করোনা ঝুঁকিতেই কাজ করছে লক্ষাধিক শ্রমিক (ভিডিও)


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১১:১৫ পিএম, ২৪ মার্চ ২০২০, মঙ্গলবার
করোনা ঝুঁকিতেই কাজ করছে লক্ষাধিক শ্রমিক (ভিডিও)

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে নারায়ণগঞ্জ সহ দেশের সকল সরকারি বেসরকারি অফিসে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। তবে এখনো গার্মেন্ট কারখানা বন্ধের বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। যে কারণে নারায়ণগঞ্জের অন্যতম শিল্পাঞ্চল বিসিক শিল্প নগরীর কয়েক শ’ গার্মেন্টে করোনা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে লক্ষাধিক শ্রমিক।

২৪ মার্চ মঙ্গলবার সকাল ৮টায় সরেজমিনে বিসিক শিল্প নগরীর ২নং গেইটে দেখা যায় ভয়াবহ দৃশ্য। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো থেকে বলা হচ্ছে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে। অর্থাৎ চলাচলের সময় দুইজনের মাঝে ন্যূনতম ৩ ফুটের দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা। সেখানে বিসিকের গার্মেন্টগুলোর লক্ষাধিক শ্রমিক একজনের পায়ের উপর আরেক জন পা ফেলে চলছে। অবস্থা এমন যেন বিসিকের ২নং গলিটিতে জনস্রোত নদীর মতই যেন বয়ে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনাভাইরাস অতিসংক্রমিত একটি ভাইরাস। একই সাথে ভাইরাসটি ছড়ানোর অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে মানুষের সংস্পর্শে আসা। ভাইরাসটি বাতাসে ৩০মিনিটের বেশি ভাসতে না পারায় এটি বাতাসে খুব বেশি ছড়ায় না। এছাড়া ভাইরাসটি মানব দেহ ছাড়া অন্যান্য বস্তুর উপর সর্বোচ্চ দুই দিন টিকে থাকতে পারে। তবে একবার মানবদেহ পেলে তা ছড়িয়ে পড়তে বেশি সময় লাগে না। যে কারণে করোনাভাইরাস ছড়ানো ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাচল করতে বলছে বিশেষজ্ঞরা।

এমতাবস্থায় মরণঘাতি করোনাভাইরাস নারায়ণগঞ্জের বিসিকের জনস্রোতের মাধ্যমে ব্যবক আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশংকা করছেন অনেকে।
বিসিকের এক নারী শ্রমিক মাহমুদা আক্তার নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘গার্মেন্টে কাজ করি আমরাও তো নিরাপত্তা চাই। মালিক বলছে ছুটি দিবে। কিন্তু কবে দিবে কতদিন দিবে এইটা বলে নাই। বেতন দিয়ে যদি ছুটি দিয়ে দিত আমরাও তো নিরাপদ থাকতাম ভালো থাকতাম সুস্থ থাকতাম।’

শ্রমিক মো. রোমান নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘আমরা ঝুঁকি নিয়েই গার্মেন্টে ডিউটি করতেছি। সরকার সব কিছু বন্ধ দিয়েছে কিন্তু কলকারখানা এখনো বন্ধ দেয় নাই। দেশে যে আতঙ্ক আমাদের মাঝেও ভয়াবহ ভাবে কাজ করছে। যদি বন্ধ দেয় বেতন দিবে কি না জানি না। মানুষের তো কত সমস্যাই থাকতে পারে। রাস্তাঘাট বাজার সবকিছুইতো বন্ধ। গরিব মানুষ গ্রাম থেকে শহরে আসছি কাজের জন্য। এখন খাবো কি সেটাও জানি না।’

গত ২১ মার্চ বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসে উদ্ভূত সমস্যা মোকাবেলায় শিল্প কারখানায় শ্রম পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোচনার লক্ষ্যে শ্রম ভবনে এক আলোচনা সভায় নীট গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বিকেএমইএ এর সভাপতি একেএম সেলিম ওসমান শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রীর কাছে এখনই কারখানা বন্ধ না করার প্রস্তাব রাখেন।

তিনি বলেছিলেন, শ্রমিকেরা আমাদের উপর আস্থা রেখে কাজ করতে চায়। এটা ঠিক যে ক্রয়াদেশ বাতিল হয়ে যাচ্ছে, কাঁচামালের সহজলভ্যতা কমে যাচ্ছে যদিও সেটা বর্তমানে অনেকটা সামলে নিয়েছি আমরা। তবে শ্রমিকদের উপর আস্থা রাখতে হবে। কারখানা বন্ধ করলে শ্রমিক বেকার হবে, তাতে অস্থিরতা বাড়বে। তাদের সুস্থতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে প্রতিটি কারখানায় চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তুতি নিতে হবে। শ্রমিকদের মনোবল বাড়াতে কাজ করতে হবে।

এ জন্য তিনি সচেতনতামূূলক ডকুমেন্টরি নির্মাণ করতে শ্রম ও কর্মস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহŸান জানান। সমস্যা আরো প্রকট হলে প্রয়োজনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠকে বসার আহবান জানান তিনি। সর্বোপরি আতঙ্কিত না হয়ে সরকারের উপর আস্থা রাখার আহবান জানান তিনি।

একই আলোচনা সভায় বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় এখনো আরএমজি সেক্টরের কারখানা বন্ধ করার মতো পরিস্থিতি এখনো সৃষ্টি হয়নি সৃষ্টি হয়নি বলে মন্তব্য করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান।

এদিকে সচেতন মহলের দাবি, গার্মেন্টস সহ সকল কারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান এখনই বন্ধের উপযুক্ত সময়। কারণ ইতোমধ্যে দেশে করোনা ভাইরাস ছড়াতে শুরু করেছে। কোনভাবে একজন শ্রমিক করোনায় আক্রান্ত হয় একদিনেই কয়েক হাজার শ্রমিক আক্রান্ত হয়ে যাবে। তাই শ্রমিকদের বেতন ভাতা পরিষোধ করে গার্মেন্ট সহ শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর