rabbhaban

রেলওয়ের ভেঙে ফেলা দোকানে শেষ আশ্রয়ের চেষ্টা ব্যবসায়ীরা


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:০৮ পিএম, ০৫ নভেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার
রেলওয়ের ভেঙে ফেলা দোকানে শেষ আশ্রয়ের চেষ্টা ব্যবসায়ীরা

কমলাপুর থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত ডাবল রেল লাইন প্রকল্পের জন্য শহরের ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এত প্রায় কয়েক হাজার বাসস্থান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সহ স্থাপনা ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। এর পর থেকেই দিশেহার হয়ে পড়েন ব্যবসায়ীরা। অনেকেই উচ্ছেদ অভিযানের ফলে সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। কেউ কেউ আবার ঋণের দায়ে জায়গা জমি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। আর সেইসব ব্যবসায়ীরা কোন সুযোগ সুবিধা না পেয়ে ভেঙে ফেলা শেষ ব্যবসায়ীক আশ্রয় নিয়েছেন খোলা আকাশের নিচে।

৫ নভেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে শহরের উকিলপাড়া রেললাইন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে এ দৃশ্য। যেখানে ১০ থেকে ১৫ জন্য ব্যবসায়ী প্লাস্টিক বেঁধে চৌকি বিছিয়ে তাদের উৎপাদিত পণ্য নিয়ে বসে আছেন ক্রেতাদের আশায়। যার চার পাশের দেয়াল ভাঙা। কোথাও লোহার রড কিংবা ইট বের হয়ে আছে। আর চোখের সামনে ভেঙে ফেলা দোকান ঘরের ধ্বংসস্তূপ।

জানা গেছে, গত ১৭ অক্টোবর থেকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে। প্রথমে কেন্দ্রীয় রেলস্টেশন এলাকায়, পরে ২নং রেল গেট থেকে গলাচিপা পর্যন্তা উভয় পাশে ও সব শেষ চাষাঢ়া এলাকায় অবৈধ স্থাপনা ভেঙে গুড়িয়ে দেয়। ওই অভিযান থান কাপড় ব্যবসায়ীদের মার্কেট, উকিলপাড়া হোসিয়ারী মার্কেট, টঙ দোকান, হোটেল সহ ছোট বড় অনেক দোকান ঘর ভেঙে ফেলা হয়। ওই অভিযানের আগে দোকানের মালামাল সরিয়ে নিলেও লাখ লাখ টাকা অগ্রিম দিয়ে দোকান ভাড়া নেওয়ার টাকা তুলতে পারেনি কেউ।

এসব কারণে থানকাপড় ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যে কর্মসূচি গ্রহণ করে আন্দোলন করছে। প্রথমে বিক্ষোভ মিছিল, জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি, সংবাদ সম্মেলন সহ ৬ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনের ঘোষণা দিয়েছেন। ব্যবসায়ীদের দাবি, পূর্ণবাসন ছাড়াই তাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। তাই পুনর্বাসনের আগে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পূর্বের জায়গায় বসার সুযোগ করে দেওয়া হোক। এছাড়াও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক।

খোলা আকাশের নিচে দোকান নিয়ে বসা ব্যবসায়ী শরিফ উদ্দিন বলেন, ‘হোসিয়ারী ব্যবসা মূলত এক মৌসুমের পণ্য উৎপাদন করে অন্য মৌসুমে বিক্রি করা হয়। ফলে শীতের তৈরিকৃত পণ্য বিক্রি আগেই আমাদের দোকানঘর ভেঙে দেওয়ায় আমরা বিপাকে পড়েছি। লাখ লাখ টাকার পণ্য এখন আমরা কি করবো। কোথায় নিয়ে বিক্রি করবো। হঠাৎ করে কোন দোকানও পাওয়া যাচ্ছে না। এক সঙ্গে এতো দোকান ঘর ভেঙে ফেলা হয়েছে যে সবাই হন্যে হয়ে খুঁজছে। ফলে যে দোকানের জন্য আগে মালিকপক্ষ অগ্রিম ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা দাবি করতো। সেখানে এখন ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত চাইছে। একেতো দোকান ভেঙে পথে বসে গেছি তারপর এখন এতো টাকা অগ্রিম দিয়ে দোকান নেওয়া সম্ভব নয়। তাই শীতের মৌসুমের পণ্যগুলো বিক্রির জন্য এখানে বসতে হয়েছে। কারণ শীত চলে গেলে কিংবা শীত জেকে বসলে আর বিক্রি তেমন হবে না। শীত আসছে এমন সময়টাই মূলত পাইকারী বিক্রি ভালো হয়।

থান কাপড় ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি বদিউরজ্জামান বদু বলেন, এখানে প্রায় ৪ শতাধিক দোকান ছিল। এসব দোকানগুলো ব্যবসায়ীরা সর্বনিম্ন ১ লাখ সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত অগ্রিম দিয়ে মাসিক হিসেবে ভাড়া নেয়। তাছাড়া প্রতিটি দোকানে বকেয়া লেনদেন আছে। কারো আবার গার্মেন্টসগুলোতে কয়েক লাখ টাকা বিনিয়োগ করা আছে। লাখ লাখ টাকা পাওনা আছে। এ মুহূর্তে দোকানগুলো ভেঙে ফেলায় ব্যবসায়ীরা সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, প্রায় ৩০ বছর ধরে রেললাইনের পাশে এ থানকাপড়ের মার্কেট। এখানে এক সময় ময়লা নোংরা পানির ডোবা ছিল। রেলওয়ে থেকে লিজ নিয়ে ব্যবসায়ীরা নিজ উদ্যোগে সেসব ডোবা ভরাট করে। পরে ধীরে ধীরে মার্কেট হিসেবে গড়ে উঠে। ঢাকা সহ সারা বাংলাদেশের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের থানকাপড় মার্কেটই সব চেয়ে বেশি পরিচিত। ফলে চট্টগ্রাম, গাজীপুর সহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে যেমন কাপড় আসতো তেমনি এখান থেকে বিক্রিও হতো। এজন্য ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকার লেনদেন হতো। কিন্তু হঠাৎ করে এভাবে উচ্ছেদ অভিযানে সব ব্যবসায়ীরা এখন দিশেহারা। কোথায় যাবে কি করবে কেউ কিছু বুঝতে উঠতে পারছে না। আর চাইলেও নতুন করে একটি মার্কেট গড়ে তোলা কিংবা পরিচিত করে ফেলা সম্ভব নয়। আর তাই যেসব টাকা মার্কেটে বকেয়া কিংবা বিনিয়োগ করা আছে সেসব টাকাও তোলা সম্ভব হবে না।

বদু বলেন, ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ করা এ কোটি কোটি টাকা প্রায় সকলের ব্যাংক, সমিতি কিংবা জয়গা জমি বন্ধক দিয়ে নেওয়া। ফলে এখন এ টাকা পরিশোধ করতে পারছে না। অনেকেই তাদের জায়গা জমি ও সম্পত্তি বিক্রির পক্রিয়া চলছে। এজন্য সবাই আন্দোলনে নেমেছে। আমরা চাই আমাদের ব্যবসার আশ্রয় দেওয়া হোক।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর