করোনা ঝুঁকিতে গার্মেন্টকর্মীরা, অর্থনীতি ধসের শঙ্কা


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ১০:০৩ পিএম, ২৪ মার্চ ২০২০, মঙ্গলবার
করোনা ঝুঁকিতে গার্মেন্টকর্মীরা, অর্থনীতি ধসের শঙ্কা

প্রাণঘাতী করোনা আতঙ্কে বাড়ছে গার্মেন্টকর্মীদের ঝুঁকি। অতিমাত্রায় ছোঁয়াচে হওয়ার ফলে গার্মেন্ট সেন্টরে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা সবচেয়ে বেশি। এই রোগে একবার আক্রান্ত হয়ে মুহূর্তের মধ্যে তা চারদিকে ছড়িয়ে পড়বে যা চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলছেন। এতে করে গার্মেন্ট সেন্টর সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জে প্রায় উপার্জনের সিংহভাগ আসে গার্মেন্ট সেক্টর থেকে। এ জেলার জনসংখ্যার সিংহভাগ এ পেশার সাথে জড়িত রয়েছে; যেকারণে গার্মেন্ট সেক্টর বন্ধ করে দেয়া হলে অনেকে বেকার হয়ে পড়বে। আর তাতে করে অর্থনীতিক ধস সহ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হবে।

নারায়ণগঞ্জে নতুন করে আরো একজন আক্রান্ত হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জের প্রায় ৫ হাজারের অধিক প্রবাসীকে নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। করোনার বিস্তাররোধে এরই মধ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে সভা-সমাবেশ ও গণজমায়েতের ওপর। গার্মেন্ট সেক্টরে সবচেয়ে বেশি জনসমাগত হয়ে থাকে যা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।

গত দুই দিনেই নারায়ণগঞ্জে বাতিল ও স্থগিত হয়েছে শতাধিক রফতানিমুখী কারখানার কার্যাদেশ যার পরিমাণ কয়েকশ’ কোটি টাকা। পেমেন্ট আটকে যাওয়ায় আগামী কয়েক মাস শ্রমিকদের বেতন নিয়ে শঙ্কিত কারখানার মালিকরা। ইতোমধ্যে নিট গার্মেন্ট মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ’র সভাপতি সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান আশঙ্কা করেছেন নিট খাতে কোটি শ্রমিকের বেকার হয়ে পড়ার।

জানা গেছে, নিয়ন্ত্রণহীন করোনা ভাইরাসের কারণে টালমাটাল জনস্বাস্থ্য ও বিশ্ব অর্থনীতি। বিপর্যস্ত বাংলাদেশের পোশাক খাতও। নিট পোশাক শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিকেএমইএ বলছে, ঘণ্টায় ঘণ্টায় বদলাচ্ছে ক্রেতাদের সিদ্ধান্ত। বুধবার কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে শতাধিক নিট কারখানার কার্যাদেশ বাতিল ও স্থগিত করেছে ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো।

এদিকে গত ২১ মার্চ এক সভায় নীট গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বিকেএমইএ এর সভাপতি একেএম সেলিম ওসমান শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রীর কাছে এখনই কারখানা বন্ধ না করার প্রস্তাব রাখেন। তিনি বলেন, শ্রমিকরা আমাদের উপর আস্থা রেখে কাজ করতে চায়। এটা ঠিক যে ক্রয়াদেশ বাতিল হয়ে যাচ্ছে, কাঁচামালের সহজলভ্যতা কমে যাচ্ছে যদিও সেটা বর্তমানে অনেকটা সামলে নিয়েছি আমরা। তবে শ্রমিকদের উপর আস্থা রাখতে হবে। কারখানা বন্ধ করলে শ্রমিক বেকার হবে, তাতে অস্থিরতা বাড়বে। তাদের সুস্থতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে প্রতিটি কারখানায় চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তুতি নিতে হবে। শ্রমিকদের মনোবল বাড়াতে কাজ করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, সামনে রোজা এবং ঈদ আসছে। সে কারণে আপাতত বেতন বোনাসের প্রস্তুতি নেওয়া আবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ভাইরাসের কোন টিকা এখনো আবিষ্কার হয়নি। তাছাড়া কেউ আক্রান্ত হয়ে সাথে সাথে তা শনাক্ত হয়না। আর সে সময় আশেপাশের আরো অনেকে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। তাছাড়া গার্মেন্টে লোকসমাগমে পরিপূর্ণ থাকার ফলে তা অতি মাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ। তাছাড়া চিকিৎসা কেন্দ্র থাকলে এই ভাইরাসে আক্রান্তদের তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত কিংবা চিকিৎসা সেবা দিতে পারবেনা। উল্টো এই রোগটি মহামারি আকার ধারণ করতে পারে।

আরো বলছেন, সময় থাকতে এখনো যদি সতর্ক না হই তবে এর জন্য বড় ধরণের মাশুল গুণতে হতে পারে। কারণ ইতালির মত দেশ লকডাউন না করে আজকে এর মাশুন গুণছে। স্পেন ও ইরানের মত দেশও এর তা-ব থেকে রেহাই পায়নি। আর আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশে এখনো যদি যথাযথ কার্যক্রম গ্রহণ না করা হয় তবে ভয়াবহ পরিস্থিতি আগামীতে অপেক্ষা করতে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

অন্যদিকে গার্মেন্টকর্মীরা বলছেন, গার্মেন্টে না গেলে খাব কি। কাজ না করলে এমনিতেই মরে যেতে হবে। কারণ কাজ করে আমাদের সংসার চালাতে হয়। তার উপরে যদি গার্মেন্ট বন্ধ রাখা হয় তবে মরণ ছাড়া কোন উপায় নেই।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গার্মেন্ট সেক্টর করোনাভাইরাস সংক্রামনে যেমন অতিমাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ ঠিক তেমনটি এই সেক্টরটি বন্ধ হলে অনেকে বেকার হয়ে যাবে। অনেকের ঘরের চুলা জ্বলবেনা। তাছাড়া অর্থনীতিতেও চরম ধস নেমে আসবে। তাই উভয় দিক বিবেচনা করে এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। শ্রমিকদের দিক বিবেচনা করতে হবে আবার প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রামনের কথাও চিন্তা করতে হবে। উভয় দিক বিবেচনা করে বড় বড় ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসতে হবে যাতে করে শ্রমিকরা অনাহারে না থাকে আবার এই ভাইরাসটিও না ছড়ায়।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর