rabbhaban

ফুটপাতের পর ড্রেন দখলেও সুগন্ধা


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:১৫ পিএম, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার
ফুটপাতের পর ড্রেন দখলেও সুগন্ধা

আসবাবপত্র রেখে ফুটপাত দখলে অন্যতম প্রতিষ্ঠান নারায়ণগঞ্জের সুগন্ধা প্লাস। এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে এ প্রতিষ্ঠানের বেকারীও। তবে এবার ড্রেন ও রাস্তা দখল করার অভিযোগ উঠেছে সুগন্ধার বিরুদ্ধে। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের কোন পদক্ষেপ না থাকায় সাধারণ পথচারী সহ এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ। অবিলম্বে এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে জন্য দাবি এলাকাবাসী।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে সুগন্ধা নামে বেকারী, ফাস্টফুড শোরুম, কারখানা রয়েছে। যার মধ্যে চাষাঢ়ায় দুটি, বঙ্গবন্ধু সড়কের সাধু পৌলের গীর্জার পাশে খাবার হোটেল সুগন্ধা প্লাস, ২নং রেল গেট গোলচত্ত্বরে একটি, নারায়ণগঞ্জ কলেজের পাশে সহ গলাচিপা এলাকায় একটি কারখানাও রয়েছে। আর ওই কারখানার সামনে একটি শোরুমও খোলা হয়েছে নতুন করে।

কয়েকদিন ধরে সরেজমিনে দেখা যায়, কারখানার ওই শোরুমের জন্য আলাদা ভাবে বক্স করে শোকেজ রাখা হয়েছে ড্রেন দখল করে। তাছাড়া রিকশা ভ্যান সহ কারখানার আসবাবপত্রও রাখা হয় ড্রেন ও রাস্তার উপর। ফলে প্রতিনিয়ত যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। সকাল কি রাত একাধিক যানবাহন হলেই সৃষ্টি হয় যানজট। তবে এক্ষেত্রে কারখানা কর্তৃপক্ষকে কোন পদক্ষেপগ্রহণ করতেও দেখা যায় না। এতে যাত্রী ও পথচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

এদিকে যানজট হলেও সাধু পৌলের গীর্জার পাশে সুগন্ধা প্লাস খাবার দোকানের সামনে ফুটপাত দখল করে আসবাবপত্র রাখা হয়েছে। এমনকি ফুটপাতের উপর খাবারের পসরা সাজিয়ে রাখা হয়েছে। ফুটপাতে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের রাস্তার পাশে রান্না ঘর। এসব অভিযোগে একাধিকবার জরিমানাও করা হয়েছে। পাশাপাশি সর্তকও করা হয়েছে। কিন্তু এসব কোন কিছুই তোয়াক্কা করে না সুগন্ধা কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, সুগন্ধা নামে খাবার বিক্রির প্রতিষ্ঠানের মালিক প্রভাবশালী। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেও কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণে দেখা যায় না। এ প্রতিষ্ঠানে খাবারের মানের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও খাবারের দাম নিয়েও অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গলাচিপা এলাকার বাসিন্দা বলেন, গলাচিপা থেকে বালুর মাঠ হয়ে নতুন রাস্তাটি বের হয়েছে। যাতায়াত সুবিধার জন্য স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি কর্মজীবী মানুষের কাছে রাস্তাটি জনপ্রিয় হয়েছে। যার মূল কারণ খুব সহজে চাষাঢ়া যেমন যাওয়া যায় তেমনি খুব সহজে তোলারাম কলেজ কিংবা এর আশেপাশে এলাকায় যাওয়া যায়। ফলে প্রতিদিন এ রাস্তা দিয়ে কয়েক শতাধিক রিকশা, সিএনজি ও প্রাইভেটকার চলাচল করে।

কিন্তু গলাচিপা আসার আগেই ডান দিকে একটি সরু রাস্তা গিয়েছে তোলারাম কলেজের দিকে। আর এ তিন রাস্তার মোড়ে কারখানা করেছে সুগন্ধা। দীর্ঘদিন শুধু কারখানা থাকালেও এখনও নতুন করে একটি শোরুম করা হয়েছে। আর শোরুম করে সেখানে আসবাবপত্র রাখা হচ্ছে। এছাড়া কারখানার পণ্য ডেলিভারীর জন্য প্রতিনিয়ত রিকশা, ভ্যান, ছোট বড় পিকআপ ভ্যান পাকিং করা হয় রাস্তার উপর। যখনই যানবাহন পাকিং করা হয় তখনই সৃষ্টি হয় যানজট। কিন্তু সুগন্ধার মালিক প্রভাবশালী। তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস পায় না।

সাধু পৌলের গীর্জার সামনে এক বিক্রেতা বলেন, দোকানগুলোর আসবাবাপত্র রেখে ফুটপাত দখল করা হচ্ছে। নিজেদের ব্যবসার সুবিধার জন্য ফুটপাতের উপর ফুলের টব লাগানো হয়েছে। যাতে অবৈধ হকাররা ফুটপাত দখল করে না বসতে পারে। কিন্তু সিটি করপোরেশনকে বুঝানো হচ্ছে যে সৌন্দর্য বর্ধণ করা হচ্ছে।

সুগন্ধা প্লাস থেকে বের হওয়া এক ক্রেতা বলেন, সব জায়গায় বিরানি বিক্রি হয় ১৪০ থেকে ১৫০ কিন্তু সুগন্ধা বেকারীতে বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ২০টাকা বেশিতে। তাছাড়া প্রায় সব খাবারের দামই বেশি। কিন্তু খাবারে ভেজাল আছে কিনা সেটা নিশ্চিত করা যাচ্ছেনা। কিন্তু খাবার খাওয়ার পর হাতে রঙ লেগে থাকে। সহজে পরিষ্কার হয় না। এগুলো বিষয়ে মোবাইল কোর্টের অভিযান চালিয়ে পরীক্ষা করা উচিত।

এসব অভিযোগের বিষয়ে সুগন্ধা প্লাসের বিক্রেতা কিংবা মালিকপক্ষের কারো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। যারা প্রতিষ্ঠানে ছিলেন উপস্থিত তারা কেউ কথা বলতে রাজি না।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর