথে আমার চাকরির স্থান মডেল গ্রুপের নাম জড়ানোটা আমার এবং মডেল গ্রুপ দুটোর জন্যই বিব্রতকর।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর