শহরের মার্কেটগুলোর আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিং সুবিধা পায় না ক্রেতারা


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:১২ পিএম, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার
শহরের মার্কেটগুলোর আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিং সুবিধা পায় না ক্রেতারা

নারায়ণগঞ্জ শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হচ্ছে বঙ্গবন্ধু সড়ক। শহরের বড় বড় সব মার্কেট অবস্থিত এই সড়কের দুই পাশে। সরকারিভাবে শহরের এই মার্কেটগুলোর আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিং ব্যবস্থা থাকার কথা থাকলেও অধিকাংশ মার্কেটের নেই নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা। আর যেগুলোর আছে সেগুলোও ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে না মার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতা সাধারণ।

এমতাবস্থায় মার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা নগরবাসীকে রাস্তার উপর মটর সাইকেল, গাড়ি রেখে কেনাকাটা করতে হচ্ছে। যে কারণে শহরে ভয়াবহ যানজট তৈরী হচ্ছে। একই সাথে ফুটপাতে পথচারীদের চলাচলে তৈরী হচ্ছে চরম প্রতিবন্ধকতা।

জানা যায়, বঙ্গবন্ধু সড়কের দুই পাশে যত ভবন গড়ে তোলা হয় তার প্রত্যেকটির আন্ডারগ্রাউন্ডে নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা থাকা বাধ্যতামূলক। সেই অনুযায়ী প্রতিটি ভবন নির্মাণের নকশা প্রদান করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। তবে মার্কেট নির্মাণ করার পর আন্ডারগ্রাউন্ডে পার্কিং ব্যবস্থা থাকলেও তা মার্কেটে আসা ক্রেতাদের ব্যবহার করতে দেয় না মার্কেট কর্তৃপক্ষ।

উপরন্তু বাড়তি আয়ের লোভে এসব পার্কিংয়ের জায়গা ভাড়া দেয় মার্কেট মালিকেরা। এতে করে রাস্তার উপর গাড়ি পার্কিং করতে বাধ্য হচ্ছে ক্রতারা। একারণে শহরের মার্কেটগুলোতে পার্কিংয়ের জায়গা থাকার পরেও অবৈধ পার্কিং সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। ফলে মার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতা ও নগরবাসী উভয়কেই পড়তে হচ্ছে চরম দুর্ভোগে।

বৃহস্পতিবার ৫ সেপ্টেম্বর সরেজমিনে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের দুই পাশে ঘুরে দেখা যায় এমন চিত্র। চাষাঢ়া মোড় থেকে মন্ডলপাড়া ব্রীজ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সড়কের দুই পাশে অবস্থিত অধিকাংশ মার্কেটের আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিং ব্যবস্থা নেই। তবে যেগুলোর আছে সেগুলো সব সময় তালাবদ্ধ থাকে। শুধুমাত্র মার্কেট মালিক, মার্কেটের উপরে যারা ফ্লাট কিনে থাকেন তাঁরা ছাড়া মার্কেটের ক্রেতারা পার্কিং ব্যবহার করতে পারছে না।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একটি মার্কেটের কেয়ারটেকারের সাথে কথা হলে তিনি নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘এইখানে শুধু যারা ফ্লাট কিনেছে তাদের গাড়ি পার্কিং করা হয়। বাকি জায়গা স্যার (মার্কেটের মালিক) পার্কিংয়ের জন্য ভাড়া দেয়। বাইরের কাউকে এখানে গাড়ি রাখতে দেওয়া হয় না। কাস্টমার (ক্রেতা) যখন মার্কেট করতে আসে তখন ফুটপাতের উপরেই মটর সাইকেল রাখে। আর গাড়ি হইলে রাস্তার উপর রাখে।’

তিনি আরো বলেন, রাস্তার উপরে গাড়ি রাখায় অনেক সময় পুলিশ উঠিয়ে নিয়ে যায়। অনেক সময় দেখছি মোটর সাইকেলের চাকার হাওয়া ছেড়ে দিছে, হেলমেট, লুকিং গ্লাস নিয়ে গেছে। ক্রেতারা আমার সাথে চেচামেচি করে কিন্তু আমার কি কিছু করার আছে বলেন।

মার্কেটের পার্কিংয়ের জায়গা ক্রেতাদের জন্য উন্মুক্ত না করে ফুটপাতে পার্কিং বন্ধ করা অযৌক্তিক দাবি করে মোটর সাইকেল চালক সিফাত খন্দকার নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ঈদের আগে অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলাম ডাক্তার দেখাতে। কিন্তু হাসপাতালের সামনে কোন পার্কিং এর জায়গা নেই। তাই বাধ্য হয়ে ফুটপাতের উপরেই পার্ক করতে হয়েছিল। কিন্তু ডাক্তার দেখিয়ে এসে দেখি মোটর সাইেেকলের লুকিং গ্লাস নেই। পার্কিং ব্যবস্থা না করে দেওয়া হয় তাহলে উচ্ছেদ করে লাভ কি। আমাদের উচ্ছেদ করবে আমাদের পরে যারা আসবে তারা এসে এখানেই পার্ক করবে।

বাইক চালক ইমন হোসেন বলেন, মার্ক টাওয়ারে কিন্তু নিজস্ব পাকিংয়ের জায়গা আছে। কিন্তু সেখানে বাইক রাখতে পারি না। কেনাকাটার প্রয়োজন হইল শহীদ মিনারে রেখে আসি নয়তো মার্কেটের সামনেই ফুটপাতের উপর রাখি। আমার মনে হয় কর্তৃপক্ষের উচিত যে সব মার্কেটে পার্কিং ব্যবস্থা থাকার পরেও পার্ক করতে দেয় না তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তাহলে আমার মনে হয় আর কেউ ফুটপাতে রাখবে না।

তবে এ প্রসঙ্গে কোনো কথা বলতে রাজি হননি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা এএফএম এহতেশামূল হক।

কথা বলার জন্য মুঠোফোনে যোগাযোগ করার পর এসব মার্কেট মালিকদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ প্রশ্নের উত্তর আমি দিতে পারব না। আমি এখন মিটিংয়ে আছি।’ এক কথা বলে তিনি ফোন কেটে দেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর