টানবাজারে ১ কোটি টাকার অবৈধ সুতা আটক


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ০৫:৩৮ পিএম, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, রবিবার
টানবাজারে ১ কোটি টাকার অবৈধ সুতা আটক

বন্ডের অপব্যবহার করে শুল্কমুক্ত কোটায় আমদানি করা সুতা খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ শহরের টানবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়েছে ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট।

৮ ডিসেম্বর রোববার বিকেলে ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের কমিশনার এস এম হুমায়ুন কমিশনারের নির্দেশনায় ডেপুটি কমিশনার রেজভী আহমেদের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এসময় টানবাজারের বিল্লাল হোসেনের মালিকানাধীন বিসমি ইয়ার্ণ ট্রেডিংয়ের গোডাউন থেকে ১০ টন সুতা আটক করা হয়। যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের সহকারী কমিশনার আল আমিন, সহকারী কমিশনার আক্তার হোসেন, সহকারী কমিশনার শরীফ মোঃ ফয়সাল সহ কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের অন্যান্য কর্মকর্তারা।

অভিযান প্রসঙ্গে ডেপুটি কমিশনার রেজভী আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের কাছে অভিযোগ ছিল বন্ডের সুতা অবৈধভাবে খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে। এই বন্ডের সুতা খোলা বাজারে চলে যাওয়ার ফলে দেশীয় শিল্প যথেষ্ট হুমকির মুখে পড়েছে। দেশীয় শিল্প রক্ষার্থে দেশের রাজস্ব রক্ষার্থে আমরা বেশ কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করেছি। তারই অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জের টানবাজারে অভিযান পরিচালনা করতে এসেছি। অভিযান পরিচালনা করতে এসে আমরা বেশ কয়েকটি নামবিহীন গোডাউন থেকে আপাতত ১০ টন সুতা উদ্ধার করেছি। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ১ কোটি টাকা।

তিনি আরও বলেন, বন্ডের সুবিধা সরকার এইজন্য দেয় যে, শিল্পের কাঁচামাল শুল্কমুক্ত হবে, ডিউটি ট্যাক্স ফ্রি হবে, ইমপোর্ট করে নিয়ে আসা হয়। এরপর এটা প্রসেসিং করে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উৎপাদন করে রপ্তানি করা হবে। কিন্তু এই কাঁচামাল যখন রপ্তানি না করে খোলা বাজারে বিক্রি করা হয় তখনই আমরা সেটাকে বন্ডের অপব্যবহার হিসেবে দেখে থাকি। এটা একধরণের চোরাচালান। এই মুহূর্তে কাউকে আটক করা হয়নি। আমরা এখান থেকে পণ্য আটক করে নিয়ে যাচ্ছি। পরবর্তীতে তদন্ত সাপেক্ষে কাস্টমস অ্যাক্ট অনুযায়ী ফৌজদারী আইন অনুযায়ী যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে টানবাজার কমিটির আহবায়ক মোঃ মজিবুর রহমান জানান, বাংলাদেশে গার্মেন্ট ব্যবসার শুরু থেকেই এক্সপোর্টের যত সুতা এসেছে, এই সুতা গার্মেন্টস মালিকরা ১০ পার্সেন্ট কিংবা ২০ পার্সেন্ট খোলা বাজারে বিক্রি করতো। তাদের নগদ টাকার প্রয়োজন মিটানোর জন্য এই সুতা বিক্রি করে কভার দিতো। এটা দেশীয় শিল্পের জন্য ক্ষতি না। এটা শুধুমাত্র হাত বদল হয়েছে। এই সুতা স্থানীয় হোসিয়ারিতে বিক্রি করা হয়, যা দিয়ে আমাদের বিভিন্ন পরিধেয় বস্ত্র তৈরি করা হয়। বিক্রি করে কেউ কেউ এক্সপোর্ট করে। এটা কোন চুরির পণ্য না। অবৈধ পন্য এই জন্য সরকারের নিষেধ বিক্রি করো না, এইজন্য অবৈধ। কিন্তু আমাদের কথা হলো, মিল এই সুতা বিক্রি করলো কেন, তার এক্সপোর্টের পণ্য বিক্রি করলো কেন। এখানে পণ্য তো চুরি আনা হয় নাই। উনি ক্রয় করে সুতা এনেছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর