গার্মেন্ট বন্ধ করতে সভাপতির অনুরোধ, খোলা ছিল সহ সভাপতির কারখানা


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১২:০৭ এএম, ২৭ মার্চ ২০২০, শুক্রবার
গার্মেন্ট বন্ধ করতে সভাপতির অনুরোধ, খোলা ছিল সহ সভাপতির কারখানা

করোনা ভাইরাসের সংক্রামন রোধে জনসমাগম এড়াতে সরকার যেখানে সাধারণ মানুষকে ঘরে থাকার আহবান জানিয়েছেন। আরএমজি সেক্টরের বৃহৎ দুটি সংগঠন বিকেএমইএ ও বিজিএমইএ তাদের সকল সদস্য প্রতিষ্ঠান গুলোকে আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ রাখার আহবান জানিয়েছেন। সেখানে ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসের বিশেষ ছুটির দিনে নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটি বিসিক শিল্প নগরীতে বেশ কয়েকটি নীট কারখানা চালু রাখার খবর পাওয়া গেছে। যার মধ্যে এমবি নীট ফ্যাশন, ফোর ডিজাইন প্রাইভেট লিমিটেড, এম.এস ডাইং প্রায় ১০ নীট গার্মেন্টস চালু থাকার খবর পাওয়া গেছে।

এর মধ্যে এম.বি নীট ফ্যাশন এর মালিকানায় রয়েছে নীট গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বিকেএমইএ এর প্রথম সহ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, এবং ফোর ডিজাইনের মালিকানায় রয়েছে মোহাম্মদ হাতেমের ভাতিজা মামুনুর রশিদ।

গত ২৫ মার্চ বিকেএমইএ এর পক্ষ থেকে সংগঠনটির সভাপতি সেলিম ওসমান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে সংগঠনটির সকল সদস্য প্রতিষ্ঠানকে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপিল পর্যন্ত তাদের প্রতিষ্ঠান গুলো বন্ধ রাখতে অনুরোধ করেন।

বিকেএমইএর পর একই পথে হাঁটেন আরএমজি সেক্টরের আরেক বৃহৎ সংগঠন বিজিএমইএ। সংগঠনটির সভাপতি ড. রুবানা হক তাদের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত কারখানা বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন।

এদিকে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে ২৬ মার্চ রাষ্ট্রীয় ছুটি পালন করা হয়। দেশের চিকিৎসকরা যখন মহামারি করোনা মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছে। করোনা ভাইরাস সংক্রামন প্রতিরোধে সরকার দেশবাসীকে জনসমাগম থেকে বিরত থেকে ঘরে থাকার জানিয়েছেন।

ঠিক সেই মুহূর্তে বিসিক শিল্প এলাকায় প্রতিষ্ঠান চালু রাখায় শিল্প মালিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। বিকেএমইএ এর প্রথম সহ সভাপতি পদে দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ হাতেম এর কারাখানা চালু রাখায় অন্য শিল্প মালিকদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন অন্যান্য উদ্যোক্তরা।

এ ব্যাপারে বিকেএমইএ`র সহ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, আমাদের হাতে যতগুলো অর্ডার ছিল তার ৬০ থেকে ৭০ ভাগই বাতিল করেছেন বায়াররা। এখন বাকি যেই ৩০ শতাংশ অর্ডার রয়েছে সেগুলো তো পূরণ করতে হবে। আর আমাদের যেই অনুরোধ ছিল সেটিতে বলা ছিল যদি কারো অর্ডার প্রক্রিয়াধীন থাকে তাহলে যেন সে তার কর্মীদের যথাযথ স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে কাজ সম্পন্ন করে। আমরা আমাদের কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। তাদের প্রবেশের সময় হাত ধোয়ানো হচ্ছে এবং থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে তাদের তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে। তারপর তাদের লাঞ্চের আগে হাত ধোয়ানো ও লাঞ্চের পরে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কারো যদি শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায় বা অসুস্থ হয়ে তাহলে আমরা তাৎক্ষনিক চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থাও করছি।

তিনি বলেন, আমাদের এ সেক্টরে শ্রমিকরা বাৎসরিক ১১ দিন উৎসব ছুটি পেয়ে থাকেন। প্রতিষ্ঠানের এবারের উৎসব ছুটির তালিকায় ছিলনা এই দিনটি। আমার শ্রমিকরা নিজেরাই আনন্দের সাথে কাজ করেছেন এবং তাদের আজকের এবং কালকের ছুটির দিনটি ঈদের ছুটির সাথে আমরা যুক্ত করে দেব। যদি আমরা আমাদের বায়ারদের অর্ডারমত পন্য শিপমেন্ট করতে না পারি তাহলে আমরা হুমকির মুখে পড়ে যাব যেহেতু ৬০ থেকে ৭০ ভাগ অর্ডারই বাতিল হয়েছে। তাই এ সেক্টরকে বাঁচাতে ও শ্রমিকদের স্বার্থেই আমাদের অর্ডারগুলো সম্পন্ন করছি। বাকি যে প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা রয়েছে তাদের ক্ষেত্রেই একই যুক্তি রয়েছে। এই শিপমেন্টের পর ফ্যাক্টরীতে আর কাজ নেই তাই এমনিতেই আমাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর