rabbhaban

চাঁদাবাজরা বেপরোয়া, বিক্ষোভে সান্তনা ইজিবাইক চালকদের


ফতুল্লা করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৩৮ পিএম, ০৯ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার
চাঁদাবাজরা বেপরোয়া, বিক্ষোভে সান্তনা ইজিবাইক চালকদের

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় ব্যবস্থা না নেয়ায় ইজিবাইক চাঁদাবাজরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। প্রায় সময় ইজিবাইক মালিক ও চালকরা অসহায়ের মতো সড়কে একটি ব্যানার নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাড়িয়ে থাকে। একই সঙ্গে বিক্ষোভ করে প্রশাসনের নানা দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করছে। কিন্তু এতেও চাঁদাবাজরা ক্ষ্যান্ত হচ্ছেনা। দিন যতই যাচ্ছে ততই অভিযোগের পাহাড় জমছে প্রশাসনের নানা দপ্তরে। আর নানা নামে সংগঠন করে চাঁদাবাজী করছে সরকারদলীয় প্রভাবশালী নেতাদের ছত্র ছায়ায় থাকা সন্ত্রাসীরা।

৯ অক্টোবর বুধবার দুপুর সহ গত কয়েক দিনে ফতুল্লায় একাধিক মানববন্ধনও বিক্ষোভ করেছে ইজিবাইক চালকরা। বিক্ষোভকারীদের দাবী চাঁদা ছাড়া সড়কে একটি ইজিবাইক চলতে পারেনা। সরকার ইজিবাইকের বৈধতা দিচ্ছেনা কিন্তু প্রকাশ্যেই তৈরী হচ্ছে এ ইজিবাইক। অল্প সময়ে এ ইজিবাইক দিয়ে যেমন যাত্রীদের চলাচলে সুবিধা তেমনি মালিক ও চালকদের আয় রোজগারও বেশি হয়। একটি ইজিবাইক দিয়ে যেকোন পরিবার খুব সাচ্ছন্দেই চলতে পারে।

সাইনবোর্ড ইজিবাইক শ্রমজীবী সমবায় সমিতির যানজট নিরসন কর্মী লিটন দেওয়ান জানান, ২ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ১১টায় গিরিধারা এলাকার জাহাঙ্গীর, জালকুড়ি উত্তরপাড়া এলাকার রাশেদ, ভূইগড় বাসস্ট্যান্ড এলাকার টেম্পু রাজ্জাক, পশ্চিম ভূইগড় এলাকার জাহাঙ্গীর হোসেন এবং ভূইগড় এলাকার আবুল হোসেনসহ অজ্ঞাত ৫/৬ জন এসে ইজিবাইকে চাঁদাদাবী করে। এসময় বিষয়টি জানতে পেরে আমি প্রতিবাদ করি। এতে ওই সন্ত্রাসীরা আমাকে বাশের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে পকেট থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল নিয়ে যায়। এবিষয়ে থানায় অভিযোগ করেছি।

ইজিবাইকের মালিক ও ইজিবাইক শ্রমজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি অহিদুল ইসলাম জানান, আফজাল হোসেন, জাহাঙ্গীর হোসেন, রাশেদ মিয়া, টেম্পু রাজ্জাক, মটু জাহাঙ্গীরসহ ১৫/২০ জন সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোকজন ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে আমাদের সাইনবোর্ড অফিসে এসে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে বলেন এখানে কোন মালিক চালক ঐক্যবদ্ধ হতে পারবেনা। আর যদি এখানে সমিতি করো তাহলে আমাদের কথা মতে প্রতি ইজিবাইক থেকে দৈনিক চাঁদা উঠিয়ে দিতে হবে। আর নয়তো সমিতি বন্ধ করো। এঘটনায় থানায় অভিযোগ করেছি। সন্ত্রাসীরা এতে উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগ করে হয়রানী করছে এবং ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।

অটো মালিক শ্রমিক শ্রমজীবী সমবায় সমিতির মাহমুদপুর শাখার নেতা শফিকুল ইসলাম জানান, রোববার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিক্ষোভ করে ১১ জন চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ সুপার, ফতুল্লা থানা ও র‌্যাব কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেছি।

ওই চাঁদাবাজরা হলো আজিজুল হক, মজিবর, সালু, কাওসার, মোশারফ, ইমরান, শরীফ, সাইদুল, সোহাগ, ফারুক ও সেন্টু। তারা প্রত্যেকে ফতুল্লার শ্রমিকলীগ নেতা কাউছার আহমেদ পলাশের অনুসারী। এসব সন্ত্রাসীরা ইজিবাইক চালকদের কাছ থেকে দৈনিক ও মাসে জোর করে চাঁদা আদায় করে থাকে। মাসের ২৫ তারিখের মধ্যে চাঁদা না দিলে আমাদের উপার্জনের একমাত্র বাহন ইজিবাইক বন্ধ করে দেয়। আবার কোন কোন সময় ইজিবাইক চালকদের ধরে তাদের আস্তানায় নিয়ে আটক করে মারধর করা হয়। মাসে প্রতিটি ইজিবাইক থেকে ৩শ টাকা চাঁদা আদায় করেন সন্ত্রাসীরা। এ চাঁদা দিতে দেরি হলে ২০ টাকা করে জরিমানা আদায় করে তারা। এছাড়া নতুন ইজিবাইক কিনলে সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকা দিয়ে টোকেন কিনতে হয়। আর নয়তো নতুন কোন ইজিবাইক সড়কে নামতে দেয়া হয়না। ৬ বছর ধরে এভাবেই উল্লেখিত সন্ত্রাসীরা চাঁদাবাজী করে আসছে। প্রশাসনে সুধু অভিযোগই করে আসছি কিন্তু কিছু হয়না।

এবিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন জানান, চাঁদাবাজদের গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর