rabbhaban

ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু করে সিটি করপোরেশন বৈধতা দেওয়ার পরেও ভাঙচুর


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ১০:০৪ পিএম, ০২ নভেম্বর ২০১৯, শনিবার
ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু করে সিটি করপোরেশন বৈধতা দেওয়ার পরেও ভাঙচুর

নারায়ণগঞ্জ শহরের হাজীগঞ্জে বিভিন্ন শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুরের প্রতিবাদ ও পুনর্বহালের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানসমূহের মালিকবৃন্দের উদ্যোগে ২ নভেম্বর শনিবার বেলা ৩টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এতে লিখিত বক্তব্যে মেসার্স খাজা বাবা টুইস্টিং মিলের মালিক ইমদাদুল হক বলেন, আমরা ১৬ জন ক্রেতা পাট কর্পোরেশনে বৈধ লীজ গ্রহিতা এবং পরবর্তীতে বৈধ ক্রেতা বহাল রয়েছি। বাংলাদেশ রেলওয়ের সাথে আমাদের সরাসরি কোন সম্পর্ক নাই এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাথে কোন বৈরিতা নাই। বরং নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন আমাদের ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু করে যেমন ব্যবসার অনুমতি দিয়েছে তেমনি পাট কর্পোরেশনে হোল্ডিং নম্বর ৩৭ এর পরিবর্তে ৬০ নতুন হোল্ডিং নম্বর ধার্য করে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় করে আমাদের মালিকানার স্বীকৃতি দিয়েছে। কিন্তু একই সংস্থা আমাদের অবৈধ প্রচার করে ভাংচুর ও উচ্ছেদ কার্যক্রম আমাদের বোধগম্য নয়।

তিনি আরও বলেন, হাজীগঞ্জ দূর্গের সি এস ও এস এ খতিয়ান ও দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ ও প্রতœতত্ত্ব বিভাগের সার্ভেয়ার কর্তৃক স্বাক্ষরিত নকশা সম্পূর্ণ আলাদা। যা বাংলাদেশ পাট কর্পোরেশন সি এস ও এস এ খতিয়ান ও দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ ও সদর ভূমি সহকারী অফিসের সার্ভেয়ার কর্তৃক স্বাক্ষরিত নকশা সম্পূর্ণ আলাদ। দূর্গ ও আমাদের সম্পত্তির সাথে কোন সম্পর্কও নাই কিংবা কোন সাংঘর্ষিকও নয়।

উচ্ছেদের বিষয়টি বোধগম্য নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি সম্পত্তির উপর হাইকোর্টের বিভিন্ন বিষয়ের এতগুলো মোকদ্দমা চলমান ও বিদ্যমান থাকা অবস্থায় কোন আইন ও ক্ষমতা বলে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করল তা আমাদের বোধগম্য নয়। শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্থানীয় বাজারজাতকরন, রপ্তানী, রপ্তানী সহযোগী, ডাইং, নীটিং, ওয়াশিং, প্রিন্টিং, বন্ডেড ওয়ার হাউজ, ব্যাংক লোন সহ জাতীয় অর্থনীতিতে সহায়ক শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো আজ ধ্বংসপ্রাপ্ত। এই বিশাল ক্ষয় ক্ষতির দায়ভার কার উপর বর্তাবে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশেনর মেয়রের প্রতি অনুরোধ করে ইমদাদুল হক বলেন, হাইর্কোর্টে এতগুলো মামলা বিদ্যমান থাকা অবস্থায় আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ রেখে নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ভাংচুর ও উচ্ছেদ কার্যক্রম স্থগিত রেখে আমাদের উপর আন্তরিক ও সহযোগী করবেন। এতে শহর উন্নয়নে সিটি কর্পোরেশনের আপনার নেতৃত্বও প্রশংসিত হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন এম আর নিটিং মিলস লিমিটেডের মালিক মশিউর রহমান, নিলিমা কটন প্রসেসিং লিমিটেডের মালিক নিজামুদ্দিন, আনোয়ার অ্যান্ড ব্রাদারর্স লিমিটেডের মালিক নরুল ইসলাম চৌধুরী, রূপালী ফাইবার গ্রাসের মালিক আব্দুর রহিম, বেস্ট এসোসিয়েশনের মালিক কাজী আব্দুর রউফ ও সোনালী ডাইংয়ের মালিক মাহতাব হোসেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে হাজীগঞ্জ কেল্লার আশেপাশে এলাকার স্থাপনা ভেঙে গুড়িয়ে দেয় সিটি করপোরেশনের কর্মীরা। ওই সময়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের কয়েকজন তোপের মুখে পড়েছিলেন। ওই অভিযানে প্রত্ততত্ত্ব অধিদপ্তর আগারগাঁও আঞ্চলিক কার্যালয়ে পরিচালক রাখি রায়, উপ-পরিচালক লাভলী ইয়াসমিন, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসান বিন মুহাম্মাদ আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ম্যাজিস্ট্রেট হাসান বিন মুহাম্মাদ আলী জানিয়েছিলেন, প্রত্ততত্ত্ব বিভাগ, জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশনসহ আরো বেশ কয়েকটি দপ্তরের সমন্বয়ে চালানো হয়েছে। আমাদের দায়িত্ব ছিলো শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে স্বাভাবিক থাকে সেটি দেখভাল করার।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর