স্বাস্থ্যবিধি মেনে কোরবানীর পশুর হাটের বিকল্প এসএস ক্যাটল ফার্ম


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:৫২ পিএম, ২৫ জুলাই ২০২০, শনিবার
স্বাস্থ্যবিধি মেনে কোরবানীর পশুর হাটের বিকল্প এসএস ক্যাটল ফার্ম

করোনাকালীন এই মহামারীর সময়ে অনেকেই কুরবানীর পশুর হাট ক্রয় করা নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন। বিশেষ করে কুরবানীর পশুর হাটগুলোতে সব ধরনের মানুষের অবাধ আনাগোনার কারণে করোনায় আক্রান্তের আশঙ্কা রয়েছে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কুরবানীর পশুর হাটের বিকল্প হয়ে দাড়িয়েছে নারায়ণগঞ্জের অনেকগুলো গরুর খামার। যার মধ্যে একটি অন্যতম নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার দাসেরগাও এলাকায় অবস্থিত এসএস ক্যাটল ফার্ম। যেখানে সম্পূর্ণ অর্গানিক পদ্ধতিতে গবাদিপশুকে খাবার খাওয়ানো হয়। গরু খাসি ও ভেড়াগুলোকে পালন করা হচ্ছে অত্যন্ত যতেœর সঙ্গে। যে কারণে ঈদের আরো ৬ দিন বাকী থাকতেও অর্ধশতাধিক গরু বিক্রি করে ফেলেছে ফার্মটি।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার দাসেরগাও এলাকায় অবস্থিত এসএস ক্যাটেল ফার্মটি ৭ একর জমির উপর অবস্থিত। ফার্মটির মালিক মো: লুৎফর রহমান জানান, প্রথমে স্বল্প পরিসরে শুরু করলেও বর্তমানে তারা কুরবানীর পশুর সঙ্কটের বিষয়টি মাথায় রেখেই গরু, খাসি ও ভেড়া পালন করছেন। গরুর জন্য নির্মাণ করা হয়েছে একাধিক সেড।

সারিবদ্ধভাবে গরুগুলোকে রাখা ও খাবার সরবরাহের জন্য আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। প্রথমে ছোট পরিসরে শুরু করলেও ধীরে ধীরে বেড়েছে ফার্মের কলেবর। বর্তমানে তাদের ফার্মে বিক্রির জন্য রয়েছে ২০০ টির ন্যায় বিভিন্ন আকারের দেশী বিদেশী গরু এবং অর্ধশতাধিক খাসি, ছাগল ও ভেড়া। যার মধ্যে শুক্রবার পর্যন্ত অর্ধশত গরু ইতিমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এসএস ক্যাটেল ফার্মটিতে রয়েছে বড় মাঝারি ও ছোট সাইজের অসংখ্য গরু। এখানে বিদেশী উন্নত জাতের অসংখ্য গরুও আছে। রয়েছে অর্ধশতাধিক খাসি, ছাগল ও ভেড়া। এই খামারে আগত ক্রেতাদের নেই কোন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি। কারণ খামারে প্রবেশের সময়েই যানবাহন ও ক্রেতাদেরকে জীবানুনাশকের মাধ্যমে জীবানুমুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিটি সাড়িতে আসা যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত ফাঁকা জায়গা রয়েছে। ফার্মটির ভেতরে প্রবেশ পথের দুই পাশে প্রচুর ফলজ গাছ লাগিয়ে ফলের বাগানে পরিণত করা হয়েছে। বেশ কিছু ফুলের গাছও ফার্মটিকে করে তুলেছে দৃষ্টিনন্দন।

মালিকপক্ষের একজন সুমন জানান, কুরবানীর পশুর ক্রাইসিস ছাড়াও গোমাংসের চাহিদা মেটানোর কথা চিন্তা করেই তারা পারিবারিকভাবেই তারা গরুর ফার্মটি গড়ে তুলেছেন। প্রতি বছরই ৫-৬ মাস পূর্ব থেকেই কুরবানীর জন্য পশু লালনপালন শুরু করেন। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে এখানে বিভিন্ন দেশী বিদেশী জাতের গরু পালন শুরু করেন। তিনি আরো বলেন, পবিত্র কুরবানীর ঈদকে কেন্দ্র করে অনেক খামারেই গবাদিপশু বিশেষ করে গরুতে বিভিন্ন রকম গ্রোথ হরমোন, স্টেরয়েড এবং অন্যান্য ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার করে মোটাতাজাকরণ করে থাকেন। কিন্তু তাদের খামারে (এসএস ক্যাটেল ফার্ম) গরু, খাসি ও ভেড়া পালনের ক্ষেত্রে কোন ধরনের ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়না। এখানে গবাদিপশুকে খাবার খাওয়ানো হয় সম্পূর্ণ অর্গানিক খাবার। ভুট্টা, সয়াবিনের গাছসহ বিভিন্ন ধরনের গাছের সঙ্গে খৈল, ভুসি, মিঠাইয়ের গাদ ইত্যাদি মেশানো হয়। সঙ্গে মিশ্রিত করা হয় থাইল্যান্ড থেকে আমদানী করা এক ধরনের বাশের পাতা। প্রতিদিন ২ টনের মতো ঘাস প্রয়োজন হয়। সকাল ও বিকেল ২ বেলা খাবার তৈরী করে সরবরাহ করা হয়। তাদের এই খামারে বর্তমানে ৩৫ জনের মতো কর্মরত রয়েছে।

গরুর দামের বিষয়ে সুমন জানান, একেকটি গরুর দাম একেক রকম। অনেক ক্রেতা আছে ওজন মেপে নিতে চান। অনেক ক্রেতা আছে দাম দর করে নিতে চান। আমাদের এখানে দুই ধরনের সিস্টেমই রয়েছে। যারা কিনবেন তারা চাইলে ঈদের আগের দিন নিতে পারবেন। এজন্য ক্রেতাকে কিছু পেমেন্ট করে যেতে হবে। বাকী টাকা নেওয়ার সময়ে পেমেন্ট করতে হবে। তবে এজন্য তাকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত গবাদি পশুর খাবারের কোন খরচ দিতে হবেনা। এ বছর ভাল সাড়াও পাচ্ছেন। শুক্রবার পর্যন্ত তারা অর্ধশতাধিক গরু বিক্রি করেছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর